এই বাজেট শিক্ষার্থীবান্ধব নয়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মো. ফয়েজউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস এক যৌথ বিবৃতিতে ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে উপস্থাপিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে শিক্ষা সংকোচনের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ও এই বাজেট শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে ‘গবেষণা খাতে’ বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ সব বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ করা, সব প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের বহন করা বাসগুলো রাত আটটা পর্যন্ত চালু রাখা ইত্যাদি দাবিগুলো জানিয়ে আসছে। অধিবেশনের দিনও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো ও উন্নয়ন ফি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে সিনেট ভবনের বাইরে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। এবারের বাজেটে পণ্য ও সেবাখাত এবং অন্যান্য অনুদান খাতের আওতায় গবেষণার জন্য মোট বরাদ্দ ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা যা বাজেটের মাত্র ৫.০৪ শতাংশ। অথচ বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা যা মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ভাতাদি বাবদ সহায়তা খাতে ১৯৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। এই বিদ্যমান বাজেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সমস্যা যেমন বাসের অপর্যাপ্ততা, আবাসন সংকট নিরসন, উন্নয়ন ফি বাতিল, বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজ করা প্রভৃতি শিক্ষার্থীবান্ধব বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং এই বাজেট তথা গবেষণা খাতে বরাদ্দ না বাড়ানোর মাধ্যমে উচ্চ-শিক্ষাকে আরো সংকুচিত করলো। ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে এই বাজেট শিক্ষাবান্ধব নয় এবং এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে অবনমন ঘটবে। ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যদের এই বাজেটকে বাতিল করে গবেষনা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে, শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করে শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানাচ্ছে। এ বাজেট শিক্ষার্থীবান্ধব নয়, শিক্ষক ও কর্মচারীবান্ধব হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। সিনেট অধিবেশন পরবর্তী সময়ে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদা তার এক বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘কত টাকা টিউশন ফি দেন’ অবজ্ঞাশীর্ষক যে প্রশ্ন তোলেন ছাত্র ইউনিয়ন তার নিন্দা জানাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক কখনো এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। তাকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সার্বিক খরচ এমনকি শিক্ষক-কর্মকর্তারা যে বেতন পান, যে বিপুল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন তা এই দেশের আপামর কৃষিজীবী-শ্রমিক-সাধারণ চাকুরিজীবীদের রক্তে-ঘামে প্রদানকৃত ট্যাক্স থেকে আসে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষিজীবী-শ্রমিক-সাধারণ চাকুরিজীবীদের সন্তানদের জন্য নির্মিত। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ড. জিনাত হুদার শিক্ষার্থীদের প্রতি তোলা প্রশ্ন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..