একতা

অব্যাহত থাকুক একতা’র অগ্রযাত্রা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাজেকুজ্জামান রতন: তথ্য প্রবাহ অবাধ বলে দাবি করলেও যুক্তির প্রবাহ যে বাধাগ্রস্থ তা আমরা দেখছি প্রতিনিয়ত। যুক্তিহীন উপস্থাপনা, বিশ্লেষণহীন বর্ণনা আর দিক নির্দেশনাহীন সংবাদ পরিবেশনার এই যুগে সাপ্তাহিক ‘একতা’ এক ব্যতিক্রমী পত্রিকা। জনপ্রিয় পত্রিকা বলতে যা বোঝায় ‘একতা’ সে ধরনের পত্রিকা নয়। যেসব পত্রিকা বিচিত্র তথ্য পরিবেশন করে, যেসব তথ্য পাঠককে ভাবতে এবং বিশ্লেষণ করতে শেখায় না, সংবাদ তখন সচেতনতা বাড়ায় না, তা মুখরোচক আলোচনার খোরাক জুগিয়ে পাঠক প্রিয় হতে পারে এবং সে ধরনের পত্রিকা দেশে অনেক আছে। এসব পত্রিকার ভীড়ে ‘একতা’কে খুঁজে পাওয়া যাবে না। জনপ্রিয় পত্রিকার বাইরে জনগণের পত্রিকা হিসেবে ‘একতা’ তাঁর যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ‘একতা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা। তথ্য প্রবাহের এই যুগে মানুষ জানতে পারছে অনেক কিছুই কিন্তু যুক্তিটা ধরতে পারছে কতটা তা প্রশ্নসাপেক্ষ। খবর জানার এবং জানানোর গুরুত্ব স্বীকার করেও বলতে হয় কোনো ঘটনার খবর জানাটাই যথেষ্ট নয়। অনেক খবর রাখে এবং প্রচুর তথ্য জানে, জানার কিছুটা অহমিকা লালন করে এমন মানুষ সমাজে কম নয়। ঘটনার কার্যকারণ না বুঝলে মানুষ তথ্য ভারাক্রান্ত হতে পারে কিন্তু সচেতন যে হতে পারে না তা চারপাশে তাকালে বুঝতে অসুবিধা হয় না । সে কারণেই তথ্য জানা যত জরুরি তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা অর্জন তাঁর চেয়েও জরুরি। তা না হলে তথ্যের শক্তিকে কাজে লাগানো যায় না। এ কাজ তো সবাই করবে না। সমাজের প্রতি দায় স্বীকার করে যে অল্প কয়েকটি পত্রিকা ঘটনার কার্যকারণ, ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির দায়িত্ব পালন করে আসছে ‘একতা’ তাদের অন্যতম। বন্যায় ডুবে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, কৃষকের বাড়ি ঘর, ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তা- বাঁধ, দাম বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের, শোনা যাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটের পদধ্বনি এসব সংবাদ জানানোর এবং তথ্য পরিবেশনার মুন্সিয়ানা সম্পন্ন পত্রিকার অভাব নেই বাংলাদেশে। কিন্তু এসব সংকটের কতটা প্রাকৃতিক আর কতটা মানুষের লোভ এবং শোষণের ফলে সৃষ্ট তা বুঝানোর পত্রিকা কোথায়? উন্নয়নের চমক আর লুণ্ঠনের তীব্রতা কি হাত ধরেই চলবে? জিডিপি বৃদ্ধির ঢোলের শব্দে কি চাপা পড়ে যাবে বৈষম্যের বেদনা? সাম্প্রদায়িকতার পরিচর্যা আর মুক্তিযুদ্ধের আবেগের প্রচার কি একসাথে চলতে পারে? রপ্তানি বৃদ্ধির উচ্ছ্বাস প্রকাশের আড়ালে কি হারিয়ে যাবে শ্রমিকের মজুরি হারানোর কান্না? শিক্ষার মানের অবনমন আর শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি কি সমানতালেই চলতে থাকবে? ডাক্তার নার্সের স্পর্শের চাইতে সহজ হয়ে দাঁড়াবে মৃত্যুর শীতল স্পর্শ? ধান ফলানো কৃষকের দাম না পেয়ে হাহাকার কেন সাড়া জাগায় না শাসকের মনে? এ রকম অসংখ্য সহজ প্রশ্নের যথার্থ উত্তর কোথায় পাওয়া যাবে? প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার আর উত্তর খোঁজার দায়িত্ব নিয়েই ‘একতা’র মতো পত্রিকার জন্ম এবং পথ চলা। ফলে ‘একতা’ শুধু পত্রিকা নয় এক জনমত প্রচারক এবং সংগঠক। মানুষের প্রাচুর্য ও দারিদ্র্যের জন্য কে দায়ী? অদৃষ্ট না শোষণ? লুণ্ঠন এবং শোষণের সাথে ক্ষমতার যোগসূত্র খুঁজে বার করা ও এর অবসান ঘটানোর জন্য যে সংগ্রাম চলছে সেই সংগ্রামে যুক্তির হাতিয়ার নিয়ে ‘একতা’ দাঁড়ায় মানুষের পাশে। ‘একতা’র নিরপেক্ষ হওয়ার ভান করার দরকার নেই। সে যে মেহনতি মানুষের পক্ষে সে কথাই ঘোষণা করুক বারবার। মুষ্টিমেয় ক্ষমতাসীন শোষক আর অসংখ্য ক্ষমতাহীন শোষিত মানুষের এই নিরব অথচ নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ে ‘একতা’ থাকুক তাঁর সর্বোচ্চ সাধ্য নিয়ে। অব্যাহত থাকুক ‘একতা’র অগ্রযাত্রা। লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাসদ

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..