বন্যায় সারাদেশে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : দেশব্যাপী চলমান ভয়াবহ বন্যায় ২৮টিরও বেশি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলাসমূহে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতাসহ বন্যার্ত মানুষের জন্য ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি গত ২৮ জুলাই ২০১৯, রবিবার দেশব্যাপী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোহেল আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন, আরিফুল ইসলাম নাদিম, কল্লোল বণিক প্রমুখ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে সোহেল আহমেদ বলেন, বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের সীমাহীন উদাসীনতা মানবিক বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। সরকারের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই বিপর্যয় আরো বাড়ছে। বানভাসী মানুষদের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এই বানভাসী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলসমূহকে বন্যাদুর্গত অঞ্চল ঘোষণা করে, বন্যা পরবর্তী বানভাসী মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা বলেন, বানভাসি মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের অপর্যাপ্ততা মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে এনজিও ঋণের কিস্তির চাপ। বানভাসী মানুষ যখন নিজের ভিটে-মাটি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে কোনোভাবে আধপেট খেয়ে জীবন পার করছে তখনও রক্তচোষা ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়কারীরা তাদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তির জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে বন্যাদুর্গত অঞ্চলসমূহে বন্যা পরবর্তী ৬ মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, বন্যা প্লাবিত অঞ্চলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই রোগসমূহ মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। তাই অবিলম্বে বন্যা প্লাবিত অঞ্চলের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এই অঞ্চলসমূহে পর্যাপ্ত বিনামূল্যের ওষুধ সরবরাহের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দেশ একদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে অপরদিকে লুটপাটের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে তলানীতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। সর্বগ্রাসী এই লুটপাট শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে এই বানভাসী মানুষের ত্রাণেও ভাগ বসাচ্ছে। এই বানভাসী মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বরাদ্দে অনিয়ম-লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। পঞ্চগড় (বোদা) : পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্র ঘোষিত স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদানপূর্ব সমাবেশে আব্দুল বাসেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগটনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পঞ্চগড় জেলা সভাপতি আশরাফুল আলম, মিনু বালা, শাহ আলম, বিউটি মর্মু প্রমুখ।

লালমনিরহাট (হাতিবান্ধা) : লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৬ দফা দাবিতে ক্ষেতমজুর সমিতি স্মারকলিপি প্রদান করে। মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে স্মারকলিপি প্রদানপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম, হাতিবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন লালমনিরহাট জেলা আহ্বায়ক তপন কুমার প্রমুখ। কুড়িগ্রাম (সদর) : বন্যায় বানভাসী মানুষের ৬ দফা দাবিতে কুড়িগ্রাম জেলা ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্র ঘোষিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একটি মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যারয়ের সামনে এসে সমাবেশ করে। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি উপেন্দ্রনাথ রায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক আখতারুল ইসলাম রাজু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুব্রতা রায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মাহাবুবুর রহমান মমিন। সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান ক্ষেতমজুর সমিতি কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য প্রদীপ কুমার রায়। কুড়িগ্রাম (উলিপুর) : কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যা দূর্গত মানুষদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে উপজেলা ক্ষেতমজুর সমিতির আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, উপজেলা ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক বিশ্বজিৎ সিং বাপ্পা, ক্ষেতমজুর নেতা মিজানুর রহমান, ফজলুল হক প্রমুখ। সমাবেশ থেকে বন্যায় মানুষ মরে, সরকার কি করে এই প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, বন্যায় দেশের ২৪টি জেলার কোটি মানুষ পানিবন্দি। নিরন্ন অসহায় জীবন কাটাচ্ছে, সরকার এই ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষনা করা দুরের কথা শতাধিক প্রাণহানীর ঘটনাকেও আড়াল করতে চাচ্ছে। এ সময় তারা, বন্যা দূর্গত মানুষদের স্থায়ী পূর্নবাসন, বন্যার্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রান সহযোগিতা করা, বন্যা আক্রান্ত জেলা-উপজেলাসহসমূহকে বন্যা দূর্গত অঞ্চল ঘোষনা করা, ত্রানের অনিয়ম,লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ করা, বন্যা আক্রান্ত মানুষদের বিশেষ চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা, বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চলসমূহে ৬ মাসের জন্য এনজিও লোনের কিস্তি উত্তোলন বন্ধ ঘোষনা করার দাবী জানান। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। গাইবান্ধা (সদর) : পর্যাপ্ত ত্রাণ বন্যার্দুগত অঞ্চল ঘোষণাসহ ৬ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি গাইবান্ধা জেলা স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানপূর্ব মিছিল সমাবেশে ইমদাদুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য

রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান মৈশাল, জেলা ক্ষেতমজুর নেতা তপন চন্দ্র দেবনাথ, মাহাবুব আলী, আদম আলী, মঈনউদ্দিন, ছাত্রনেতা ওয়ারেজ সরকার প্রমুখ। গাইবান্ধা (পলাশবাড়ি) : গাইবান্ধা জেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা ও পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্র ঘোষিত স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলায় পালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদানপূর্ব মিছিল সমাবেশে রমজান আলী রাজার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সভাপতি একরাম হোসেন বাদল, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আ. মান্নান মেখ, উপজেলা সিপিবির সম্পাদক আবদুল্লাহ আদিল নান্নু, সংগঠনের উপজেলা নেতা ইয়াদুল ইসলাম সাজু, ইসমাইল হোসেন তারা মিয়া, ছাত্রনেতা আ. ওয়ারেছ, আতিকুর রহমান প্রমুখ। গাইবান্ধা (সাঘাটা) : গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পিপুল ইসলামের নেতৃত্বে বন্যার্ত মানুসের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত ৬ দফা দাবির স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, রোকন আহমেদ প্রমুখ। গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ) : রেজাউল করিম সুইটের নেতৃত্বে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গাইবান্ধাকে বন্যাদুর্গত অঞ্চল ঘোষণার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যোগেশ্বর বর্মন, আব্দুল করিম প্রমুখ। বগুড়া (ধুনট) : ক্ষেতমজুর সমিতি বগুড়ার ধুনট উপজেলার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোঘণা ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তাসহ ৬ দফা দাবিতে গতকাল রোববার সকালে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন– ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাহা সন্তোষ, ধুনট উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিভূতী ভূষণ শীল, শামসুল হক ভোলা, সামছুর রহমান প্রমুখ। মাগুরা : বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্র ঘোষিত বন্যার্তদের ৬ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক বিরেন বিশ্বাস, জেলা ক্ষেতমজুর নেতা নিমাই বিশ্বাস, বলই শীল, উষা শিকদার প্রমুখ। খুলনা : বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গোলদারের নেতৃত্বে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে বন্যার্তদের ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- মুস্তাইন গাজী, প্রণব গোলদার, নিত্যানন্দ ঢালী, দেলোয়ার হোসেন, লুৎফর রহমান প্রমুখ। পটুয়াখালী (বাউফল) : সোবাহান লিগাবানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বাউফল উপজেলায় কেন্দ্র ঘোষিত বন্যার্ত মানুষের ৬ দফা দাবিতে সমাবেশ-মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ক্ষেতমজুর নেতা আকন্দ সাহাবুদ্দিন, স্বপন সাহা, মানিক খান প্রমুখ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..