গৌরি লংকেশ মামলায় শম্ভুকগতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
তাহসিন মল্লিক : দুই বছর আগে এক মানহানির মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আর সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নামে এক সমন জারি হয়। মামলার বাদী হিন্দুত্ববাদী প্রায় জঙ্গি সংগঠন আরএসএস। প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, সাবেক উপাচার্য গৌরি লংকেশ হত্যাকাণ্ডে বিজেপি-আরএসএসের যোগসাজশ অনুমান করে রাহুল-ইয়েচুরির একই রকম এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সে মামলা হয়। প্রসঙ্গত, এখন থেকে দুই বছর আগে ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাড়ির (রাজারাজেশ্বরী নগর, ব্যাঙ্গালোর) বাইরে অজানা আততায়ীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন গৌরি। মৃত্যুর আগে গৌরি ডানপন্থি হিন্দু, চরমপন্থিদের সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল সমাজের মূলধারায় অনেক নক্সালাইটদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। গৌরি লংকেশ হত্যাকাণ্ডে হিন্দু উগ্রবাদীদের যোগসূত্র সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মানহানির মামলায় সমন জারি, আদালতে তলব, শোকজ ইত্যাদির ঘটনা ২০১৭তেই সম্পন্ন হলেও গৌরি লংকেশ মামলার গতি দিন দিন মন্থরই হচ্ছে। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসাইটি) নামক বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার করে। এরপর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রায় ৯,৩২৪ পৃষ্ঠার এক চার্জশিট দাখিল করে এসআইটি। এরপর একটি বিশাল চক্র মামলার গতি মন্থরে কাজ শুরু করে। যেখানে আইনজীবিদের একটি দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই রাষ্ট্রীয় মদদে গৌরি লংকেশের মত একজন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী হত্যার মামলা দিন দিন শম্ভুকের গতিতে চলছে। ভারতের ন্যায় বাংলাদেশে গৌরি লংকেশদের সংখ্যাও কম নয়। হত্যার শিকার তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রোফাইল গৌরির সমমানের না হলেও বিচার প্রক্রিয়ার অলৌকিক উদাসীনতার সাদৃশ্য শতভাগ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..