পেঁয়াজের বাজারে আগুন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : চাহিদার তুলনায় মজুদ বেশি থাকার পরও দেশের বাজারে হঠাৎ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশের খুচরা পর্যায়ে দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বরও পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। রোববার ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারও এ দামেই বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। বাণিজ্য সচিবের মতে, ভারত পেঁয়াজের সবনিম্ন রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়ায় দেশের বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবারও তা ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার। তবে ট্যারিফ কমিশন জানায়, দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তা দেশের চাহিদার জন্য যথেষ্ট। তাই পেঁয়াজের দাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমে আসবে। বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি)। প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। অন্যদিকে আজ থেকে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও। ট্যারিফ কমিশন জানায়, দেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পচনের কারণে ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টনের। উৎপাদন রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই হিসাবে ২৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। তা দেশের চাহিদার জন্য যথেষ্ট। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন। জানা গেছে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০-৫০ রুপিতে উঠেছে। এ কারণে পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করে দেয় ভারত। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই রপ্তানিমূল্য বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়। রপ্তানিমূল্যের মানে হলো, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন থেকে টন প্রতি ৮৫০ ডলারের কমে আর পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন না। তা বৃহস্পতিবার ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার। এই দরে আমদানি করলে বাংলাদেশে ফ্রেইট অন বোর্ড (এফওবি) বা ভাড়া ছাড়া মূল্য দাঁড়ায় কেজিপ্রতি প্রায় ৭২ টাকা। এর সঙ্গে কেজিতে ৫-৬ টাকা ভাড়া যুক্ত হবে। আমদানি করা পেঁয়াজের সঙ্গে দাম বেড়েছে দেশি পেঁয়াজেরও। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে আগের মূল্যে কেনা পেঁয়াজের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারেও। এক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও আতঙ্ক কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য বাজার মনিটরিংয়ের ঘাটতিকেই দায়ী করছেন অনেকে। পেঁয়াজ বাজারের এই অস্থিরতা শুরু হলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। অবশ্য উপায় খুঁজতে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে মনিটরিং জোরদারের আশ্বাস দেন বাণিজ্য সচিব। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে ট্যারিফ কমিশন। এর আগে সকাল থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা দরে খোলাবাজারে পেয়াজঁ বিক্রি শুরু করেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..