বরাদ্দ না থাকায় দুই মাস ধরে প্রাণীদের খাবার বন্ধ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বরগুনা সংবাদদাতা : বরাদ্দ না থাকায় গত দুই মাস ধরে উপকূলীয় সোনাকাটা বনাঞ্চলের টেংরাগিরি ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত খাবার সরবরাহ না করলে প্রাণিকূল জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। পটুয়াখালী বন উপ-বিভাগীয় তালতলী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির ওপর তালতলী উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ওই বনাঞ্চলের সোনাকাটা টেংরাগিরি বিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ইকোট্রারিজম নির্মাণ করে। ওই সময় ইকোট্রারিজমটিতে পাঁচটি কুমির, নয়টি হরিণ, ২৬ শূকর ও একটি মেছোবাঘ ছিল। খাবার সরবরাহ না থাকায় গত বছর শূকর, কচ্ছপ ও মেছোবাঘ বনে ছেড়ে দেয়া বন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ইকোপার্কে পাঁচটি কুমির ও নয়টি হরিণ রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এ বছর জুলাই ও আগস্ট থেকে কুমির আর হরিণের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রাণিকূলের জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় ও পর্যটকদের দেয়া খাবার খেয়ে বেঁচে আছে প্রাণীরা। কিন্তু চাহিদা মতো খাবার না পাওয়ায় প্রাণীরা দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় ও পর্যটকরা। পর্যটক নজরুল ইসলাম ও মাঈনুল ইসলাম বলেন, কুমিরকে খাবার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুমহাম করে খেয়ে ফেলেছে। কত দিনের যেন উপবাস এ কুমিরগুলো? তিনটি কুমির খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। তিনি আরও বলেন, কুমিরগুলো না খেয়ে শুকিয়ে গেছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রাণীরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। স্থানীয় ও পর্যটকদের খাবার খেয়ে কোন মতে বেঁচে আছে। দ্রুত খাবার সরবরাহের দাবি জানাই। টেংরাগিরি (সকিনা) বিটের বিট কর্মকর্তা জাহিদ প্রামাণিক বলেন, প্রাণীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের অর্থ বরাদ্দ নেই। জুলাই থেকে অদ্য (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে খাবার সরবরাহ করছি। তিনি আরও বলেন, খাবার সরবরাহ না থাকায় শূকর, মেছোবাঘ ও কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তালতলী রেঞ্জ অফিসার নয়ন মিস্ত্রি বলেন, প্রতি অর্থবছরে খাবার সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..