শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি চেয়ে সমাবেশ করছে ছাত্র ইউনিয়ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনে কর্পোরেট কোম্পানিসমূহের উপর সারচার্য আরোপ, বাজেটের ২৫ ভাগ এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, শিক্ষা শেষে সকলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালুর দাবিতে শিক্ষা দিবস ঘিরে দেশজুড়ে বিভাগীয় শহর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সমাবেশ করছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন কৃষ্ণচূড়া চত্বরে সমাবেশ দিয়ে দেশজুড়ে এ ছাত্র সমাবেশ শুরু হচ্ছে। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর খুলনা সরকারি কলেজে, ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশালের অশ্বিনী কুমার হলে, ১৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে, ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ২১ সেপ্টেম্বর চৌহাট্টায় সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ২৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার টাউন হল মাঠের মুক্তমঞ্চে, ২৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্বরে সমাবেশের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন। এসব সমাবেশ থেকে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে একই ধারার গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, সার্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার শিল্প এলাকায় শ্রমিকের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষা; সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক মুল্যায়ন চালু, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন টিউশন ফি নীতি বাস্তবায়ন; সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও পাড়ায় পাড়ায় খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা, সাত কলেজের সমস্যার সমাধান ও সকল ধরনের বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধের দাবি জানানো হবে, বলেছেন তারা। সমাবেশগুলো থেকে বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক ও লুটেরা শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে ছাত্র সমাজকে এক হওয়ারও আহ্বান জানানো হবে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও অরাজকতার অবসান চাই’: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারিকে ‘অপ্রীতিকর’ অ্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষমতাসীনদের সকল ধরনের সন্ত্রাস ও অরাজকতার অবসান চেয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গত ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দলের জের ধরে মারামারি এবং দুই নেতার মাথা ফাটাফাটির ঘটনা রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থি। ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের শীষ নেতাদের ব্যাপারে একের পর এক সংবাদ শিরোনামই বলে দেয়, দেশের ছাত্ররাজনীতির পরিস্থিতি ‘এখন কতটা সঙ্গীন’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তথাকথিত ডাকসু নেতার এক কোটি টাকা চাঁদাবাজি, একাধিক নেতার ভর্তি জালিয়াতি এবং মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনাই সাক্ষ্য দেয় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক অস্থির সময় পার করছে। এই অস্থিরতা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাম্য নয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, গুণ্ডামী, চাঁদাবাজি, মারধর এগুলোকে ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং স্রেফ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলেই আমরা মনে করি। তারা বলেন, আমরা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব অন্যায়-অপকর্মের অবসান চাই। রাজনীতির নামে এসব অপকর্ম, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আমাদের যে সংগ্রাম তাকেই বারবার ব্যাহত করছে। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, এ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিজ নিজ সংগঠন থেকে বর্জন করুন। তা না হলে দেখবেন শিক্ষার্থীরাই আপনাদের সংগঠনকে বর্জন করতে শুরু করবে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার জন্য সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককেও আহ্বান জানিয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..