কাদামাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাগেরহাট সংবাদদাতা : প্রকৌশল বিভাগের তেমন নজরদারি না থাকায় শরনখোয় খোন্তাকাটা নলবুনিয়া সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, প্রকল্পের মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়াসহ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সড়কটিতে যেনতেনভাবে কাজ করে দায় সাড়ার চেষ্টা করছেন। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি এবং নাম সর্বস্ব লোকাল ভাটার নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সড়কের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। তবে, নিম্নমানের কাজের ফলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে সংকিত স্থানীয়রা। এতে এলাকার সচেতন মহলে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, (এইচ.ড়ি.জি) প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ২৫ জুন প্রকৌশল বিভাগের এক কার্যাদেশে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব খোন্তাকাটা নলবুনিয়া সড়কের দুই হাজার ছয়শত ৭৪ মিটার নির্মাণ কাজের দ্বায়িত্ব পান পিরোজপুর জেলার মেসার্স চাঁন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ষোল লাখ ৮৪ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ জুন শেষ কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনও উক্ত কাজ চলমান রেখেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েক জন অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কটি দিয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন বহু কষ্ট করে যাতায়াত করেছেন। অনেক প্রতিক্ষার পর পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগশাজসে এবং দ্বায় সারা তদারকির কারণে ঠিকাদার তার মনের মতো নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। এছাড়া স্থানীয় খাল, বিল ও ডোবা থেকে কাঁদা মিশ্রিত বালু এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহার করলেও কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে তা অনেক ভালো কাজ। তাই প্রকল্পটির কাজ সঠিকভাবে করার জন্য প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এক সূত্র জানায়, রাস্থাটিতে কর্তৃপক্ষ ২৩ লাখ টাকার পুরাতন ইট প্রকল্পের সঙ্গে যোগ করে দেন। কিন্তু বাস্তবে তা না পাওয়ায় ঠিকাদার ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অনিয়ম করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. চাঁন মিয়া সাহেবের মুঠোফোনে বহুবার কল করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে, উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রকল্পের সব কাজ নিয়ম মতো করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পটিতে লোকাল বালু ধরা আছে, তাই খালের বালু দেয়া কোনো সমস্যা নয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..