রাতের আঁধারে পালালেন বশেমুরবিপ্রবি ভিসি

আন্দোলনকারীদের ছাত্র ইউনিয়নের অভিনন্দন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর কাছে সাদা কাগজে লিখিত পদত্যাগপত্রটি জমা দেন। পরে সেটি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার আগের দিন রাতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাতের আঁধারে পুলিশের প্রহরায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন ভিসি। এর আগে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের গঠিত কমিটি ভিসির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনটি সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেয়। পরে সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে ভিসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে যোগ্য নয়, তাই তাকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে এই কমিটি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে সবার সঙ্গে কথা বলে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। সেখানে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ভালো কিছু আমরা দেখিনি। এ বিষয়ে শক্ত প্রতিবেদনই আমরা দিয়েছি। কারণ আমাদের কাছে মনে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।’ গত ২৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় চিঠি পাওয়ার পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইউজিসি সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, ড. দিল আফরোজ বেগম, ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক কামাল হোসেন এবং একই বিভাগের উপপরিচালক মৌলি আজাদ। কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সরেজমিনে যান। পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে দুইদিন অবস্থান করেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা ফিরে এসে ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ইউজিসির কাছে জমা দেন। সম্প্রতি ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী’– এ বাক্যটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে নিজের কক্ষে নিয়ে অশোভন ভাষায় কথা বলেন উপাচার্য। তাঁদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। অডিও ফাঁসের পর জিনিয়াকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগেও শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার দায়ে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতেই ভিসিবিরোধী আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনুপ্রেরণা হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক সকল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের টানা ১২ দিনের আন্দোলনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই বিজয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ১ অক্টোবর বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়, সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়। সমাবেশে অনিক রায় বলেন, ‘আন্দোলন বিজয়ে বশেমুরবিপ্রবি’র সকল শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। এই বিজয় দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং আবারো প্রমাণ করেছে দুর্নীতি-জালিয়াতি-স্বৈরাচারি কায়দায় চলমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ছাত্র আন্দোলনই দাবি আদায়ের একমাত্র পথ। আমরা আশাবাদী, এই আন্দোলন অনুপ্রেরণা হয়ে ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাসে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে চলমান লড়াই-সংগ্রাম আরো বেগবান হবে ও দাবি আদায়ে সক্ষম হবে।’ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম, ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর মেহেদী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তামজীদ হায়দার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..