বালিশ গেল হেরে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : আমরা সাধারণত প্রতিযোগিতা প্রাণীজগতের মধ্যেই দেখে থাকি। কিন্তু বস্তু জগতের মধ্যে প্রতিযোগিতা এমন কথা কি কেউ কোনোদিন শুনেছে? সমগ্র পৃথিবীতে এমন প্রতিযোগিতা না পেলেও বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার খেলা চলছে। তাই বস্তুদের এই লজ্জাজনক প্রতিযোগিতা যদি কেউ দেখতেই চান তাহলে বাংলাদেশের দিকে তাকাতেই হবে। এই যেমন কিছুদিন আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। তখন হয়তো অনেকেই ভিমড়ি খেয়ে পড়েছিল। কিন্তু এবার পর্দার দাম শুনে ভিমড়ি খাওয়ার সুযোগ নেই। একেবারে হৃদযন্ত্র বন্ধ হওয়ার অবস্থা। সেটা কেমন? ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দার সন্ধান পাওয়া গেছে। এবার হয়তো ভাবছেন এই পর্দা নিশ্চয়ই হীরা, জহরত মণি-মানিক্যে ভরা? না এমন হলে সুখানুভূতিই হতো। আমরা হয়তো ভাবতাম না থাক আমাদের ব্রিটেনের রানীর মুকুট, না থাক আমাদের ময়ূর সিংহাসন। আমাদের তো একটি মহা মূল্যবান অলংকার শোভিত পর্দা আছে। কিন্তু হায় কপাল! অনেক অনুসন্ধান করে সেই পর্দায় কোনো জহরত পাওয়া যায়নি। শুধু জানা গেছে মেসার্স অনিক ট্রেডাস নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোরিয়া থেকে কাপড়ের পর্দাটাই কিনে এনেছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে। শুধু কি পর্দা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কিনে এনেছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে। আর এই মহামূল্যবান যন্ত্রটি তিন বছর অনাদরে অবহেলায় পড়ে আছে একটি কক্ষের মধ্যে। আর তা পরিদর্শন করতে গিয়ে হেক্সো ব্লেড দিয়ে তালার কড়া কাটতেও হয়েছে। যাক ইহা অনেক বড় কিচ্ছা। এই কিচ্ছার তদন্তে নেমেছেন রাষ্ট্রের উজির-নাজির। আমাদের সবিশেষ বলা নিষ্প্রয়োজন। তবে রসিক লোকের মুখে এখন একটাই কথা- আহারে-বালিশ বাবাজিরে পর্দা বাবাজি শুধু হারায়েই নাই একেবারে ফাটাইয়া দিছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..