রাজপথে বামপন্থি

আসামের নাগরিক তালিকা করে বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে, আসামের নাগরিক তালিকা (ঘজঈ) করে বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর উদ্যোগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর বাসদ এর আহ্বায়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় পাঠচক্রের সদস্য নিখিল দাস ও জুলফিকার আলী। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, উন্নয়নের ডামাডোল বাজতে থাকা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিজনিত সংকটের মাঝেই চারিদিক থেকে বাহ্যিক বহুমাত্রিক সংকট ক্রমাগত চেপে আসছে। মিয়ানমার ১০/১১ লাখ রোহিঙ্গা ঠেলে দিয়েছে, ভারত আসাম থেকে কখনো ৪০ লাখ, কখনো ২০ লাখ আসাম নিবাসীকে বাংলাদেশী বলে বাংলাদেশে পাঠাতে চাইছে, চারিদিকে কাঁটাতার, ন্যায্য পানির হিস্যা বঞ্চনা, সাগরের তেল-গ্যাস লুণ্ঠনের নতুন মহড়া ইত্যাদি মিলে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, কূটনীতি ও পদক্ষেপসমূহের দৈন্যতা ও ব্যর্থতার খেসারত বহু মূল্যে দেশবাসীকে দিতে হবে। যা কাক্সিক্ষত ও প্রত্যাশিত ছিল না। ভারতের নাগরিক তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে ক্রমাগত স্পষ্ট করে তুলছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তারই অংশ হিসেবে আসামের নাগরিক তালিকা তৈরির উদ্যোগ। এতদিন প্রচার করেছে ৪০ লক্ষাধিক বাংগালী মুসলমান বাংলাদেশ থেকে ভারতের আসামে অনুপ্রবেশ করেছে। ফলে নাগরিক তালিকা করে তাদের ফেরৎ পাঠাবে। এ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আসামে দীর্ঘদিনের ‘আলী, কুলি, বঙ্গাল খেদাও’ (মুসলিম, বিহারী ও হিন্দু বাঙ্গালী) শ্লোগানে সংগঠিত হলেও বিজেপি সরকার তাকে নতুন সংকটের আবর্তে নিক্ষেপ করছে। তিনি বলেন, যদিও বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় সংকর সম্প্রতি এসে বলে গেছেন যে, এটা তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এতে বাংলাদেশের দুঃচিন্তার কোন কারণ নেই। আমরা বিস্ময়ের সাথে দেখলাম ভারত সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়কে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে বাংলাদেশের কাছ থেকে শুধু সুবিধাই নিয়েছে, বাংলাদেশকে তিস্তার পানিসহ কিছুই দেয়নি। ফলে ভারতের আশ্বাসে বিশ্বাস করার কিছু নেই। খালেকুজ্জামান বলেন, আসামের এনআরসি-তে যারা বাদ পড়েছেন তারা যদি আগামী দিনেও ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ও হাইকোর্ট-সুপ্রীম কোর্টে অযাচিত হয়রানির পরও প্রমাণ করতে না পারে তাহলে তাদের কি হবে? তাছাড়া যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র জনসাধারণ। বলা হয়েছে এফটি এবং আদালত করতে প্রতি জনের প্রথমে ২০ হাজার পরে ১৯ হাজার রুপি লাগবে। ফলে অসহায় জনগণ এমনিতে নিঃস্ব - তারা আরো নিঃস্বতর হবে। তা ছাড়া তালিকায় নাম না ওঠাদের এখনই নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়া হচ্ছে। ফলে ভীত হয়ে অনেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। যেমনি মায়ানমারের সেনা বাহিনীর অত্যাচারে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। খালেকুজ্জামান বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের প্রতি অনুগত না থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনই আসামের এন.আর.সি বিষয়ে সতর্ক থাকা, পুশব্যাকের ভারতীয় নীল নকশা ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি’র নজরদারি জোরদার করা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান। ভারতীয় শাসক গোষ্ঠীর এহেন চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সকল বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..