শঙ্কায় আরব জোট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ইয়েমেনে ক্রমশই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। দেশ দুটি ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একজোটে যুদ্ধ শুরু করেছিলো। কিন্তু আঞ্চলিক আরো কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠির ক্ষমতা দখল নিয়ে এখন পর¯পরের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের ভবিষ্যৎ। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদেনের নিয়ন্ত্রণ ছিলো সেখানকার একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে। সম্প্রতি সৌদি সমর্থিন ইয়েমেন সরকারের সেনারা সে অঞ্চলটির দখল নেয়। কিন্তু এখানে ওই বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার। সেখানে ইয়েমেনি সেনাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত। পুনরায় বিদ্রোহীদের ওই এলাকার দখল নিতে সৌদি জোটের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করেছে আবুধাবি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কার্যত সৌদি-আমিরাত জোটের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে পড়লো। গত চার বছর ধরে ইয়েমেনে প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে ইরান ও আরব জোট। এখন এই আরব জোটেও দেখা যাচ্ছে ভাঙ্গনের ইঙ্গিত। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন আব্দ-রাব্বু মন্সুর হাদি। কিন্তু আরব আমিরাত ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষই একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি সুন্নি জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। তারই অংশ হিসেবে হুতিদের থামাতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করে আরব জোট। কিন্তু তাদের ছিলো ইয়েমেনে আলাদা আলাদা স্বার্থ। সৌদি আরব ও আরব আমিরাত এই সংকট সমাধানে আলোচনা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু হাদি সরকার দাবি করে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আগে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সাহায্য বন্ধ করতে হবে। এবং বিদ্রোহীদের ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু এই শর্তে রাজি নয় অপর পক্ষ। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, আগে ইসলামিস্ট ইসলাহ পার্টিকে এই অঞ্চল ছাড়তে হবে এবং উত্তরাঞ্চলীয়দের দক্ষিণ ইয়েমেনের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এদিকে ইয়েমেনে হাদি সরকারের প্রতি সৌদি সমর্থন অব্যাহত থাকলেও আরব আমিরাত একে অকার্যকরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর বিকল্প কাউকে ক্ষমতায় বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দেশটি। সৌদি আরব নিজ উদ্যোগেই ইয়েমেনে যুদ্ধের জন্য আরব রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করেছিলো। এ জোটে দেশটির প্রধান সহযোগি রাষ্ট্র ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনে ইরানপন্থী শিয়া বিদ্রোহী গ্রুপ হুতিদের থামাতে উভয় দেশই সংকল্পবদ্ধ ছিলো। কিন্তু জোটের মধ্যেকার এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে ইয়েমেনকে সৌদি আরবের জন্য কঠিন করে তুলছে। হুতিদের দুর্বল করা এমন অবস্থায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে সৌদি আরবের জন্য। আদেনের ঘটনাও প্রমাণ করে সেখানে হাদি সরকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না। দক্ষিণাঞ্চলীয় বিদ্রোহীরা যখন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণে আছে তখন রাজধানী সানাসহ প্রধান বন্দর হোদেইদাহের নিয়ন্ত্রণে আছে হুতিরা। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা টার্গেট করে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে হুতি। এদিকে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় আফগানিস্তান থেকে ২০ সপ্তাহে ৫ হাজার ৪০০ সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী জালমায় খলিলজাদ ২ সেপ্টেম্বর এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন। চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন লাগবে। এদিকে, টিভিতে খলিলজাদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের সময় আফগান রাজধানী কাবুলে বড় ধরনের বোমা হামলা চালিয়েছে তালেবান। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরো ১১৯ জন। কাবুলের আবাসিক এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে তালেবান। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তি চুক্তি হলেও আফগানিস্তানে সহিংসতা কমবে না। আফগান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইন কাবুলের গবেষক এজাজ মালিকজাদা জানান, চুক্তি হলেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে প্রবেশ করে মার্কিন সেনারা। এরপর থেকে বর্তমানে তালেবান বহু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নিয়েছে। মালিকজাদা বলেন, ‘তালেবানদের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমরা দোহায় তাদের বক্তব্য শুনতে পাই, ফেসবুকে তাদের বক্তব্য শুনতে পাই, গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য শুনতে পাই। তারা পাল্টায়নি। তারা বোমা হামলা চালাতে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের ভাষ্য, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হলেও যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে। তারা লড়বে, তারা মারবে, যাই হোক না কেন। তালেবানরা পাল্টায়নি। একমাত্র পরিবর্তন যা এসেছে তা হচ্ছে, তাদের বোমার আকার বড় হয়েছে।’ কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ২ সেপ্টেম্বর টোলো নিউজকে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানান খলিলজাদ। বলেন, চুক্তি হলে আফগানিস্তান থেকে ১৩৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজারের বেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে যেন আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করবে তালেবান। খলিলজাদের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এক তালেবান মুখপাত্র। উল্লেখ্য, বর্তমানে আফগানিস্তানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..