ঘরে-বাইরে বিপাকে ট্রাম্প

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অভিসংশন তদন্তে বিপদের সম্মুখীন তার শীর্ষ কর্মকর্তারাও। অভিযোগ ওঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিরোধীদের মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে সহযোগিতা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী-প্রত্যাশী সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, গত ২৫ জুলাই এক ফোনকলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বাইডেনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি তদন্ত করতে চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত চালু করেছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। ১ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পকে সহযোগিতা করেছেন পম্পেও। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অভিযোগ ওঠে, বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিটেন সহ অন্যান্য দেশের এসব কর্মকর্তাদের কাছে নানাবিধ অনুরোধ করেছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে পম্পেওকে ট্রাম্পের ইউক্রেন ফোনকল সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত পরিচালনাকারী প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি কমিটি। এছাড়া, শিগগিরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিটিগুলো। আর যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিকই মনে করেন নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দেওয়ার যেই অভিযোগ উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, তা গুরুতর। এবিসি ও ইপসোসের করা এক জরিপের এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতাই মনে করেন, এই অভিযোগ ‘অত্যন্ত গুরুতর।’ ২১ শতাংশ মনে করেন ‘কিছুটা গুরুতর।’ মাত্র ১৭ শতাংশ বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। এদিকে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টিতেও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না তার। একাধিক রিপাবলিকান এই তদন্তের সমর্থন দিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যরাই তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসমেন মার্ক আমোদেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা চলুক। দেখা যাক কী হয়। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর রিচার্ড বুরও। ৩ অক্টোবর তিনি জানান, এ ব্যাপারে একটি স্বাধীন তদন্ত চালু করবে তার প্যানেল। সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেক বলেন, গোপন ভোটের আয়োজন হলে অন্তত ৩৫ জন রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। মধ্যপন্থি দুই রিপাবলিকান চার্লি ব্যাকার ও ফিল স্কট উভয়ে অভিশংসনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অপর এক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সত্য ঘটনা সামনে আসা উচিত। এই বিতর্কের মধ্যে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক গোপন নথি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্প ২০১৭ সালে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে বলেছিলেন যে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ব্যাপারে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। কেননা, পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রও এমন কাজ করেছে। ওই খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের ওপর চাপ আরো বেড়ে গেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..