নীলফামারীতে হাঁস প্রজনন খামার স্থবির

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারী শহরের মেলার ডাঙ্গায় নির্মিত (পশু হাসপাতাল সংলগ্ন) আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি বেহাল। ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খামারটি ৮ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। সরেজমিনে দেখা যায় খামারের পুকুরে হাঁসের বাচ্চা ও চিক গার্ডারে (ব্রুডার হাউস) থাকার কথা একদিনের বাচ্চা। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খামারটি স্থবির হয়ে পড়েছে। সামান্য কয়েকটি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে খামারটি। কেন এটির দুর্দশা জানতে চাওয়া হলে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এটি ছিল পাঁচ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প। যার মেয়াদ ’১৮ সাল ৩০ জুনে শেষ হয়েছে। ওই প্রকল্পের মেয়াদে যারা চাকরি করছিল তারাও এখন চলে গেছে। বর্তমানে আমাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই খামারটি রাজস্বখাতে আনা হলে এটিকে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শুরুতেই এখানে ১১ কর্মকর্তা কর্মচারী ছিল। এখন মাত্র রয়েছে তিনজন। তাদেরও বেতন ভাতা মাসের পর মাস বকেয়া রয়েছে। এরাও কখন চলে যাবে জানি না। হাঁস প্রজনন খামারের অফিস সহকারী মো. গোলাম মোকতাদী বলেন, আমিষের চাহিদা মেটাতে ২০১৩ সালে এই খামারটি জেলা শহরে মেলার ডাঙ্গা নামক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেকার সমস্যার সমাধানসহ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে খামারিদের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি বলেন, নতুন শেড নির্মাণ হয়েছে, আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিন স্থাপন, ব্রুডার হাউস, চিক গার্ডসহ হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কতৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনটাই কাজে আসছে না। উন্নত জাতের ১০ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হাঁসের খামারটিতে বর্তমানে ডিমওয়ালা হাঁস রয়েছে ৪৩০টি ও বাড়ন্ত বাচ্চা রয়েছে এক হাজার মাত্র। তিনি আরও বলেন, এই খামারে ২৮ হাজার ডিম ফুটানোর সম্ভাবনা (কেপাসিটি) থাকা সত্ত্বেও হাঁস কিংবা ডিমের অভাবে আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছি না। স্থানীয়রা বলছেন, খামারটি পরিপূর্ণ চালু হলে এখানকার বেকার ছেলেমেয়েরা খামারের সহযোগিতা নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করতে পারত। ওই এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, খামারটি সরকারের নজরে এনে সম্পদগুলোকে কাজে লাগিয়ে পুষ্টি চাহিদাসহ অসংখ্য বেকার ছেলেমেয়ের আর্থিক ও সামাজিকভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি সম্ভবনাময় হাঁসের প্রজনন খামার। পাশাপাশি, খামার থেকে হাঁসের বাচ্চা সরবারহ করা হলে খামারিদের বাজার থেকে চড়াদামে একদিনের বাচ্চা ক্রয় করতে হতো না। অল্পদামে স্থানীয়ভাবে বাচ্চা সরবরাহ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার তৈরি করা সম্ভব হতো। স্থানীয় বাজারগুলোতে হাঁসের দাম হুহু করে বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, আসলে এটি খামার নয় এখন ভূতের বাড়ি। খামারটি পুনরায় চালু করার দাবি করেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শেখ এম এ মতিন আরও বলেন, আশাকরি, দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে। কারণ, প্রাণিসম্পদ সরকারের একটি বড় ধরনের উন্নয়ন খাত। এই খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় খামারটি ধীর গতিতে চলছে। তবে এটি রাজস্ব খাতে গেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..