১৮ বছরে বাংলাদেশের ৫১টি বাঘ পাচার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রকৃতি ডেস্ক : নতুন শতাব্দী শুরুর পর থেকে গত ১৮ বছর ধরে বিশ্বের ৩২টি দেশ থেকে পাচারের জন্য ২ হাজার ৩৫৯টি বাঘ শনাক্ত করার ঘটনায় ৫১টি বাঘ বাংলাদেশের বলে উঠে এসেছে এক জরিপে। ‘স্কিন অ্যান্ড বোনস আনরিজলভড’ শিরোনামে সম্প্রতি এই গবেষণা প্রতিবেদন নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রাফিক ইন্টারন্যাশনাল। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ট্রাফিকের ভাষ্য, গত ১৯ বছরের প্রতি বছর ১২০টি বাঘ হারিয়ে যায়। প্রতিবেদনে ব্যাপক হারে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাঘ রক্ষায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান এবং প্রতিবেদক লেখক কানিথা কৃষ্ণস্বামী বলেন, ‘যে হারে বাঘ হারিয়ে যাচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। মনে হচ্ছে বাঘ রক্ষার লড়াইয়ে আমরা হেরে যাচ্ছি।’ ১৯ শতকে বিশ্বে এক লাখের বেশি বাঘ বন-জঙ্গলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। কিন্তু ২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী বাঘের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। এ সময়ে মাত্র তিন হাজার ২০০টি বাঘের দেখা পাওয়া যায়। সে সময় থেকে গত ৯ বছরে বাঘের সংখ্যা একটু বেড়েছে, তবে মোট সংখ্যা এখনো চার হাজারে পৌঁছতে পারেনি। বাঘের সংখ্যা তিন হাজার ৯ শরও কম। কৃষ্ণস্বামী বলেন, ‘কথা বলার সময় এখন শেষ। বাঘ রক্ষায় এখন কথাকে কাজে পরিণত করতে হবে।’ ‘ট্রাফিক’ বিপন্ন প্রজাতির বাঘ রক্ষায় প্রচার চালিয়ে থাকে এবং পাচারকারীদের ধরতে সরকারকে সহায়তা করে থাকে। ‘ট্রাফিক’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। চামড়ার জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৮টি বাঘ পাচার করা হয়। পাচারের ঘটনায় জীবিত ও মৃত আস্ত বাঘ মেলার ঘটনা বাড়ছে ২০১৬ সাল থেকে।’ ভারতে বাঘের সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৭টি। বাঘের পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যেও যে শীর্ষে আছে দেশটি, তা দেখা গেছে ট্র্যাফিকের গবেষণায়। তাদের গবেষণার সময়কালে ভারতের ৪৬৩টি পাচারের ঘটনা থেকে ৬২৫টি বাঘ শনাক্ত করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ৩৩টি ঘটনা থেকে ৫১টি বাঘ চিহ্নিত করার কথা জানাচ্ছে ট্র্যাফিক। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে জরিপ চালিয়ে ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যাওয়া কথা এ বছরের মে মাসে জানিয়েছিল বন বিভাগ। এর তিন মাসের মাথায়, দুই দিন আগে সুন্দরবনের ছাপড়াখালী এলাকা থেকে এক বাঘিনীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের এই বাঘিনীর বার্ধক্যজনিত মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। ট্র্যাফিকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ১৩টি এশীয় অঞ্চলের দেশের বাঘ পাচারের চিত্র উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কখনও মিলেছে বাঘের আস্তদেহ, কখনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে বাঘের চামড়া; আর ২৯ শতাংশ ঘটনায় আস্ত দেহ এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ছিল মৃত বাঘ। একটি বাঘের চারটি শ্বদন্ত (দাঁত) থাকে। ১০ কেজির মতো হাড় থাকে। ফলে কোনো ঘটনায় ২টি মাথার খুলি ও ১৩টি দাঁত পাওয়ার অর্থ অন্তত ৪টি বাঘ হত্যা করা হয়েছিল এই পাচারের ঘটনায়। যদি ৩৫ কেজি হাড় পাওয়া যায়, তবে তিনটির বেশি বাঘ হত্যা করা হয়েছিল বলে জানাচ্ছে ট্র্যাফিকের গবেষণা পদ্ধতি। বাঘের আস্ত দেহ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধারের ঘটনা দিয়ে অবৈধ পাচারের পুরো চিত্রটি যে বোঝা সম্ভব নয় তাও জানাচ্ছে সংস্থাটি। বাঘ পাচার ও হত্যার অসংখ্য ঘটনা অগোচরেই থাকছে বলে জানাচ্ছে তারা। সংস্থাটি আরো জানায়, জীবিত অথবা মৃত বাঘ উদ্ধারের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব বাঘের অর্ধেকেরও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে। তবে বাঘ পাচারকারী ও হত্যাকারীদের ধরা পরার তথ্যও রয়েছে প্রতিবেদনে। মোট ৫৯১টি ঘটনায় এক হাজার ১৬৭টি জন আটক হয়। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশ আটকের ঘটনা ভারতে। মোট ১৯৯টি ঘটনায় বাঘ পাচারে জড়িত হওয়ার কারণে কারাবাসের রায় হয়। গড়ে ৪ বছর পর্যন্ত কারাবাসের শাস্তির কথা জানাচ্ছে ট্র্যাফিকের গবেষণাটি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..