মুক্তিযুদ্ধ

মানবক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

পঙ্কজ ভট্টাচার্য: শিশুটি হাঁটছে তো হাঁটছেই। বালু নদীর ধার ঘেঁষে, কায়েত পাড়ার পথ ধরে। ছেঁড়া গেঞ্জি আর সবুজ হাফপ্যান্ট পরনে। বয়স বড়জোর সাত কি আট। শ্যামলা রঙ, কালো চকচক-করা দুটি বড় বড় চোখ; গোলগাল মুখ– সব মিলিয়ে এক মায়াবী আদল। কান্না শেষের দাগ দু’গালে, চোখ তার অনেক দূরে – দিগন্তে নিবন্ধ। মুগ্দাতে বাড়ির পর বাড়িতে, পাড়ার পর পাড়ায় আগুনের দাউদাউ শিখা লক্লকিয়ে উঠছে। গুলির শব্দ আর কান্নার কোরাস। ওদিকে তাকিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠলো শিশুটির ছোট্ট দেহখানি। আবার পথচলা। শেষ নেই এ চলার। চলছে মানুষের কাফেলা। শহর থেকে গ্রামে, এপার থেকে ওপারে। ছুটছে মরিয়া হয়ে, গুচ্ছ গুচ্ছ নরনারী শিশু। ৩০ শে মার্চ, ১৯৭১ সাল। পাঁচ দিন আগে ঘটেছে গণহত্যার ঘটনা। কালো রাতের তা-ব। তারপরও কার্ফুর মধ্যে চলেছে গুলি-হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজ-আগুন-ধ্বংসলীলা। আজ এখানে। কাল ওখানে। ছোট-বড় দলে পথ চলা, মাথায় কাঁধে শেষ সম্বল আঁকড়ে ধরে পথ চলার এ অভিযাত্রায় শিশুটি এক বিস্ময়কর ব্যতিক্রম। দলছুট, একা, খালি হাত, নিঃসঙ্গ। ঘুমের ঘোরে হাঁটছে যেন এক দেবদূতশিশু। বালু নদী যেখানে মিশেছে শীতলক্ষ্যার শীতল বুকে চনপাড়ার পথে, শিশুটিকে আবার দেখলাম। সূর্য তখন মাঝ-আকাশে। চৈত্রের দাবানল। ছেলেটিকে কাছে ডাকলাম। ধ্যানভঙ্গ শিশুটি মুখ তুলে তাকালো। কাছে এলো গুটিগুটি পায়ে, খালি পা। মুড়াপাড়ার খেয়াঘাটের কাছে, নদীর ধারে। পারাপারের অপেক্ষায় শত শত নরনারী শিশু। শিকড় উপড়ে-ফেলা অনেক পরিবার ছুটছে নতুন বাস্তুভিটার সন্ধানে, ওরা সবাই যে বাস্তুহারা। অপেক্ষমাণ শিশুটি আর আমি দু’জনেই একা একা, সঙ্গীহীন। কাঠফাটা রোদে এক দুর্লভ বৃদ্ধবটের ছায়া আমাকে চুম্বকের মতো টানলো। শিশুটিকে ছায়ায় বসতে বললাম। রোদে পুড়ে স্ফুটনোন্মুখ ফুলটির মতো মিইয়ে পড়েছে শিশুটি। পকেট থেকে বিস্কুটের প্যাকেটটি মেলে ধরলাম তার দিকে, বললাম ‘খাও’। প্রথমে তার চোখে মুখে ফুটে উঠলো সংকোচের বিহ্বলতা, পরক্ষণেই ক্ষুধাকাতর দু’টি চোখ চিক্চিক্ করে উঠলো। আবার বললাম ‘নাও’। এবার হাত পেতে নিলো। দেখলাম ক্ষুধার্ত শিশুটির গপাগপ্ খাওয়া এক নাগাড়ে, এক নিঃশ্বাসে, বিরতিহীন। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর শুরু হলো সংলাপ পর্ব– ‘কী নাম তোমার?’ ‘আবু, আবু মিয়া।’ ‘বাড়ি কেথায়?’ ‘রামচানপুর’ (রামচন্দ্রপুর)। ‘কোন জেলা?’ ‘কুমিলা’ (কুমিল্লা)। ‘কোন থানা বলতে পারো?’ ‘দাদ্কান্দি’ (দাউদকান্দি)। ‘ঠিক আছে, এবার বল তো তুমি কোত্থেকে আসছিলে?’ নিমিষেই সপ্রতিভ কঁচি মুখটি এক পোঁচ কালো মেঘে ঢেকে গেল, ক্ষণিক গুমোট আর নীরবতা। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জবাব দিলো বিলম্বিত লয়ে– ‘নান্ গন্জো’ (নারায়ণগঞ্জ)। এবার প্রশ্নকর্তার বিস্ময়ের পালা, জিহ্বা হতবাক দশা। মানসাঙ্ক কষছিলাম চোখ বুঁজে। প্রায় ৯ ঘন্টা হেঁটেছে শিশুটি– পাড়ি দিয়েছে ২৮ মাইল এবং পূর্ণবয়স্ক মানুষের গতিতে। বিস্ময়ের ঘোর ঝেড়ে ফেলে প্রশ্ন করলাম, ‘বেশ বাহাদুর ছেলে তো তুমি। নারায়ণগঞ্জ থেকে একলা এলে কেন, যাবে কোথায়?’ প্রচণ্ড ফোঁপানি, পরে শিশুকণ্ঠের বিলম্বিত কান্না, তারপর বুকফাটা আর্তনাদ এবং শেষে নিশ্চল নিঃসাড় অচেতনতা। রুমাল নদীতে ভিজিয়ে চোখে মুখে ডলতেই চোখ মেলে তাকালো– আমার মুখ ছাড়িয়ে শিশুটির দৃষ্টি আকাশে ডানা মেলেছে। রহস্যের ঘোমটা খুলতে কসরত শুরু করলাম। বললাম, ‘আবু মিয়া, তুমি তো বেশ সাহসী ছেলে, তুমি এত মাইল একটানা হাঁটলে কী করে? নারায়ণগঞ্জে তোমার কে আছে?’ শিশু আবু মুখ খুললো, পরে ভাঙা টুকরাটাকরা কথা, ক্রমশ রহস্যের বস্ত্রহরণ পালা। খোলস ফুঁড়ে প্রকাশ পেল এক সাদামাটা কাহিনী, আর দশটা কাহিনীর মতোই। কুমিল্লার রামচন্দ্রপুরে বাড়ি ছিল আবুদের। মা-বাবার সাথে থাকতো সেখানে। ঘর ছিল একচালা টিনের, কয়েক ‘পাখী’ চাষের জমি ছিল। বন্যা আর মেঘনার ভাঙনে কিছু জমি নদীর পেটে আর বাদবাকি ঋণের দায়ে মহাজনের পেটে গেছে। অনাহার অনটনের মধ্যে একদিন চাঁন মিয়া বৌ-সন্তানকে রেখে নিরুদ্দিষ্ট হয়। বছরখানেক আগে মায়ের হাত ধরে ট্রেনে গাদাগাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জেও পৌঁছেছিল আবু। মা পরীবানু আবুকে নিয়ে স্টেশনের প্লাটফরমের এক কোণায় ঠাঁই নিয়েছিল, ক্ষিদের জ্বালায় আবু একসময় কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়েছিল, ঘুম ভাঙলো ফিসফিসানি আওয়াজে। পরীবানুর সাথে এক মাঝবয়সী লোকের কথা হচ্ছিল। পরে জেনেছিল লোকটির নাম কালামিয়া। ঢ্যাঙ্গা চেহারার কোঁকড়া চুলের মানুষটি আবুর মার সাথে জিব চুকচুক করা দরদ নিয়ে কথা বলছিল। আবু শুনছিল। পরীবানু এক পর্যায়ে কালামিয়াকে বলে, ‘না মিয়া, আর সংসার চাই না, মন উইঠ্যা গেছে। আবুরে বাঁচাতে চাই, তাই শহরে আইছি।’ কালামিয়া আশ্বাস দিয়ে বলেছিল, ‘আবু আমার পোলার মতন থাইকবো, খাওনে পরনে কোনো মুছিবত হইবো না। আমার বউও নাই, পোলাও নাই, চল আমার লগে থাকবা।’ পরদিন কালামিয়ার বস্তির বাড়িতে পরীবানু আবুকে নিয়ে উঠেছিল। শুরু হয় নতুন সংসার। অনুমান করি, প্রায় বছরখানেকের এই নতুন সংসারে পরীবানুর নবজন্ম ঘটেছিল। বাইশ বছরের শ্যামলা একহারা পরীবানু পরীর ডানায় ভর দিয়ে যেন উড়তো, চপলা কিশোরীর মতো বস্তিঘরের চারপাশে ঘরকন্নার কাজে ছুটাছুটি করতো। কাজকর্ম সেরে ছেঁড়া ছটের আড়াল ঘেরা গোছলের জায়গায় ঘটি ঘটি পানি ঢেলে গা মাজতো সুগন্ধি সাবান দিয়ে আর গুনগুনিয়ে গাইতো। সন্ধ্যায় অনেকক্ষণ সাজগোজ করতো, তারপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো ইষ্টিশনের দিকে–রেলের

কুলি কালামিয়ার ফেরার পথের পানে। কালামিয়া কাজের শেষে প্রতিরাতে ছুটতে ছুটতে আসে। তারপর হাসাহাসি, মশ্করার ফোয়ারা, এবং জাপটা-জাপটিতে দু’জনে দু’জনকে হারিয়ে এক সময় একক হয়ে উঠতো। আবু কখনও সহজ হতে পারে নি, সহজে মেনে নিতে পারে নি উড়ে এসে জুড়ে বসা কালামিয়াকে। বিশেষত কালামিয়া-পরীবানুর সম্পর্কটিকে। মা পরীবানুকে কালামিয়া দখল করে নিয়ে নেবে এটা আবু মেনে নিতে পারে নি। বিস্কুট, লজেঞ্জুস ও খেলনা জুগিয়েও কালামিয়া আবুর মন পায়নি। অন্যদিকে পরীবানু সোহাগে আদরে আবুকে যতই কাছে টানতে চেয়েছে আবু ততই শামুক-কু-লী পাকিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। মা ও ছেলের মাঝখানে কালামিয়া এভাবে দেয়াল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সে-দেয়াল এভাবে ধসে যাবে, স্টেনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাবে, একথা স্বপ্নেও ভাবেনি আবু। কালামিয়ার রক্তাক্ত নিথর লাশটির উপর আছড়ে পড়ে আর্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছিল শিশু আবু – ‘বাবা গো, আমার বা আ-আ...বা’ বলে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল কী কারণে তা আবু জানে না। আবুর মুখে এই প্রথম পিতৃসম্বোধন এবং শোকের মাতম শুনে ক্রন্দসী পরীবানু কান্না ভুলে নির্নিমেষ তাকিয়ে ছিল আবুর দিকে বেশ কিছু সময়, তারপর আবুকে বুকে টেনে নিয়ে আবার বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। রাতটা ছিল একাত্তরের পঁচিশে মার্চ। কালো রাতের বুক চিরে টা টা টরর-টরর, টা টা গর্জে উঠেছিল পাক হায়েনাদের মেশিনগান। এতে কালামিয়া সহ শত শত কুলি-হকার কর্মচারী-দোকানদার-বস্তিবাসী নরনারী শিশু বেঘোরে মারা পড়ে। আবুর কান্না ও ফোঁপানি থেমে গেছে অনেকক্ষণ আগে। কান্না শেষের দাগ দু’গালে স্পষ্ট। আবু আবার মুখ খোলে, স্বগতোক্তির মতো বলে চলে ভাঙা টুকরোটাকরা কথায়। ‘আম্মায় কালামিয়ারে জবর ভাল পাইতো, কোন মিলিটরি কালামিয়ারে গুল্লি মারছে – আম্মায় হক্কলরে হেকথা জিগাইতো। খানাপিনা ভুইলা গত তিন চাইর দিন আম্মায় এপাড়া ওপাড়া ঘুইরা বেড়াইছে আর যারে পাইছে, হেরে জিগাইছে, পোলার খবরও নিছে না।’ আবুর কথকতা থামে আবার শুরুর প্রয়োজনে। চোয়াল শক্ত করে, ঘাড় বেঁকিয়ে, মাটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় আবু বলে, ‘গতকাইল, দোফরে আম্মা হাসপাতালে গেছিল, গুল্লির জখমী খুইজতে। হেইখানে সফর আলীর থনে হুনছে– ক্যামনে কালামিয়া ও তার লগের মানুষজন মইরছে; ঝাঁক ঝাঁক গুল্লি আগুনের ফুলকির মতো– তারপর সব শ্যাষ; সফর আলীও গুল্লি খাইছে, লাগছে হাতে আর পায়, মগর ডরে লাশের লগে হুইয়া আছিলো, হের লাইগ্যা বাইচ্যা রইছে।’ আবু বলে, ‘কাঁনতে কাঁনতে সফর আলী আম্মারে কইছে, কালা মিয়াও তাগো লগে যারা গুল্লি খাইয়া মইরছে তাগো উপরে গুল্লি চালাইছে এক মোটা আর বাইট্যা আর্মি– তার বড় গুফ আছে।’ আবু মাটির দিকে নজর রেখে বলে চলে, ‘হেদিনই আম্মায় আমারে লইয়া কাছারীর ধারে মিলিটারির অফিসে গিয়া হেই মোডা বাইট্যা বেডার খবর লইছে, হেরে পাইছে। কালা মিয়ার লগে আম্মা যেমুন মিঠা মিঠা কথা কইতো, বাইট্যা বেডার লগে তেমুন কথা কইছে। গোঁফওয়ালা বেডায় আম্মার ঠিকানা লইয়া কইছে ‘সাম্মে মুলাকাত হোগা’। আচমকা বলে বসেছি, ‘তারপর?’ খেয়াল করি নি, খেয়াল করে দেখলাম লজ্জায় নুইয়ে পড়েছে আবুর মাথা মাটি বরাবর। বিড়বিড় করে বললো আবু, ‘আম্মায় মাগরেবের নামাজের আগে আমারে বহুত আদর কইরছে, মিঠাই খিলাইছে; পরে গোছল সাইরা ছোনো পাওডার মুখে দিছে, সোন্দর কাপড় পইরছে আর আমারে কইছে আবুরে তুই আম্বিয়ার ঘরে বজলুর লগে খেলা কর। কাইল তোরে লইয়া রামচানপুর তোর নানির বাড়ি যামু।’ বজলুদের ঘরের উঠানে বজলুর সাথে খেলতে খেলতে আনমনা হয়ে পড়ে আবু বারবার। সে নিজের ঘরের দিকে ঘন ঘন নজর রাখছিল। এক সময় দেখলো দু’জন মিলিটরী তাদের ঘরের উঠানে এসে দাঁড়ালো। মোটাটি গলাখাঁকারি দিলো। ঘরের ঝাঁপ সরিয়ে কুপি হাতে এসে হাসিমুখে কী-সব বললো পরীবানু, তারপর বেঁটে সেপাইটিকে হাত ধরে ঘরে ঢুকালো, ঝাঁপ দিল ঘরে। অপর সৈনিকটি স্বভাবতই মধুর এক অপেক্ষার কল্পনায় মাতাল হয়ে থাকলো। এক সময় কুপি নিবে গেল। বন্ধ ঘর থেকে হাসির র্হরা ছুটলো। আবুর চোখে ভেসে উঠলো পরীবানু ও কালামিয়ার হুটোপুটির স্মৃতি। আবুর মন পরীবানুর প্রতি বিষিয়ে উঠলো আবার। এ কী! হঠাৎ পুরুষ কণ্ঠের এক বুক-ফাটা আর্ত চিৎকার, গোঁ গোঁ আওয়াজ। বাইরের সঙ্গী সৈনিকটি তড়িঘড়ি ছুটে গেল, এক ঘাক্কায় ঝাঁপটা সরিয়ে দিয়ে টর্চের আলো ফেললো ভিতরে। রক্তাক্ত দা হাতে পরীর নগ্নদেহ এক ঝলক বিদ্যুৎচমকের মতো দেখা গেল। পরমুহূর্তে সঙ্গী সৈনিকের গুলিতে পরীবানু ঢলে পড়লো, রক্তাক্ত বেঁটে সৈনিকটির লাশের উপর। আবু এক দৌড়ে ছুটে এলো নিজেদের ঘরে; এলো প্রতিবেশীরা। পরীবানুর নগ্ন রক্তাক্ত দেহ আর বেঁটে সৈনিকটির লাশ দেখে জ্ঞান হারালো আবু। জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখে শুয়ে আছে বজলুদের কালীতলার বাসায়। পরে আবু শুনেছে মিলিটারীরা দলেবলে এসে তাদের বস্তিতে পাইকারী গুলি চালিয়ে আর আগুন লাগিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে সেই রাতে, অনেকেই মরেছে, কিছু আহত হয়েছে, বেঁচেছেও কেউ কেউ। কার্ফু উঠে গেলে ভোরে বজলু ও তার বাপ-মা-মামা মুন্সীগঞ্জে রওয়ানা দেয়, আবুকে নিতে চেয়েছিল সাথে। আবু অনুরোধে গলেনি। বারবার একই কথা জবাব দিয়েছে, ‘নানির বাড়ি যামু’। পরীবানু যে বলেছিল আবুকে আজ রামচানপুরে নিয়ে যাবে, নানির বাড়ি যাবে! একসময় বিদায় নিলাম। চললাম দুইজন দুই পথে। দেখলাম আবু হাঁটছে, শ্লথ পায়ে একমনে। অবিচল আবুর পথ চলা, আঁকাবাঁকা পথে। এ চলার শেষ নেই। লেখক : সভাপতি, ঐক্যন্যাপ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..