সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বগুড়া সংবাদদাতা : সদ্য শেষ হওয়ায় বোরো মৌসুমে ধানের কাঙ্খিত দাম না পেয়ে লোকসান গুণতে হয়েছে বগুড়ার কৃষকদের। আশা ছিল, খরিপ মৌসুমের (গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন) সবজি চাষে কিছুটা হলেও তারা এ লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু চলমান বন্যায় তারা এ সবজি নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বন্যার পানিতে এরই মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে জেলার ৮ হাজার ৬০১ হেক্টর জমির সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলায় ১০ হেক্টর মরিচ, ৪ হেক্টর আখ, ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর পাট, ২ হাজার ৬০০ হেক্টর আউশ ধান, ৫০ হেক্টর সবজি, ৪০ হেক্টর আমন বীজতলাসহ প্রাথমিকভাবে ৮ হাজার ৬০১ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। এদিকে বিভিন্ন ফসলের মধ্যে, বিশেষ করে সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার কৃষকরা। এ জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা, শেরপুর, শিবগঞ্জ ও শাজাহানপুরে। আর এ ছয় উপজেলাতেই এখন বন্যার পানি বাড়ছে। তলিয়ে গেছে খরিপ মৌসুমের বিক্রি উপযোগী সবজির ক্ষেত। একই সঙ্গে নিমজ্জিত হয়েছে রবি মৌসুমে আবাদের জন্য তৈরি করা আগাম জাতের সবজি চারার বীজতলা। এ অবস্থায় সবজি চাষে কৃষকরা যে মুনাফার আশা করছিলেন, তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় এখন বছরজুড়েই বিভিন্ন সবজির আবাদ হয়। অনেক কৃষক ধানে লোকসানের কারণে সবজি আবাদে ঝুঁকছেন। জেলায় এখনো মাঠ থেকে গ্রীষ্মকালীন সবজি উত্তোলন শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কৃষকরা আগাম জাতের সবজি আবাদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে টানা বৃষ্টি ও বন্যা। সূত্র আরো জানায়, জেলায় প্রতি বছর খরিপ মৌসুমে পাঁচ-ছয় হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। এ থেকে মৌসুমপ্রতি সবজি উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টন। সরেজমিন কথা হলে শাজাহানপুর, শেরপুর, গাবতলী, শিবগঞ্জ ও বগুড়া সদরের বেশ কয়েক জন কৃষক জানান, তারা অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে নানা জাতের সবজির চারা উৎপাদন করেন। এর মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, মরিচ, পালংশাক, লালশাক, পুঁইশাক, সরিষাশাক, মিষ্টিকুমড়া, শিম ও টমেটো অন্যতম। লাভজনক হওয়ার কারণেই তারা আগে থেকেই এসব সবজির বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু এখন টানা বৃষ্টি হচ্ছে, যা বীজতলার জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির পর থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জেলা সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় সারা বছরই সবজি চাষ হয়। সারা দেশে এখন বগুড়ার সবজির বেশ চাহিদা রয়েছে। খরিপ মৌসুমে প্রতি বছর এখানে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এখন রবি মৌসুম ঘিরে সবজির চারা উৎপাদনে বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে এ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে বেশকিছু সবজি ক্ষেতে পানি উঠেছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তবে না নামলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..