এবার ন্যাশনাল হাইওয়েতে বসছে ‘টোল’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ন্যাশনাল হাইওয়ে বা জাতীয় মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এখন থেকে সাধারণ মানুষদের পকেট থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতদিন করের টাকায় এগুলো সারলেও সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই এ নির্দেশ এসেছে বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, টোল থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সারা বছর সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয় নির্বাহ করা হবে। গত সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে দেশের মহাসড়কগুলোকে টোল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। টোল থেকে আদায়কৃত অর্থ একটা অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে। পরবর্তীতে ওই অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাসড়কগুলোর মেনটেইনেন্স ব্যায় নির্বাহ করতে হবে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সেতু এবং ফ্লাইওভারে চলাচলের জন্য যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো মহাসড়কে চলার জন্য টোল দিতে হয় না। দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সড়ক রয়েছে ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক। বিশ্বে অনেক দেশেই যে মহাসড়কে টোল আদায়ের ব্যবস্থা আছে, সরকারের পক্ষ থেকে সে যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টোলের জন্য বিশেষ করে জাতীয় মহাসড়কগুলোর কথা বলা হয়েছে। যেমন ঢাকা- চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা রংপুরৃ এসব মহাসড়কেই টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ স্থাপন হওয়ার পর গাড়ির ওজন মাপার প্রক্রিয়া কেউ যেন ‘টেম্পারিং’ করতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতেও মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত ভার নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধে এদিন একনেকের বৈঠকে ২১টি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এদিকে মহাসড়কে টোল নেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের কাছ থেকে। এর মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে, বলছেন তারা। বিরোধীদের ভাষ্য, সারাদেশে অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা, সকল সড়কে যানজট লেগেই আছে। প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এর মধ্যে টোলঘর বসালে প্রতিবন্ধকতা আরও বাড়বে। সমালোচকদের মতে, টোলের খড়্গ নেমে আসবে জনগণের কাঁধে, এ অতিরিক্ত সকল খরচের মাশুল দিতে হবে জনগণকেই। একইসঙ্গে টোল ব্যবস্থা চালু হলে মহাসড়কে যানজটেরও তীব্রতা বাড়বে এবং নষ্ট হবে যাত্রীদের সময়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..