পরিবেশ

মার্কসীয় পরিবেশভাবনা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন : পরিবেশ নিয়ে সারা বিশ্বে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফার গ্রাসে পরিবেশ আজ বিপন্ন। ধরিত্রী উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, জলবায়ু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পুঁজিবাদের ভোগ-বিলাসের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গরিব মানুষ। পরিবেশের বিপণ্নতায় প্রাণের অস্তিত্বও আজ হুমকির মুখে। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে শক্তিশালী পরিবেশ আন্দোলন গড়ে ওঠে। তখন থেকেই মার্কসীয় পরিবেশভাবনা গুরুত্ব পেয়ে আসছে। ‘বিশ্বপরিবেশগত সংকটে’র পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে মার্কসবাদী চিন্তার মূল্যায়ন শুরু হয়। পরিবেশ বিপর্যয়কে পুঁজিবাদের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে মার্কসের অবদান বিশেষ গুরুত্ব পেতে থাকে। পরিবেশ সম্পর্কিত মার্কসীয় চিন্তাভাবনার যে নতুন মূল্যায়ন বিংশ শতাব্দীর আশির দশক থেকে শুরু হয়েছে, তাকে ‘ইকো-সোশালিজম’ বা ‘পরিবেশ-সমাজতন্ত্র’ বা ‘পরিবেশ-মার্কসবাদ’ বলা হয়ে থাকে। সমসাময়িক পরিবেশভাবনা মার্কসবাদের কাছে অনেকটাই ঋণী। মার্কসবাদের প্রবক্তা কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস (১৮২০-১৮৯৫)-এর সময়কালে পরিবেশ সংক্রান্ত আলোচনা বর্তমান সময়ের মতো এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তাঁদের পরিবেশভাবনা ছিল তাঁদের সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রসর, যা পরিবেশবাদীদের ঋদ্ধ করেছে। মার্কসের মতে, মানুষ প্রকৃতিনির্ভর। মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রকৃতির ওপর প্রযুক্ত শ্রমের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ। শিল্প বিপ্লবের (১৭৫০-১৮৫০) অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে আবির্ভূত আর্থসামাজিক শর্তাবলি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক উদ্যমকে ব্যাহত করে এবং অবক্ষয় ঘটাতে শুরু করে। এসব ক্রিয়াশীল আর্থসামাজিক শর্তাবলি মার্কসের চিন্তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পুঁজিবাদে মানুষের অগ্রগতি যে পরিবেশকে শোষণ করেই হয়েছে, তা মার্কসের বক্তব্যে সুস্পষ্ট। মানবিক মূল্যবোধ ও সম্পর্কের বিপরীতে পুঁজিবাদী সমাজের মুনাফাসর্বস্বতা প্রতিষ্ঠা করে বাজারের নিয়ন্ত্রণ। মুনাফার তাড়নায় পুঁজিবাদ ধ্বংসাত্মক শোষণ চালিয়ে পরিবেশকেও পণ্য করে তোলে। জল, মাটি, অরণ্যও মুনাফা লাভের উপাদানে পরিণত হয়। মানুষ হয়ে পড়ে আত্মবিক্রিত, আত্মচ্যূত। বিচ্ছিন্নতা (Alienation) সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্কস এমন এক অবস্থার কথা বলেছেন, ‘যেখানে মানুষের নিজের কাজই তার বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ায় এবং মানুষ হয়ে ওঠে ভিনগ্রহের।’ পুঁজিবাদ মানুষের সঙ্গে মানুষের, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির, এমনকি নিজের সঙ্গে নিজের বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। শ্রমিক নিজের শ্রম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রকৃতিজগৎ ও মানবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার কথা ভেবে মার্কস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রত্যয়-সাম্যবাদই পারে এই বিচ্ছিন্নতা কাটাতে এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে। তিনি প্রকৃতির মানবায়নের কথা বলেছেন। সাম্যবাদী সমাজের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রকৃতির মানবায়ন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মার্কস লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পুঁজির আধিপত্য প্রকৃতিকে কলুষিত করছে। প্রকৃতির প্রতি এই আচরণ অত্যন্ত ঘৃণ্য। জলের মাছ, আকাশের পাখি, মৃত্তিকার উপরের উদ্ভিদ-সব কিছুকেই পরিণত করা হচ্ছে সম্পত্তিতে। এটা অসহনীয়। সমস্ত জীবকে এই বন্ধন থেকে মুক্ত করা চাই।’ পরিবেশ নিষ্ক্রিয় নয়। যেকোনো জীবিত প্রাণী- যাদের মধ্যে মানুষও পড়ে, মানুষের সামাজিক ক্রিয়াও পড়ে, তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। পরিবেশের ওপর মানবদেহের প্রভাব কাজ করে। একইসঙ্গে পরিবেশও মানবদেহের ওপর প্রভাব ফেলে। এই পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে। মার্কস শ্রমকে পরিবেশ ও মানুষের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই দেখেছেন। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ব্যবহারিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রকৃতির অবস্থান আমাদের ভাব, ভাষা ও ভাবনার বাইরে নয়। পুঁজিবাদী কৃষি উৎপাদনপ্রক্রিয়া মানুষ ও মাটির মধ্যে পদার্থ বিনিময়ের প্রক্রিয়াকে বিঘিœত করে। মার্কস প্রকৃতি বা মাটিকে উৎপাদনের মূল উৎসধারা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃতি মানুষের অজৈব দেহ। মানুষ প্রকৃতির দ্বারাই জীবনধারণ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে ধারাবাহিক কথোপকথন তাকে চালাতেই হবে। ‘দাস ক্যাপিটাল’-এর তৃতীয় খণ্ডে মার্কস লিখেছেন, ‘যতই না আমরা নিজেদের একটি সমাজ, জাতি বা অস্তিত্বশীল সব সমাজের মিলিত রূপ বলে দাবি করি, আমরা কেউ-ই এই গ্রহের মালিক নই। আমরা শুধু এর ইজারাভোগী এবং ব্যবহারের ভাগীদার। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আরও উন্নততর অবস্থায় একে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়া।’ মার্কসীয় পরিবেশভাবনায় এঙ্গেলস-এর মৌলিক অবদান রয়েছে। ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’ গ্রন্থের মাধ্যমে এঙ্গেলস তৎকালীন হেগেলীয় ভাববাদের বিপরীতে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি প্রকৃতিকে ‘আদি’ ও ‘প্রথম’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃতির ইতিহাস ও মানুষের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য-পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ‘প্রকৃতিকে জয় করা’র বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে উল্লিখিত গ্রন্থে এঙ্গেলস লিখেছেন, ‘প্রকৃতিকে জয় করা সম্বন্ধে আমাদের অতিরিক্ত আত্মপ্রশংসায় মুখর হওয়া উচিত নয়। প্রতিটি জয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃতি আমাদের ওপর প্রতিশোধ নেয়। এটা ঠিক যে, প্রতিটি জয় প্রথম দিকে আমাদের প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটে, যা প্রায়শই জয়কে বাতিল করে দেয়। এভাবে প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের সচেতন করে দেয়া হয় যে, প্রকৃতির ওপর আমাদের কর্তৃত্ব অধিকৃত দেশের জনগণের ওপর একজন বিজেতার কর্তৃত্বের মতো নয়। একটা রক্তমাংশের শরীর ও মস্তিষ্ক নিয়ে আমরাও প্রকৃতিরই একটা অংশ, তারই মধ্যে আমরা বাস করি।’ ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের (১৮৭০-১৯২৪) নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হয়। পরিবেশের প্রতি যত্নবান থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক বিশাল কর্মকাণ্ড করা হয়েছিল। সেখানে পরিবেশ রক্ষার আয়োজনটি ছিল পৃথিবীতে অতুলনীয়। ১৯১৯ সালে, বলশেভিকেরা যখন আক্রান্ত, যখন লালফৌজ তীব্রভাবে লড়াই করছে, তখনও বলশেভিকেরা পরিবেশ বিষয়ক চিন্তা ত্যাগ করেননি। ওই অবস্থায়ই লেনিন কৃষিবিশারদ এন এন পোদিয়াপোলস্কির সঙ্গে পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন এবং পরিবেশ আইনের খসড়া রচনা করার জন্য পোদিয়াপোলস্কিকে দায়িত্ব দেন। লালফৌজ শ্বেতরক্ষীদের পরাস্ত করার পর ১৯২১ সালে নতুন আইন প্রণীত হয়। ১৯২৪ সালে গঠিত হয় ‘সারা রাশিয়া সংরক্ষণ সমিতি’। এই সংগঠনের পত্রিকা ‘ওখরানা প্রিরোদি’তে পরিবেশ বিষয়ক তাত্ত্বিক প্রবন্ধ, খবর ইত্যাদি প্রকাশ করা হতো। ১৯২৪ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইকোলজির প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা শুরু হয়। বিভিন্ন বক্তৃতা ও রচনায় লেনিন তাঁর পরিবেশভাবনা তুলে ধরেছেন। পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পরিবেশবাদী তাত্ত্বিক মার্কসবাদী পরিবেশতত্ত্বের অনুসন্ধান করছেন। তাঁরা পরিবেশ বিষয়ক মার্কসীয় চিন্তাধারাকে অগ্রসর করছেন। বিভিন্ন প্রত্যয় ও ব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে অ্যালফ্রেড স্মিত, জন বেলামি ফস্টার, পল বারকেট, জেমস ও’ কোনার, ব্রাউন ও ক্যাস্টি প্রমুখ মার্কসবাদী তাত্ত্বিক মার্কসীয় পরিবেশভাবনা তুলে ধরেছেন। অ্যালফ্রেড স্মিড ১৯৭১ সালে ‘The Concept of Nature in Marx’ গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটি থেকে আধুনিক কালের মার্কসবাদী তাত্ত্বিকদের পরিবেশভাবনা বিষয়ে জানা যায়। জন বেলামি ফস্টার চিরায়ত মার্কসবাদ ও পরিবেশবাদী চিন্তার সংযোগ স্থাপন করতে বিশেষ অবদান রাখেন। ২০০০ সালে ‘Marx’s Ecology: Materialism and Nature’ শীর্ষক গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি মার্কসবাদী পরিবেশভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। মার্কসবাদীদের মধ্যকার পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা-বিতর্কের প্রেক্ষিতে ফস্টারের এই গ্রন্থটি মার্কসীয় পরিবেশভাবনাকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। অনেকের মতো ফস্টারও একসময় ভেবেছিলেন যে, মার্কসের চিন্তায় পরিবেশ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তিনি মার্কস-এঙ্গেলস-এর রচনা গুরুত্ব দিয়ে পুনর্পাঠ করেন এবং পুনর্মূল্যায়ন করে ভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। এভাবে মার্কস-এঙ্গেলস-এর পরিবেশবাদী চিন্তার গভীরতা তিনি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। ফস্টারের মতে, পুঁজিবাদ শুধু শ্রমের বিচ্ছিন্নতার মধ্যে সমাজকে নিপতিত করেনি, প্রকৃতি থেকে সমাজকেও বিচ্ছিন্ন করেছে। একেই মার্কস ‘human metabolic rift with nature’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পুঁজিবাদ সমাজকে প্রকৃতি ও উৎপাদনে বিভক্ত করার মাধ্যমে প্রকৃত ঐক্য নষ্ট করেছে। উৎপাদনের যথার্থ সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়ে প্রকৃত সামাজিক গোষ্ঠী শুধু পারে মানুষ ও প্রকৃতির সম্ভাবনাময় ঐক্যসাধন করতে। দূষণ, অব্যাহত উন্নয়ন, পরিবেশগত সংকটের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা, ঐতিহ্যবাহী বন রক্ষা ও ইন্টারনেট যুগের ‘নব্য অর্থনীতি’ বিষয়ে ফস্টার মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি মার্কস-প্রদত্ত বক্তব্য ও নির্দেশনার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। তাঁর মতে, সমাজ ও প্রকৃতির দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে অবহেলা করে মার্কসের মূল্যায়ন সম্ভব নয়। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত ‘Marx and Nature : A Red and Green Perspective’ গ্রন্থে পল বারকেট প্রকৃতি ও কমিউনিজমের আলোকে মার্কসীয় পরিবেশচিন্তাকে ব্যাখ্যা করেন। মার্কসীয় প্রকৃতিবাদ ও সামাজিক নির্মাণ-সংক্রান্ত বিতর্কের ব্যাপারে তিনি সমাধানমূলক পর্যালোচনা করেন। প্রকৃতি ও পুঁজিবাদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মার্কসের পরিবেশবাদী চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিবেশকে মার্কস যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি-এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বারকেট বলেন, মার্কস সাম্যবাদী সমাজের অনিবার্যতার কথা বলেছেন এবং সাম্যবাদী সমাজেই পরিবেশ সংকটমুক্ত হবে। পরিবেশ বিষয়ে মার্কসের অবদানের মূল্যায়ন সংক্রান্ত অনেক অনালোচিত বিষয় বারকেটের রচনায় উঠে এসেছে। জেমস ও’ কোনার মনে করেন-পুঁজিবাদ প্রকৃতিকে একটি মুক্ত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রকৃতিকে শুধু বস্তুগত সম্পদ তৈরির কাজে লাগায়। সামাজিক সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃতির ব্যবহার হয় না। পরিবেশগত সমস্যার সমাধান শুধু বাজারব্যবস্থার সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। পুঁজিবাদী উৎপাদনের উচ্ছিষ্ট যেমন পরিবেশকে নষ্ট করছে, তেমনি জীবাশ্ম জ্বালানির মতো কাঁচামাল নিঃশেষ করছে। পুঁজিবাদ প্রকৃতিকে কাঁচামাল সংগ্রহ ও বিষাক্ত বর্জ্য পরিত্যাগের ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ও’ কোনার পরিবেশবাদী গ্রিন আন্দোলনকে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের সহায়ক বলে মনে করেন। ‘প্রকৃতির উৎপাদন’ প্রত্যয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে ব্রাউন ও ক্যাস্ট্রি বলেছেন-মানুষের শ্রম ও প্রকৃতি মানুষকে একটি জটিল সম্পর্কজালে আবদ্ধ করেছে। সে কারণে প্রকৃতির ইতিহাস আর সমাজের ইতিহাসকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদে মানুষকে অবনত হতে হয় এবং পরিবেশের সঙ্গে সমাজের সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়। এভাবে পরিবেশ রূপান্তরের ক্ষেত্রে মানুষের সৃজনশীল সক্ষমতাকে পুঁজিবাদ অগ্রাহ্য করে থাকে। ক্রমবর্ধমান পরিবেশ সংকটের কারণ ভোগবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ আর প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার। এসবের বিপরীতে মার্কসবাদীরা বিকশিত জীবন, মানবিক সংহতি আর পরিবেশগত সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে চান। আর সেসবের নিশ্চয়তা দেয় সাম্যবাদী সমাজ। তাই পরিবেশের আন্দোলন আর সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা। লেখক : সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..