হকারদের পেটে লাথি না মেরে ক্যাসিনো হোতাদের ধরুন : মনজুর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : হকারদের সমাবেশে প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সভাপতি জননেতা মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, হকারদের পেটে লাথি না মেরে ক্যাসিনো হোতাদের গ্রেফতার করুন যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে, মদ-জুয়া খেলছে, বিদেশে টাকা পাচার করছে। যখন ঢাকা শহরের অন্য কোথাও হকার ছিল না, তখনও পুরান ঢাকায় হকার ছিল। তাই হকারদের উপর জুলুম-নির্যাতন না করে অবিলম্বে তাদের বসতে দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচার ব্যবস্থা করতে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। গত ১ অক্টোবর সকালে সদরঘাট ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হকার উচ্ছেদ করতে বলেননি, বলেছেন পুনর্বাসন করতে। অন্যান্য জায়গায় হকার বসতে পারলে পুরান ঢাকায় কেন বসতে পারবে না? পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, হকার ব্যবস্থাপনার জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুরান ঢাকার উচ্ছেদকৃত ১০ হাজার হকারকে পুনর্বহাল করার দাবিতে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর, বক্তব্য রাখেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা মো. ফিরোজ, মো. আরিফ, কোতয়ালী থানা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাউয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান পাটোয়ারী হকারনেতা মো. রবিন, মো. জাহাঙ্গীর, সামছুল হক মোড়ল, আবুল খায়ের। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, হকাররা দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ, পুলিশের জুলুম-অত্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে জীবন দিব তবু বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া ফুটপাত ছাড়বে না। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছি পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর, স্থানীয় এমপি, উপ-পুলিশ কমিশনার সবার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছি, আলোচনা করেছি। কিন্তু সবাই ভাল ভাল কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে কোনো সমাধান হচ্ছে না। একজন আরেকজনের উপর দায় চাপাচ্ছেন অন্যদিকে হকাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি সদরঘাট, কোটকাচারী হয়ে বংশাল রোডস্থ ডিসি অফিসের সামনে দু’ঘণ্টা অবস্থান করে এবং ডিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ডিসি সাহেব ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ‘এক সিটিতে দুই আইন থাকতে পারে না’: পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, হকার ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির পুরান ঢাকার উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বহালের দাবিতে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে গত ২ অক্টোবর বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, কার্যকরি সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সহ-সভাপতি মঞ্জুর মঈন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, সূত্রাপুর থানা হকার্স লীগের সভাপতি মো. ফিরোজ, হকার্স ইউনিয়ন কোতোয়ালি থানা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান পাটোয়ারি, হকারনেতা মো. রবিন, মো. আরিফ। সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা সিটিতে হকারদের জন্য দুই আইন থাকতে পারে না। ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে হকাররা ফুটপাতে বসে ব্যবসা করছে, অথচ আদি ঢাকাতে হকারদেরকে পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বেকারে পরিণত হয়েছে। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা শুক্র ও শনি সরকারি ছুটির দুই দিন পূর্ণদিবস বাকি পাঁচ দিন অফিস ছুটির পরে হকাররা বসতে পারবে। তিনি পুরান ঢাকার ডিসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হকারদের ফুটপাতে বসতে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। হকারদের উপর দমন-পীড়ন-নির্যাতন-মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ করুন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এর আগে অন্য জায়গাতেও পুলিশ কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হকার উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু হকাররা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করে আবারও ফুটপাতে বসেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বদলি হয়েছে কিন্তু হকাররা থেকে গেছে। নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের একগুঁয়েমি মনোভাব পরিহার করে মাথা ঠাণ্ডা রেখে হকারদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে অনুরোধ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। ৬ অক্টোবর সাদা কাপড় পরে বিক্ষোভ: ৩ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে দুইদিনের মধ্যে উচ্ছেদকৃত হকারদের বসতে না দিলে ৬ অক্টোবর সাদা কাপড় পরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন হকার নেতৃবৃন্দ। ৩ অক্টোবরের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর, ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় এমপির সাথে ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের বৈঠকে তারা হকার উচ্ছেদের ঘটনায় হকারদের পক্ষে মায়াকান্না করেন, কিন্তু হকারদের বসার ব্যবস্থা করেননি, বাঁচার ব্যবস্থা করেননি। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গরিব নিরীহ হকারদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের গুটিতে পরিণত করবেন না। নেতৃবৃন্দ হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, তদবির করে, তাবিজ পরে, পানি পড়া খেয়ে দাবি আদায় হবে না। সকল হকারকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ে বাধ্য করতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন, সূত্রাপুর থানা হকার্স লীগের সভাপতি মো. ফিরোজ, হকার্স ইউনিয়ন সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি মো. কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান পাটোয়ারি, হকারনেতা মো. আরিফ, মো. রবিন, আক্কাছ আলী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..