ব্যক্তিত্ব

বিপ্লবের ঈগল পাখি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

শান্তনু দে : গুলি করে তাঁর লাশ খালে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে শেষ লেখায় জার্মান শাসকদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে তিনি লিখেছিলেন: তোমরা বলছ ‘শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বার্লিনে!’ তোমরা মূর্খ দালাল! তোমাদের ‘শৃঙ্খলা’ বালির উপর তৈরি। আগামীকাল বিপ্লব ‘আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে, বের করবে তার হাতিয়ার,’ এবং তোমাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে শঙ্খনিনাদে ঘোষণা করবে: আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকব! এই ‘আমি’ এখানে বিপ্লব। লাল ঝান্ডা পত্রিকার সম্পাদকীয়তে এই শঙ্খনিনাদের একদিন বাদেই ‘রেড রোজা’র শহীদীবরণ। ভ্লাদিমির লেনিনের কাছে রোজা ছিলেন ‘ঈগলপ্রতিম’। রোজার ভ্রান্তিগুলি লেনিনের কাছে মোটেই অজানা ছিল না। সেইসব ভ্রান্তিকে মনে রেখেই লেনিন বলেছেন, ‘ঈগল কখনও মুরগির চেয়েও কম উচ্চতায় উড়তে পারে, কিন্তু মুরগি কখনও উড়তে পারে না ঈগলের উচ্চতায়।’ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কমরেড ক্লারা জেটকিন যেমন বলেছেন, রোজা ‘ছিল একটি ঝকঝকে তরবারি, সে ছিল বিপ্লবের আগুন। আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রের ইতিহাসে মহত্তম ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে থাকবে রোজা লুক্সেমবার্গ।’ এদুয়ার্দো গালেয়ানোর কথায়, ‘এই তৃষ্ণার্ত সময়ে নির্মল জলের উৎস’। তাঁর কমরেডরা ডাকতেন ‘রেড রোজা’ বলে। প্রাণ দিয়ে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির পতাকা। আমৃত্যু বহন করেছেন প্যারি কমিউনের মহৎ আদর্শ। তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক লড়াই চালিয়েছেন সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে। অসাধারণ মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, আন্তর্জাতিকতাবাদী, বিপ্লবী ও শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামে এক প্রত্যয়ী পার্টিজান। তাঁর শক্তি ও প্রত্যয় শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর হৃদয়ে তৈরি করেছিল আতঙ্ক। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন মহিলা হিসেবে ঝড় তুলেছিলেন বহু দুর্গে। শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শাসকশ্রেণির এজেন্টদের হাতে তাঁর নির্মম হত্যার এক শতাব্দী পরে আজও তাই তিনি অনুপ্রেরণা। লেনিন আর রোজা-বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকে সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অক্লান্ত যোদ্ধা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন। ছিলেন রাশিয়ার বলশেভিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। এই গ্রহের প্রথম সফল সর্বহারা বিপ্লবের নেতা, যিনি একেবারে পিছিয়ে থাকা একটি দেশে শুরু করেছিলেন সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের কাজ। রোজা লুক্সেমবার্গও ছিলেন জার্মানিতে সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে এক নিরলস সংগ্রামী। পোল্যান্ডে জন্মালেও, সন্ত্রাসের কারণে দেশ ছাড়তে হয় রোজাকে, আশ্রয় নেন জার্মানিতে, যেখানে সোস্যালিস্ট-বিরোধী আইন প্রত্যাহারের পর সর্বহারা বিপ্লবের জন্য কিছুটা হলেও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। সেকারণে তিনি যোগ দিয়েছিলেন জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে, জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক আন্দোলনের দাপুটে তাত্ত্বিক বার্নস্টাইন, কাউটস্কির বিরুদ্ধে নিয়েছিলেন বামপন্থি অবস্থান, আর এভাবেই বামপন্থিদের নেতা হিসেবে তাঁর উত্থান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে সোস্যাল ডেমোক্রেসির বিপর্যয়ের পর অন্যান্য কমরেডদের সঙ্গে তিনি সংগঠিত করেন স্পার্টাকাস লীগ, যা থেকে শেষে তৈরি হয় জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি। লেনিন যেমন ছিলেন বিশ্বের প্রথম সফল সর্বহারা বিপ্লবের নেতা, রোজাও তেমন ছিলেন ১৯১৮-তে জার্মান বিপ্লবে বামপন্থিদের একজন দাপুটে নেত্রী। রাশিয়ায় লেনিনের মতো, জার্মানিতে রোজাও ক্লান্তিহীনভাবে সোস্যাল ডেমোক্রেটিক নেতাদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন, যাদের হাতে ক্ষমতা এসেছিল, কিন্তু বাস্তবে যাঁরা সেই রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বুর্জোয়াদের হাতে, একদিন যা কেড়ে নিয়েছিলেন লড়াকু সর্বহারারা। এই একই চেষ্টা রাশিয়াতে অতীতে করেছিলেন মেনশেভিক এবং সোস্যলিস্ট বিপ্লবীরা, কিন্তু লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা তা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। অন্যদিকে, জার্মানিতে বামপন্থিরা নিজেদের সংগঠিত করেছিলেন স্পার্টাকাস লীগে, যা কাউটস্কির মতো ‘মধ্যপন্থিদের’ সঙ্গে দক্ষিণপন্থি সুবিধাবাদে আক্রান্ত সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ছিল একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু অংশ। লেনিন মনে করেছিলেন, যুদ্ধ একটা মারাত্মক সংকট তৈরি করবে, যাতে সম্ভাব্য বিপ্লবী চরিত্র নেবে বাস্তব রূপ, শুধু রাশিয়াতেই নয়, জার্মানি, ইতালি এবং অস্ট্রিয়া-সহ ইউরোপের অন্যান্য প্রান্তেও, যা অতীতে কখনও দেখেনি পশ্চিম ইউরোপ। যদিও তা ঘটেনি। অন্যান্য বিপ্লবী উত্থানগুলিকে দমন করা হয়। লেনিন যদি মেনশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যের বিরুদ্ধে জোরালো লড়াই না চালাতেন, যাদেরকে মোটের উপর জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটদের (এসডিপি) প্রতিরূপ বলা যেতে পারে, তাহলে কী ঘটতো, তা বোঝার জন্য জার্মানির ঘটনা বিশেষ করে শিক্ষামূলক। ১৯০৭, রুশ সোস্যাল ডেমোক্রেটিক দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে লেনিনের সঙ্গে প্রথম দেখা। সেদিন রোজা আর লেনিনের মধ্যে সেই বৈঠকের কোনও রেকর্ড নেই। তবে ইউরোপের বেশকিছু পার্টির মধ্যে সংশোধনবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই নিয়ে দু’জনের মধ্যে সবিস্তার আলোচনা হয়। লেনিনকে অপার শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন রোজা। ক’দিন বাদেই, ওই বছরই আগস্টের ২৪-২৮, জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেস। বেবেল, বার্নস্টাইন, কাউটস্কি, রোজার সঙ্গেই সেই কংগ্রেসের প্রতিনিধি ক্লারা জেটকিনও। ‘কারো চরিত্র বর্ণনায় তাঁর শিল্পী চোখ নিয়ে’ ক্লারাকে দেখিয়ে বলেন, ওই মানুষটাকে দেখো, ‘একবার ভালো করে তাকিয়ে দেখো। উনিই লেনিন। তাকিয়ে দেখো ওই একরোখা, ওই একগুঁয়ে মাথাটিকে। রুশ কৃষকের প্রকৃত মাথা, সঙ্গে অল্পকিছু অস্পষ্ট এশীয় রেখা। ওই মানুষটিই পাহাড়গুলিকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করবে। সম্ভবত, উনি ওদের ভারে গুঁড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কখনও আত্মসমর্পণ করবেন না, বশ্যতা স্বীকার করবেন না।’ রোজার প্রতি লেনিনেরও ছিল খুবই উচ্চ ধারণা। যাকে ভ্লাদিমির ডাকতেন ‘সর্বহারা বিপ্লবের ঈগল পাখি’। ১৯২২, ‘নোটস অব এ পাবলিসিস্টে’ প্রাচীন রুশ প্রবচনকে ব্যবহার করে লেনিন বলেন, ‘ঈগল কখনও মুরগির চেয়েও কম উচ্চতায় উড়তে পারে, কিন্তু মুরগি কখনও উড়তে পারে না ঈগলের উচ্চতায়।’ তারপর যোগ করেন, ‘শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের আঙিনায় গোবরের স্তুপের মধ্যে পল ডেভি, শেইডম্যান, কাউটস্কির মতো মুরগি এবং তাদের সমধর্মীরা মহান কমিউনিস্টদের ভ্রান্তিগুলি নিয়ে শুধুই মুরগির ডাক ডেকে যাবে।’ রোজার ভ্রান্তিগুলি লেনিনের কাছে মোটেই অজানা ছিল না। এইসব ভ্রান্তিকে ছাপিয়েও তিনি ছিলেন জার্মান ও আন্তর্জাতিক সর্বহারা আন্দোলনে মিনারের মতো অত্যুচ্চ ব্যক্তিত্ব। যে কারণে শ্রেণিশত্রুরা তাঁকে হত্যা করে। রোজার ভ্রান্তিগুলি কি ছিল? আবারও আমাদের ফিরে যেতে হবে লেনিনের কাছে। ‘রোজা ভুল করেছিলেন পোল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে, তিনি ভুল করেছিলেন ১৯০৩ সালে তাঁর মেনশেভিকদের প্রশংসায়, তিনি ভুল করেছিলেন ১৯১৪ সালে, যখন প্লেখানভ, গান্দারভেলদে, কাউটস্কি এবং অন্যান্যরা ছিলেন একসঙ্গে, বলশেভিক এবং মেনশেভিকদের মধ্যে ঐক্যের পক্ষে তিনি সওয়াল করেছিলেন, তিনি ভুল করেছিলেন ১৯১৮-তে জেলে থাকার সময় (এইসব ভুলগুলির অধিকাংশই তিনি ১৯১৮’র শেষে এবং মুক্তির পর ১৯১৯ সালের গোড়ায় সংশোধন করেছিলেন)।’ তারপর লেনিন যোগ করেন, ‘কিন্তু তাঁর ভ্রান্তিগুলি সত্ত্বেও তিনি ছিলেন, তিনি আমাদের মধ্যে থাকবেন একটি ঈগলপ্রতিম হিসবে। বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্টরা শুধু তাঁর স্মৃতিকে লালন করবেন না, তাঁর জীবনী ও তাঁর তাবৎ কাজ (যে প্রকাশনার জন্য জার্মান কমিউনিস্টরা মাত্রাতিরিক্ত বিলম্ব করে চলেছেন, যার জন্য তাঁদের গুরুতর সংগ্রামে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির তাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন, সেটা হতে পারে আংশিক অজুহাত মাত্র) বিশ্বজুড়ে বহু প্রজন্মের প্রশিক্ষণের জন্য একটি কার্যকরী ম্যানুয়াল হিসেবে কাজ করবে।’ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত সর্বহারার বিপ্লবী পার্টির প্রয়োজন, লেনিনের এই তত্ত্বের বিরোধিতায় রোজাই প্রথমে এগিয়ে আসেন। তিনি তখনও সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির দ্বারাই প্রভাবিত, যারা কেন্দ্রিকতাকে ক্ষতিকারক বলেই মনে করতো। যদিও জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির দক্ষিণপন্থি নেতৃত্বের সুবিধাবাদ এবং সংসদীয় বিকৃতির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই থেকে এই বিষয়টি তাঁকে সরিয়ে আনতে পারেনি। আর সেই জন্যই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার পার্টির দক্ষিণপন্থি নেতাদের বিশ্বাসঘাতককতাকে বুঝে উঠতে, তাদের সাথে বিচ্ছেদ ঘটাতে এবং লেনিন ও তাঁর কমরেডদের সঙ্গে মিলে তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে তিনি সমর্থ হয়েছিলেন। এই বিতর্কে লেনিন সঠিক বলেই প্রমাণিত হয়েছিলেন, যাকে কিনা দু’টি ভাগে দেখা যেতে পারে। প্রথমত, রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি দক্ষিণপন্থি সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সোস্যাল ডেমোক্রেটদের বিপুল অংশকে ও সর্বহারা বিপ্লবীদের জয় করে আনতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং কৃষক ও সেনা জওয়ান জনগণের সঙ্গে মিলিতভাবে সামন্ত্রতন্ত্র-বিরোধী ও বুর্জোয়া-বিরোধী বিপ্লব সফল করেছিলেন। লেনিনের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত নেতৃত্বই ফেব্রুয়ারির বুর্জোয়া বিপ্লবকে ১৯১৭-র নভেম্বরে সর্বহারার বিপ্লবে রূপান্তরিত করতে সফল হয়েছিলো। দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার বিপ্লবের এক বছরের মধ্যে ১৯১৮ সালে জার্মান বিপ্লব সম্পন্ন হলেও দক্ষিণপন্থি সুবিধাবাদীরা সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ কমরেডদের নিজেদের সাথে নিয়ে চলতে সমর্থ হয়েছিল এবং বুর্জোয়াদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। লেনিনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত একটি পার্টি ছিলো বলেই রাশিয়ায় সর্বহারার বিপ্লব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল; আর জার্মানিতে এমন একটি পার্টির অনুপস্থিতির কারণেই শ্রমিক ও সেনা জওয়ানরা যে ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, তা বুর্জোয়াদের হাতে ফিরে গিয়েছিলো-এক প্রতারণার চরম পরিণতিতে রোজা লুক্সেমবার্গ এবং কার্ল লিবনেখটকে খুন হতে হয়েছিল। লেনিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে রোজা লুক্সেমবার্গ সমালোচনা করেছিলেন সেটা হলো, ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই লেনিন সাংবিধানিক পরিষদের (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি, যা নভেম্বর বিপ্লবের ফসল হলেও তাকে বিপ্লবের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা শুরু হয়েছিলো) বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। ঘটনা হলো, জেলে থাকার সময় রোজা এনিয়ে লেখেন, যেখানে তিনি কোনও যথার্থ বাস্তব তথ্যই পেতেন না। যখন তিনি জেল থেকে বের হন এবং জার্মান বিপ্লবের কি দশা হয়েছে তা দেখেন, তখন তিনি রাশিয়ার সাংবিধানিক পরিষদের জার্মান প্রতিরূপের সমালোচনা করে পর পর এক গুচ্ছ প্রবন্ধ লেখেন। ১৯১৮ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ১৯১৯ সালের ১৪ জানুয়ারির মধ্যে লেখা এই প্রবন্ধগুলির মধ্যে দিয়েই রোজা লুক্সেমবার্গের প্রকৃত বিপ্লবী চরিত্রটি আমাদের সামনে উঠে আসে। সাংবিধানিক সভা ভেঙে দেওয়ার বলশেভিক উদ্যোগের এক সমালোচক এভাবেই রাশিয়ার সাংবিধানিক সভার জার্মান প্রতিরূপের তীক্ষè সমালোচক হয়ে উঠলেন। নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কিভাবে লেনিনবাদের দিকে তাঁর অবস্থান বদলে গেলো তা এই ঘটনার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরো দু’টো প্রশ্নে রোজা লেনিনের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করতেন। সোস্যাল ডেমোক্রেসির কৃষি বিষয়ক কর্মসূচি এবং জাতি বিষয়ক প্রশ্নে। যা তিনি কখনই সংশোধন করেননি। ভূস্বামী এবং বুর্জোয়া শ্রেণির বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষের ঐক্যের লেনিনবাদী লাইনের বিরোধিতা তিনি বজায় রেখেছিলেন। শোষিত জাতিই যে আন্তর্জাতিক সর্বহারার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র, এই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী লাইনের বিরুদ্ধেও তিনি মীমাংসাহীন বিরোধিতা জারি রেখেছিলেন। তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই ত্রুটিগুলো অসংশোধিত থাকলেও, বিশ্বের সমস্ত সর্বহারা বিপ্লবীর কাছে রোজা বরাবর অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবেই রয়ে গিয়েছেন-এক ঈগল পাখি, যে উড়ে বেড়ায় গোটা আকাশ জুড়ে। লেখক : সাংবাদিক, গণশক্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..