রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে ব্যারাক-স্থাপনা

প্রত্যাবাসনের কী হবে?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুরো গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পুলিশের ব্যারাক, সরকারি ভবন এবং শরণার্থী পুনর্বাসন শিবির। মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগে এক সফরে গিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি অন্তত চারটি স্থান খুঁজে পেয়েছে- যেখানে সুরক্ষিত এসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। অথচ স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এগুলো আগে ছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের বসতি। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলটিকে মিয়ানমারের সরকার হ্লা পো কং নামে একটি ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তারা বলে, স্থায়ী আবাসে ফেরার আগে এই শিবিরটিতে ২৫ হাজার শরণার্থী দুই মাস ধরে থাকতে পারবে। এই শিবিরটি এক বছর আগে তৈরি করা হয়েছিলো। তবে এখনো এর অবস্থা করুণ। এরই মধ্যে এর টয়লেটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের সহিংসতায় ধ্বংস হওয় দুটি গ্রাম ‘হ রি তু লার’ এবং ‘থার হায় কোন’ নামে রোহিঙ্গা গ্রামের উপর এই শিবিরটি তৈরি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গা গ্রামের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে। তারা ধারণা করছে, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ৪০ ভাগ রোহিঙ্গা গ্রাম সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এটাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সেনাবাহিনীর ওই বড় আকারের হত্যাকে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। গত কয়েকদিন আগে ফর্টিফাই রাইটস নামে আন্তর্জাতিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্রের মুখে রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’ পরিচয়পত্র নিতে বাধ্য করছে । এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ কেড়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে আরো প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের খবর বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। নাগরিকত্ব, অবাধে চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এর আগে কয়েক দফা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে নিজ দেশে ফিরতে আপত্তি জানিয়েছিল।
প্রথম পাতা
করোনা প্রসঙ্গ: দেশ-দুনিয়াকে বদলাতে হবে
‘বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার কাজে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে’
করোনাকালের অর্থনীতি, করোনাত্তোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার খাত কি হওয়া উচিৎ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে ‘গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে
কোভিডের চিকিৎসা নিয়ে কোনোরকম ব্যবসা চলবে না
‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে চিকিৎসার সকল দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে
সরকার মানুষকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
প্রতিদিনকার কোভিড মোকাবেলার মাঝে অর্থনীতির চাকা সচল করতে চীনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাঃ উদ্যোগ ও সাফল্য

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..