ঝুলে আছে রাঙ্গামাটির সড়ক সংস্কারের প্রকল্প

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
রাঙামাটি সংবাদদাতা : ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসলেই পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে সড়কে মাটি ও গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। আবার কোনো কোনো সময় সড়কেই ভাঙন দেখা দেয়। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচল ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয় জেলার বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় বারবার এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার সড়ক সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি অনুমোদন হলেই সড়কের ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুনে প্রবল বর্ষণে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সড়কে ভাঙন এবং মাটি ও গাছ পড়ে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাঙ্গামাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সড়কের ১৫১টি স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলার সড়কগুলো মেরামতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়। তবে দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করা যায়নি। বরং আপাত ব্যবস্থা হিসেবে খুঁটি দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ঘাগড়া শালবাগান এলাকায় ২০০ ফুট রাস্তা ধসে যায়। এতে রাঙ্গামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বন্ধ ছিল টানা ১০ দিন। পরবর্তী সময়ে এ সড়ক মেরামতের জন্য জরুরিভাবে ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ওই সময় এ সড়কে একটি স্টিলের সেতু স্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত এ অস্থায়ী সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে খুঁটি গেড়ে মাটির বস্তা দিয়ে ধসে পড়া সড়ক মেরামত করা হয়। এসব খুঁটির মেয়াদ ছিল ছয় মাস। অথচ দুই বছর ধরে সড়কগুলো এভাবেই পড়ে আছে। এতে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও ওই সড়ক আবার ধসে পড়ার ঝুঁকি আছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা বলেন, স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু খুঁটি গেড়ে সড়কের ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। চালকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব রাস্তায় চলাচল করেন। বিপরীত দিক থেকে আরেকটি গাড়ি এলে পাশে দাঁড়িয়ে চলাচলের জন্য সুযোগ করে দিতে হয়। রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, দুই বছরে রাঙ্গামাটির সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। এখনো খুঁটি গেড়ে সড়ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এতে ঝুঁকি আরো বাড়ে। রাঙ্গামাটি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া বলেন, খুঁটি দিয়ে সড়ক সংস্কারের কারণে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, আবার স্থানীয়দেরও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না। ললিত সি চাকমা নামে এক উন্নয়নকর্মী বলেন, আমরা চাই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হোক। রাঙ্গামাটি সওজ সূত্র জানায়, এক বছর ধরেই রাঙ্গামাটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছেন খাগড়াছড়ি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী। এ কারণে প্রশাসনিক কাজে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও জেলার সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। রাঙ্গামাটি সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা বলেন, দুই বছরেও আমাদের প্রকল্পটি পাস হয়নি। এখন এক কোটি টাকা বরাদ্দের আওতায় সড়কের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, রাঙ্গামাটির সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামতে মন্ত্রণালয়ে যে ডিপিপি জমা দেয়া হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন চিঠি চালাচালির পর গত মাসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাস হয়েছে। প্রায় ২৫০ কেটি টাকার এ প্রকল্প এখন একনেকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আশা করছি, এটিই জুলাইয়ের মধ্যেই পাস হবে। এটি পাস হলে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ধস ঠেকাতে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যেহেতু এখন বর্ষা মৌসুম, তাই ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় খুঁটি দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। বছরে সাধারণত যে সংস্কার কাজগুলো করা হয়, তার আওতায় সাময়িকভাবে এ কাজ করা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..