শিক্ষাব্যবস্থা

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দুর্ভাবনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

এ. এন. রাশেদা: যে-দেশে, যে-ব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগ হয় দশ লক্ষ টাকা থেকে আরও উচ্চমূল্যে; প্রশ্নপত্র ফাঁসের শত প্রমাণ থাকলেও মন্ত্রী উচ্চকণ্ঠে ‘ফাঁস হয়নি’ বলে পরীক্ষা কার্য চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন; আর যারা বলবে-তাদের শাস্তি প্রদানের হুমকি প্রদান করেন, যেনতেন প্রকারে খাতা মূল্যায়নের নামে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল লাভের অধিকারকে পদাঘাত ক’রে জাতির সামনে মাকাল ফল উপস্থাপন করেন; যার ফলস্বরূপ-জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে অকৃতকার্য হয়; আবার কোনো কোনো পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়নের অভাবে ফলাফলে মড়ক দেখা দেয়-সে ব্যবস্থাকে শিক্ষাব্যবস্থা বলে মেনে নেয়া যায় না। অনেকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় তো বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ না। কাজেই সমাজে যাকিছু বিরাজ করে তার ফলাফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে বাধ্য।’ আমি এই মতামতের সঙ্গে একমত নই। কারণ, শিক্ষার মূলমন্ত্র কখনই সুবিধাবাদিতা হতে পারে না। অথচ বর্তমানে হচ্ছে তাই। সে কারণে আদর্শবাদ ও সত্য উচ্চারণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষকগণ শুধু ক্ষমতাবানদের পক্ষই বেছে নেন। বিগত শতকে ’৮০-’৯০ এর দশকেও এমনটি ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাংলোর মালামাল আগুনে ভস্মিভূত হলেও অপরাধীরা যখন প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তখন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত আকাশচুম্বী প্রত্যাশা দ্রুতবেগে মাটিতে পড়ার কারণে যা হবার তাই হয়। নিচ থেকে উপর এবং উপর থেকে নিচে-নীতি নৈতিকতাবিহীনভাবে চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। ‘শিক্ষা’ কোথাও নেই। শিক্ষাভবন, শিক্ষাবোর্ডসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দামি দামি কারুকার্যখচিত মসজিদ কাউকেও সৎ হতে শেখায় না। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি সেখানেই হয়। শিক্ষায় যে ধস– তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত গুটি কতক খবরের শিরোনাম দেখলেই বোঝা যাবে। ১০-৬-২০১৮ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে– ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪১ হাজার ৮৬৯ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ৮৩৭টি পদ খালি’। কারিগরি শিক্ষা বিভাগেও আছে। শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাদান প্রক্রিয়া চলে কিভাবে? চলে না। আবার ২৯-৭-১৮ তারিখে ‘শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তিতে ঘুষ-দুর্নীতি আরও বেড়েছে’ বলে খবর দৈনিক সংবাদ-এ প্রকাশিত হয়েছে। “এমপিওভুক্তির আবেদন উপজেলা থেকে জেলা শিক্ষা অফিস পর্যন্ত অনুমোদন পেতে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং শিক্ষক নিয়োগে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পেতেও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয় বলে মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ও অন্য একজন সংসদ সদস্য শিক্ষা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ বা উপহার সামগ্রী না দিলে এমপিও পেতে দীর্ঘ জট, নথি খোয়া যাওয়া, অনলাইন নথিতে বিরূপ মন্তব্য ও দুর্ব্যবহার করাসহ নানারকম হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষকদের”। শিক্ষাব্যবস্থার দগদগে ঘা-টুকু দেখার জন্যই উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করলাম। শিক্ষক নিয়োগে এমন দুর্নীতি থাকলে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া কিভাবে সম্ভব। যারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণ করছেন-শিক্ষিতের সংজ্ঞায় তারা যেমন পড়েন না, তেমনি যিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন উপায়ন্তর না দেখে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে, শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে চলবেন-এমন ভাবা অবান্তর। তাই প্রকৃত শিক্ষা বা শিক্ষার নির্যাস কোথাও নেই। তবে স্বীকার করতে হবে যে খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও আদর্শকে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কোথাও স্বাধীনভাবে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোথায় সরকারের নীতিমালার মধ্যে চরম মূল্য দিয়েও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান বা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলে শিক্ষক দ্বারা অথচ সেখানে সরকারি বেসরকারি সর্বত্র শিক্ষক পদে ভয়াবহ শূন্যতা। পদ আছে শিক্ষক নেই। ২২-১১-২০১৭-র রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে শুধু বরিশাল বিভাগে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ১ হাজার ৭৭৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। তাই শিক্ষাদান প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছে।’ এ চিত্র সারা দেশের। শিক্ষাব্যবস্থায় আর এক বিষফোঁড়া-ক্যাডার-নন ক্যাডার দ্বন্দ্ব। অর্থাৎ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত। বর্তমানে জাতীয় ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে তবে চরম দুর্নীতির মাধ্যমে। সরকারি কলেজের কথা বলছিলাম, সেখানেও ক্লাশ হয় না শিক্ষক স্বল্পতার কারণে। আবার ঢাকার এইসব সরকারি কলেজে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে। তিনি ঘোষণা দিলেন ঢাকার সাত সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সংগতি আছে কি না–আগে জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হলো না। তাই যা হবার তাই হলো। সরকারি কলেজসমূহের শিক্ষার্থীরা সেশন জ্যাম থেকে মুক্তির লক্ষ্যে পরীক্ষা দেয়ার দাবি নিয়ে ঢাকার রাজপথ অচল করে দিয়েছিল। আবার এখন দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিল সরকারি কলেজসমূহকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করার দাবিতে অর্থাৎ তাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আজ সাত সরকারি কলেজের আড়াই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে। আরেক দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসরকারি কলেজসমূহেও চলছে শিক্ষার নানা সমস্যা। উপযুক্ত শিক্ষক নেই, প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম নেই। অনার্স ক্লাসসমূহে পাঠদানকারী শিক্ষকদের সরকারিভাবে বেতন প্রাপ্তি নেই–যা আছে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের, তবে বিভাগ প্রতি একজন করে। ফলাফল যা হবার তাই হচ্ছে। শিক্ষা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাসিত। সেখানে আছে বিশ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। আর একদিকে বিজ্ঞান শিক্ষা বড়ই অবহেলিত। বিজ্ঞান চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এদেশে বুদ্ধিজীবী মহল কাজ করেছেন। পাকিস্তান আমলেও কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞান সচেতন মানুষ মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেছেন। বাংলাদেশেও লেখালেখির মধ্য দিয়ে করেছেন। এভাবে ১৯৮৩ সালে ড. আবদুল্লাহ আল মূতী, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আ. মু. জহুরুল হক, পদার্থবিদ অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক মনসুর মুসাসহ আরও অনেকে মিলে গড়ে তুলেছিলেন ‘বিজ্ঞান সংস্কৃতি পরিষদ’। ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে, বিজ্ঞান লেখক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ‘৮০-র দশকে স্কুল পর্যায়ে শুরু হয়েছিল বিজ্ঞান বইয়ে ‘এসো নিজে করি’ সূত্র, সংজ্ঞা বা বর্ণনাবিহীন একেকটি অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিত্যক্ত এক পদ্ধতি। আমার ওপর বায়োলজীর বইয়ের মূল্যায়নের ভার পড়েছিল। দেখা গেল যে, কোনো নির্দেশনা বা কোনো বক্তব্য বা সাক্ষ্য প্রমাণ বইতে নেই অথচ প্রশ্ন করা হচ্ছে। ‘বলো কি দেখলে, বলো? যে স্কুলে ল্যাবরেটরি নেই আবার বিষয়ভিত্তিক উপযুক্ত শিক্ষকও নেই–সেখানে পরীক্ষা করে কি দেখবে? আর দেখার মধ্যেও তো ভিন্নতা আছে। কাজেই বইগুলো ছিল অসম্পূর্ণ এবং বিজ্ঞান শিক্ষার মূলে কুঠারাঘাতের শামিল। সরকারি কোষাগারের অর্থাৎ জনগণের অর্থের অপচয় হলো আর কিছু বই লেখকের মুনাফা হলো যারা অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এমন উদ্ভট বই লিখতে– যা পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন। একথা বলার অর্থ হলো- দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞান শিক্ষা অবহেলিত হয়ে আসছে। ১৯৯৬ সালের ২৬-২৭ অক্টোবর শিক্ষাবার্তার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল বিজ্ঞান চর্চা: সমকালীন বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার। দু-দিনব্যাপী সেই সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘শিক্ষানীতি, দর্শন ও বিজ্ঞান শিক্ষা’ থেকে শুরু করে ‘একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা’, ‘কৃষি শিক্ষা’; ‘আগামী দিনের কম্পিউটার শিক্ষা’; ‘একবিংশ শতাব্দীর প্রকৌশল শিক্ষা’; ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষা’; ‘মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষার সমস্যা’, ‘উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষার গ্রাম পর্যায়ে চিত্র’; ‘বিজ্ঞান শিক্ষার সমস্যা-জরিপ চিত্র’; ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার সাম্প্রতিক সমস্যা’; ‘বিজ্ঞান শিক্ষা: বিজ্ঞান মনষ্কতা ও সৃষ্টিশীলতা’; ‘ভ্রান্ত ধারণা দূরিকরণে বিজ্ঞান শিক্ষা’; ‘সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিজ্ঞান শিক্ষা’; ‘বিজ্ঞান শিক্ষায় বিজ্ঞান ক্লাবের ভূমিকা’; ‘দারিদ্র্যের বহুমুখী বাস্তবতা পরিপ্রেক্ষিত: দক্ষিণ এশিয়া’ প্রভৃতি প্রবন্ধসমূহ পঠিত ও আলোচিত হয়েছিল। পরিশেষে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নকল্পে কতিপয় সুপারিশসহ তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে দেয়া হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম ‘আপনারা সরকার গঠন করলে শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমস্যাগুলো দূর করবেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত তৎকালীন সরকার প্রধান সরকার গঠনের পর প্রথম একনেক সভায় দশ কোটি টাকায় নির্মিত ‘শিক্ষা উপকরণ প্রকল্প’টি বাতিল করেছিলেন। স্কুল-কলেজের বিজ্ঞানাগারের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্টটিউব, বিকারসহ বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি তৈরির প্রকল্পটি উৎপাদন অবস্থায় বাতিল করেছিলেন। এভাবেই সেদিন বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার মূলে কাজ করেছিল বিএনপি সরকার। আর এখন চলছে বিজ্ঞান শিক্ষার নামে একদিকে ব্যবসা ও প্রহসন। ঢাকা শহরের এবং সারা দেশের গুটিকতক স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষার ভালো পরিবেশ দেখিয়ে আর ১২টি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিলে এবং সারা দেশে সাড়ে তিন হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রকল্পের কাজ করলেই বিজ্ঞান শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া যায় না। কারণ এর পেছনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মহা কাহিনীটি যে মূখ্য- তা বুঝতে বাকি থাকে না। সারা দেশের মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষককে ট্রেনিং দেয়ার যে ছক তা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে–কিন্তু তার ফলাফল দেশবাসী জানে। এই সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক তো সরকারের বেতনভুক্ত কিন্তু এছাড়াও তো বেতনভুক্ত নন, এমন শিক্ষকও আছেন। তাছাড়া আছে স্কুলের ধারণক্ষমতা এবং শিক্ষকের সময়। একের পর এক ক্লাস নিলে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করার প্রস্তুতি শিক্ষকের কোথায়? আছে নানা জটিলতা। সাড়ে তিন হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিছু স্কুলে কাজ শেষ হয়েছে, কতক স্কুলে মালামাল রেখে আসা হয়েছে বিদ্যুৎ নেই বা অন্যান্য ফ্যাসিলিটি নেই। কোথাও শিক্ষক নেই। কোথাও শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে কিন্তু চুক্তি শেষ হওয়ার পথে এলেও নিয়োগ নেই, বেতন নেই। আর এসব কাহিনীরও শেষ নেই। এইসব প্রকল্পের অর্থই হলো লুটপাট করা। লুটপাটের আর এক প্রকল্পের নাম চলন্ত সিড়ি। ১০-০৩-২০১৮ দৈনিক সমকালের খবর–“সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলন্ত সিঁড়ি (এক্সেলেটর) বসানোর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এক হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩টি বিদ্যালয়ে এই চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে।” শিক্ষার্থীরা যেখানে খেলাধুলার মাঠ পায় না এখন যদি সিঁড়ি দিয়ে উঠতেও না হয়–তাহলে ভবিষ্যতে ওরা চলাফেরার শক্তি কিভাবে অর্জন করবে? এই চলন্ত সিঁড়ি যে, কোনো গোষ্ঠীর পকেট ভারী করার ফন্দি-তা বুঝতে বেশি ডিগ্রির প্রয়োজন পড়ে না। আর বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানাগার, বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি, শিক্ষক, ডেমনস্ট্রেটর, টিফিন পিরিয়ডের পূর্বে অন্তত ইলেক্টিভ ম্যাথ, পদার্থ, রসায়ন বিষয়ের ক্লাস নেয়া জরুরি। বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করাও জরুরি। এখন বিজ্ঞান শিক্ষা মহাবিপর্যয়ে। বিজ্ঞান শিক্ষাদান প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে হেফাজতে ইসলামের নির্দেশ মতে। সম্প্রতি তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ডারউইনের মতবাদ’ পড়ানো যাবে না আগেও দিয়েছেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে। লেখক : সম্পাদক, সাপ্তাহিক একতা

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..