ঘোর অশান্তি কি আসন্ন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট তিনদিন বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। তার বাংলাদেশ সফরের আগে ৫ আগস্ট ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫(ক) ধারা রদ করেছে বিজেপি সরকার। এস জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফরের পর ৩১ আগস্ট আসাম রাজ্যে ঘোষিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে উনিশ লাখের বেশি ভারতীয় নাগরিক। ভারত সরকারের দুটি সিদ্ধান্তই দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিবৃতি প্রদান করেছেন তাতে বাংলাদেশের স্বার্থকে যথোপযুক্তভাবে তুলে ধরা হয়নি। কাশ্মীর ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ মনে করে যে ভারতীয় সরকার কর্তৃক (সংবিধানের) ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬ আগস্ট তারিখে এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি কেবল ভারতের অভ্যন্তীরণ বিষয় নয় বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে যে সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশ এবং গোটা উপমহাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য বিরাট হুমকি সৃষ্টি করেছে।’ গত ৩১ আগস্ট ভারতের বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকা ১৯,০৬,৬৫৭ জন মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়া হয়েছে। এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি বাঙালি হিন্দু। ছয় লাখের কিছু বেশি বাঙালি মুসলমান। বাকি দুই লাখের মধ্যে রয়েছে বিহারী, নেপালী, লেপচা প্রভৃতি। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাইয়ে ঘোষিত নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাদ পড়েছিল ৪০,০৭,৭০৭ জন। আশ্চর্যের বিষয় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যদের নামসহ অসংখ্য স্বনামখ্যাত ব্যক্তি। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম উঠেনি তারা এখন আর ভারতীয় নন, রাষ্ট্রহীন হয়ে গেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের ভারত থেকে বের করতে আসাম রাজ্যের নাগরিক তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ২০১৩ সালের পর থেকে নাগরিকপঞ্জি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলেও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের নেতৃত্বে আসাম রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০১৬ সাল থেকে তা গতি পায়। আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে ভারতের আশ্বাসের প্রতি বাংলাদেশ বিশ্বাস রাখে।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘২০ অগাস্ট ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি (জয়শঙ্কর) স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং (বাংলাদেশের জন্য) কোনো সমস্যা হবে না।’ একই বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, তাই আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’ আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা তালিকা বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদ্বয় যতই বলুন না কেন এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় আসলে তা কিন্তু নয়। নাগরিকপঞ্জির বিষয়টি বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৮৫ সালে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) ও অল আসাম গণসংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের চুক্তির সময় ঠিক হয়েছিল, ১৯৭১ সালকে ভিত্তিবর্ষ ধরে আসামের নাগরিকত্ব ঠিক করা হবে। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা আসামে গেছে, তারা বৈধ নাগরিক নয়। তারপর ধীরগতিতেই এই প্রক্রিয়া এগিয়েছে। ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও আসু’র মধ্যে আবার একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় এই নাগরিক তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৯ সালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সংস্থা এ কাজ শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে। নাগরিকত্বের সংজ্ঞা ও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টেই ৪০টিরও বেশি শুনানি হয়েছে। তাদেরই নির্দেশে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিধানসভায় ভোটে লড়েছিল বিজেপি। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) সভাপতি দীপাঙ্ক নাথের দাবি করেছেন যাদের নাম বাদ গেছে তাদের বাংলাদেশে অথবা অন্য রাজ্যে পাঠাতে হবে। আসামে থাকতে দেয়া হবে না। ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিজেপির অন্যতম মুখ্য নেতা আসামের অর্থ-স্বাস্থ্য-পূর্তমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলা হবে। ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলব এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নিতে বলব। কিন্তু যতদিন ফিরিয়ে না নেয়া হচ্ছে, ততদিন আমরা তাদের ভোটাধিকার দেবো না, তবে বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ভারতের বন্ধু। তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। বিদেশি বিতাড়নে নাগরিকপঞ্জি সফল হয়নি, সেজন্য বিদেশি বিতাড়ন করবার ‘নতুন চিন্তাধারা’ করা হচ্ছে।’ ‘বাংলাদেশিদের বহিষ্কার করতে নাগরিকপঞ্জি কোনো কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, ফাইনাল নয়। অপেক্ষা করুন, আপনারা বিজেপির শাসনে আরও ফাইনাল দেখতে পাবেন’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখের মধ্যে ১১ লাখ হিন্দু হওয়ায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘শিব-দুর্গা-কালীকে যারা পুঁজো করেন তারা কখনও “বিদেশি” হতে পারেন না। তারা ভারতীয়। আর এই ভারতীয়দের নাম ছেঁটে যদি নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয় তাহলে সেটা কোনোভাবেই জাতির দলিল হবে না।’ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আসামের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। তাদের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় হিন্দুদের নাম বেশি বাদ দেয়া হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে আন্তঃরাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ জেলায় পূর্ণদিবস বন্ধের ডাক দেয়া হয়েছে। সারা আসাম হিন্দু বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন, ‘গৈরিক ভারত’সহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দাবি করেন নাগরিকপঞ্জি ত্রুটিপূর্ণ। কারণ তালিকা থেকে থেকে বাদপড়া ১৯ লাখের মধ্যে ১১ লাখই হিন্দু। ভারতের আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘নাগরিকপঞ্জির মধ্য দিয়ে ওরা মুসলিমদের তাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু মুসলিমদের নাম থাকল, আর হিন্দুদের নামই বাদ পড়ে গেল।’ আসামে বাঙালিদের অন্যতম মুখ ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালিদেরই টার্গেট করা হচ্ছে বলে মনে করছেন। বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও তাত্ত্বিক এবং রাজ্যসভার সদস্য ড. সুব্রামানিয়াম স্বামী ২০১৮ সালে বলেছিলেন, ভারতের উচিত বাংলাদেশ দখল করে নেয়া। আর ২০১৯-এর আগস্টে তিনি তথাকথিত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের দোহাই দিয়ে খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত ভারতকে দিয়ে দেয়ার আব্দার জানিয়েছেন। ভারতের জাতীয় স্তরের এবং আসাম রাজ্যের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশকে লক্ষ্য করেই নাগরিকপঞ্জি করেছে। নিজেদের ১৯ লাখ নাগরিককে অনাগরিক ঘোষণা করে রাষ্ট্রহীন করে দিয়েছে। এখন এই ১৯ লাখ লোক নিজ দেশেই ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত হবে। সকল নাগরিক অধিকার এবং ভোটাধিকার বঞ্চিত হবে। ২০২১ সালে আসাম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ১১ লাখ হিন্দুর নাম তালিকাভুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করেছে বিজেপিসহ অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনসমূহ। ভিন্ন মতাদর্শী হিন্দুসহ ৬ লাখ বাংলাভাষী মুসলমানকে বিদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করবে। বাকী ২ লাখ অবাঙালি, নেপালী, লেপচাদেরও হয়ত অন্য রাজ্যে পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হবে। রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র অসমীয়া জাতীয়তাবাদী কার্ড খেলবে বিজেপি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের চিহ্নিতকরণ, ভোটাধিকার রদ, এবং নির্বাসনের দাবিতে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং অল আসাম গণসংগ্রাম পরিষদের ছয় বছর ব্যাপী যে সহিংস রক্তাক্ত ‘বাঙালি খেদাও আন্দোলন’ চলেছিল এবার সে আন্দোলন পরিণত হবে ‘বিদেশি খেদাও আন্দোলনে’। ফলশ্রুতিতে এতদ অঞ্চলে নেমে আসবে ঘোর সাম্প্রদায়িক অশান্তি। সুতরাং নৈশকালীন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার মন্ত্রী বাহাদুররা আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকে যত হালকাভাবে নেন না কেন বিষয়টি তত হালকা নয়। বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তে সৃষ্ট হওয়া নতুন এই ইস্যু ছাড়াও ভারতের সাথে বাংলাদেশের অনেক অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ভারত সরকারের গড়িমসি এবং দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বণ্টনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন ফর্মুলার কথা তুলে ধরেছেন। একতরফাভাবে ফেনী নদী থেকে পানি নেয়ার বিষয়টি ভারত আলোচনায় আনার চেষ্টা করছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী কর্তৃক সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল মনোভাবের কারণে গুরুত্বহীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভারত প্রত্যাশিত ভূমিকা নিচ্ছে না। তারপরও বাংলাদেশ আগ বাড়িয়ে ভারতের সকল চাওয়া পূরণ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ঠিক থাকলে ছোটখাটো সমস্যা বড় হয়ে ওঠে না। মিটমাট হয়। কিন্তু সম্পর্ক ঠিক না থাকলে ছোট সমস্যাও বড় হয়ে ওঠে।’ যদিও এটা একটা ‘বাজে’ উদাহরণ তারপরও বলতে হয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুখী দম্পতির নয়। বর্তমান সরকারের ভারতের প্রতি একতরফা প্রেম বাংলাদেশকে শুধুই বঞ্চিত করবে। ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী ও করপোরেট পুঁজির ধ্বজাধারী সরকারের ‘বড় ভাই’সুলভ আচরণ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে আধিপত্যবাদের সাথে অশান্তিকেও বিস্তৃত করবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..