খাসিয়াদের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটিই অযোগ্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি কাঁচা রাস্তাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম খাসিয়াদের। আর বৃষ্টি এলেই শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় খাসিয়া পুঞ্জির দুই শতাধিক পরিবারের। অনেক সময় বিপজ্জনক কর্দমাক্ত কাচা রাস্তায় জিপ গাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায়ই শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় বিঘিœত হচ্ছে এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাসিয়াদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নাহার ও লাংলিয়া পুঞ্জিতে যাওয়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণ না হওয়ার কারণে এমন দুর্ভোগের স্বীকার হতে হচ্ছে তাদের। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বের এই পুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেছে, শহর থেকে টিপরাছড়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। বাকি ৫ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি মাটির রাস্তা। এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার মাটিগুলো কাদায় পরিণত হয়েছে। সরু এই রাস্তায় একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জায়গা নেই। রাস্তার প্রায়ই জিপ গাড়ির চাকাগুলো কাদায় আটকে যাচ্ছে। নাহার এক নং পুঞ্জির মান্ত্রী (গ্রাম প্রধান) ডিবারমিন পতাম ও নাহার-দুই নং পুঞ্জির মান্ত্রী (গ্রাম প্রধান) ফেরলি সুরং বলেন, জিপ গাড়িতে করে উঁচু পাহাড়ি রাস্তায় আমরা চলাচল করি। বাচ্চারা খুবই ভয় পায়। সরকারের তরফ থেকে যদি এই রাস্তাটা পাকা করে দেয়া হতো তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো। আমাদের এখানে উৎপাদিত পান, লেবু, আনারস ইত্যাদি সহজে আমরা বাজারে পৌঁছাতে পারতাম। আমরা অনেক বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। রাস্তার জন্য অনেক আবেদন করেছি। রাস্তা পাকা না হওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রায় অনেক বিঘ্ন ঘটছে। জিপ গাড়ির চালক ময়না মিয়া বলেন, শহর থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্বে যেতে রাস্তার কারণে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। অনেক সময় কাদায় গাড়ি আটকে থাকলে বা বিকল হয়ে গেলে দিন শেষ। রাস্তায় একটি গাড়ি আটকা পড়লে অন্য কোন গাড়ি আর যেতে পারে না। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আমরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাই এই রাস্তায়। খাসি (খাসিয়া) স্যোসাল কাউন্সিল এর প্রচার সম্পাদক সাজু মারছিয়াং বলেন, নাহার-এক নং খাসিয়া পুঞ্জিতে ৪০টি পরিবারে ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং নাহার দুই নম্বর পুঞ্জিতে ৫০টি পরিবারে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন ও লাংলিয়া পুঞ্জিতে ১০০ টি পরিবারের ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন বসবাস করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে এই রাস্তার জন্য এখানের মানুষ অনেক কষ্টে আছেন। শিক্ষার্থীরা রাস্তার কারণে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। সন্তানসম্ভবা নারীদের এক সপ্তাহ আগে থেকে শহরে নিয়ে আসতে হচ্ছে রাস্তার কারণে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত এই রাস্তাটি পাকা করার অনুরোধ জানান তিনি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পুঞ্জিবাসীর যাতায়াত সুবিধার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে রাস্তা দুটি পাকাকরণের সুপারিশ করে এর আগে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আবারও চিঠি পাঠাব। বরাদ্দ এলে কাজ শুরু হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..