বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে জনবল সঙ্কট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বগুড়া সংবাদদাতা : অবকাঠামোগত সংস্কারে দৃষ্টিগত জৌলুস বাড়লেও বগুড়া জেলা সদরের সরকারি হাসপাতাল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সেবার ক্ষেত্র সর্বক্ষণিক করা যাচ্ছে না। চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের কারণে জেলা সদরের এই হাসপাতালটি লোকজনের কাছে আধা বেলার হাসপাতাল হিসেবেই পরিচিতি বাড়ছে। মূলত ইনডোর মেডিক্যাল অফিসারের (বহির্বিভাগের কোন চিকিৎসকের) কোন পদ না থাকায় এবং কনসালট্যান্ট থেকে শুরু করে সহকারী রেজিস্ট্রারের একাধিক পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বেশি সমস্যা হচ্ছে বিকেলের পর। ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ছাড়া স্বাভাবিকভাবে কোনো চিকিৎসক বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থাকছে না। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার থাকলে এ সমস্যা থাকত না। ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার (আইএমও) পদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর চিঠি চালাচালি করলেও তা একই তিমিরে রয়েছে গেছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বগুড়ায় ৫শ’ শয্যার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু থাকলেও জেলা সদরের মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের গুরুত্ব আগের মতোই। জেলার বিভিন্ন এলাকার রোগী প্রথমে এই হাসপাতালেই এসে থাকেন। তবে চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের কারণে অনেক জটিল রোগীকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর রাতের বেলা তো কথাই নেই। ন্যূনতম জটিলতা থাকলে সে ধরনের কোনো রোগী আর বিকেল আড়াইটার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আড়াই শ’ শয্যা হলেও প্রতিদিন ৩ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। হাসাপাতাল সূত্র জানায়, সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১১টি পদের মধ্যে ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ এসব পদের চিকিৎসক নেই। জুনিয়র কসালট্যান্টের ১০টি পদের মধ্যে ৩টিতে চিকিৎসক নেই। সহকারী রেজিস্ট্রারের ১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৯ জন, মেডিক্যাল অফিসারের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। এ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও শিশু বিভাগের মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসারের ৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৬ জন। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে কোনো ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার না থাকায়। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে ৬টি বিভাগ সার্জারি, মেডিসিন, চক্ষু, ইএনটি, শিশু ও গাইনি বিভাগে ২৪ জন ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা বলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন। সেখানে কোনো পদই সৃষ্টি করা হয়নি। ২০১৪ সাল থেকে একাধিক বার ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার ও অর্থপেডিক্স ও কার্ডিওলোজি বিভাগ চালুর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠি লেখা হলেও এর কোন সমাধান হয়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..