হঠাৎ পানিতে দেশের মধ্যাঞ্চল প্লাবিত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : অতিবৃষ্টির কারণে দেশের মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পানি সাত থেকে দশ দিন স্থায়ী হতে পারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রধান প্রধান নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে। কিছু নীচু এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বন্যার আশঙ্কাও করছেন। গঙ্গায় পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ফারাক্কার ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিহার, পাটনা এবং মালদায় বন্যার কারণে এই গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খুলে রাখা হয়। ফলে এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। গেট খোলা রাখার কারণে বন্যার শঙ্কা নেই বলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে স্বল্পস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ফারাক্কার বাঁধ দিয়ে আসা গঙ্গার পানি পদ্মা হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়বে। এতে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর মানিকগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকার নদী তীরবর্তী অঞ্চল পানিতে কিছুটা প্লাবিত হতে পারে। তবে অন্য অঞ্চলে এর তেমন প্রভাব পড়বে না। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া বলেন, এটি স্বাভাবিক বন্যা পরিস্থিতি। কয়েকদিন আগে বিহারের দিকে উজানে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির প্রভাবেই এখন এই বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি খুব সাময়িক। বেশিদিন থাকবে না। তারপর এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই প্রকৌশলী আরও জানান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। পানি এখন নামতে শুরু করেছে। পানি নেমে যাওয়ার সময় সাময়িক বন্যা সৃষ্টি হবে। এই পরিস্থিতি ১০ দিনের মতো স্থায়ী হতে পারে। এই অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। এদিকে পানি বাড়ার ফলে নিচু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। রাজশাহী : উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে রাজশাহীতে বেড়েই চলেছে পদ্মার পানি। এদিকে পদ্মার ভাঙনে বাঘা, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার দুই হাজার ছয়টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ তিনটি উপজেলা ছাড়াও জেলার চারঘাট উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। নাটোর: ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে লালপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৮টি চরের ফসল ও বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব চরে বসবাসকারী প্রায় তিন হাজার পরিবার। কুষ্টিয়া : গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ায় কুষ্টিয়ায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পদ্মার পানি। সীমান্তবর্তী দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর ছাড়াও ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের গ্রামগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এই চার ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামে পানি ঢুকে গেছে। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিজ বাড়িতে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পানি ঢুকে যাওয়ায় ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাবনা : ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, সাড়া ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে শীতকালিন সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষেরা গবাদি পশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকার স্বজনদের বাড়িতে। এ ছাড়া জেলায় যমুনা, চলনবিল, গৌমতি, চিকনাই ও ইছামতিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে পানিবন্দি মানুষের সহায়তার হাত বাড়ায়নি প্রশাসন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..