কৃষক সমিতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
উত্তরবঙ্গের চার জেলায় কৃষক সমিতির বর্ধিত সভা উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতির বর্ধিত সভা গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভাগুলিতে সংশ্লিষ্ট জেলার সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে উত্থাপিত রিপোর্টের পাশাপাশি জেলায় কৃষি-কৃষকের সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় উঠে এসেছে কৃষি ও কৃষকের নানা সমস্যার কথা– (ক) কৃষিতে বহুমুখীকরণ হলেও এর সুবিধা কৃষকরা পাচ্ছে না, সমস্ত সুবিধা ভোগ করছে বহুজতিক কোম্পানি ও মধ্যস্বত্বভোগী লুটেরা ব্যবসায়ীরা। (খ) রাষ্ট্রের তরফ থেকে কৃষককে যে সুবিধা ও সহায়তা দেওয়া হয় কৃষকদের তালিকা না থাকায় তা লুটেপুটে খাচ্ছে দলীয় টাউট-বাটপাররা। (গ) বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতা ক্রমাগত বেড়ে চললেও দুদক ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। (ঘ) ইটেরভাটা ও শিল্প-কারখানার বর্জ্যে কৃষকের ফসলহানি হলেও ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না কৃষক। (ঙ) নিম্নমানের সার-বীজ-কীটনাশক, মাছের পোনা, মৎস্য, হাঁস-মুরগী ও গবাদীপশুর খাদ্য ও ঔষধে বাজার সয়লাব। এসব দেখার কেউ নেই। ফলে কৃষক বেশি দামে এসব ক্রয় করে কাক্সিক্ষত ফলন না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত হচ্ছে। রাষ্ট্র-পুলিশ প্রশাসন প্রতিবাদী কৃষকের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে এইসব প্রতারক ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে কৃষকদের হয়রানি করে। (চ) হাট-বাজারে ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারীতা, জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট কৃষকের পাশে প্রশাসন নেই। (ছ) সকল প্রকার খাদ্যশস্য ও অন্যান্য কৃষি উৎপাদন বাড়লেও সরকার আমলা ও লুটেরা ব্যবসায়ীর স্বার্থে আগাম আমদানি করে বাজার সয়লাব করে রাখায় বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই কৃষক ফসল ও অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব থেকে কৃষি ও কৃষককে রক্ষায় আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলনের জন্য চাই শক্তিশালী সংগঠন, আর আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কৃষক আন্দোলনের জন্য সভাগুলিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে নিম্নলিখিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়– ১. প্রত্যেক জেলা কমিটির উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি ও কৃষকের সমস্যা ও সমাধানের দাবি সম্বলিত লিফলেট প্রকাশ ও প্রচার করা। ২. সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী গ্রামে-গ্রামে, ইউনিয়ন থেকে উপজেলায়, উপজেলা থেকে জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন। ৩. কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক টার্গেট বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। রংপুর : জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ কৃষক নেতা শাহাদত হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন– আলতাফ হোসেন, চন্দন ঘোষ, আব্দুল জলিল সরকার, হৃদয় কুমার বর্মন, আমজাদ হোসেন সরকার, শ্যামল চন্দ্র সরকার, গুলজার হোসেন, দবির উদ্দিন প্রমুখ। লালমনিরহাট : জেলা কমিটির সভাপতি নজমুল হক খাজার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন– মধুসুধন রায়, রফিকুল ইসলাম, রনজিৎ কুমার রায়, নিরঞ্জন কুমার সিংহ, রেজাউল করিম, নবীন্দ্রনাথ রায়, বাহার তালুকদার প্রমুখ। কুড়িগ্রাম : জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ কৃষকনেতা রাজেন্দ্রনাথ সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন– উপেন্দ্রনাথ রায়, আক্তারুজ্জামান রাজু, সামছুল আলম, মমিনুর রহমান প্রমুখ। নীলফামারী : জেলা কমিটির প্রবীন নেতা উদাস কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন– আতিয়ার রহমান, আয়ুব আলী, আনোয়ার হোসেন, জগদীশ রায়, প্রাণ কুমার, দীজেন্দ্রনাথ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি খাল পুনঃখননের দাবিতে কৃষক সমিতির মানববন্ধন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুনঃখননের দাবিতে গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নে কৃষক সমিতি, গলাচিপা উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইউ.পি মেম্বর সেরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিপিবি সভাপতি আবুল হোসেন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শিপন, কৃষক নেতা নাসির সর্দার, মো.জাহাঙ্গীর, ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড অনিমেষ হাওলাদার প্রমুখ। অবৈধ দখলদারদের লিজ বাতিল, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের জন্য পানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার দাবিতে কৃষক-শ্রমজীবীদের এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সুবিধা বঞ্ছিত মানুষ অংশগ্রহণ করে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুনঃখননের দাবীতে বাংলাদেশের কৃষক সমিতির আহবানে গলাচিপার পানপট্টি সেন্টার বাজারে এক বিরাট মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক-শ্রমজীবীদের স্বতোস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মানববন্ধনটি জনসমাবেশে রূপ নেয়। বক্তব্য রাখেন সিপিবি গলাচিপা উপজেলা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনশিপন, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অনিমেষ হাওলাদার, কৃষক নেতা নাসির সরদার, মোঃ জাহাঙ্গীর প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ইউপি মেম্বর সেরাজুল ইসলাম মোল্লা। বক্তারা লিজ বাতিল করে অবৈধ দখলদারদের গ্রাস থেকে খাল উদ্ধারকরে জনসাধারণের সুবিধার্থে পুনঃখনন করার দাবি জানান। খাদ্যোৎপাদন যাতে হুমকীর মুখে না পড়ে সেজন্য বর্ষামৌসুমে পানিনিষ্কাশন ও শুষ্কমৌসুমে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্যতার নিশ্চয়তার জন্য অবিলম্বে ৪ কি.মি.দীর্ঘ খালটি পুনঃখননের জন্য নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..