ক্যাসিনো জুয়াড়ি ও মদতদাতাদের গ্রেপ্তার, বিচারের দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ক্যাসিনো জুয়াড়ি ও তাদের মদতদাতাদের গ্রেফতারের দাবিতে বাম জোটের মিছিল
একতা প্রতিবেদক : যুবলীগ, ছাত্র লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ দেশজুড়ে অসংখ্য অবৈধ ক্যাসিনোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মোটা অংকের ভাগ পেয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, ক্যাসিনোসহ অবৈধভাবে আয়ের সিংহভাগ টাকাই বিদেশে পাচার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র্যাব ক্যাসিনো বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বাসা-বাড়ি, অফিসসহ অন্যান্য আস্তানা থেকে কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণ, অস্ত্র, মাদক উদ্ধার করেছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগের রাঘব বোয়ালদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হবে। গত ৩ অক্টোবর বিকাল ৪:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এমনটাই বলেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ। ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের জুলহাস নাইন বাবু, বাসদ (মার্কসবাদী)র জহিরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মমিনুল ইসলাম, সমাজতান্তিক আন্দোলনের হামিদুল হক। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ অবৈধ বাণিজ্যের সাথে যুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি করেছেন। যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ জেলার সভাপতি ক্যাসিনো দুর্বৃত্তদের মূল হোতা সম্রাটকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানেরও দাবি জানান তারা। বাম নেতারা চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে বালিশ, বালিশের কভারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের অবাস্তব ব্যয় প্রস্তাব করার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ‘এভাবে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে সরকারি টাকা হরিলুটের চিত্র বেরিয়ে আসছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পিঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় জনগণের পকেট কেটে যাচ্ছে, অথচ সরকারের নজরদারীর অভাবে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে, ’ বলেছেন তারা। নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সেক্টররে যে অবিশ্বাস্য দুর্নীতি চলছে তার তুলনায় সরকারের বর্তমান অভিযান ‘জনগণকে ধোঁকা দেয়ার শামিল’ বলেও মন্তব্য করেন। তারা বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপরাধের দায়মুক্তির বিষয়টি দেশের সংবিধানের সাথে এক দিকে সাংঘর্ষিক ও অন্যদিকে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সমাবেশ থেকে এই কালাকানুন বাতিলের দাবি জানানো হয়। বাম নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের একতরফা সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট ক্ষমতাসীন হয়ে দেশে এক ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে জনগণের সম্পদ যথেচ্ছভাবে লুটপাট করছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই মুহূর্তে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অপসারণের জন্য দুর্বার গণআন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..