রিকশা উচ্ছেদ : অরাজকতা ও জনদুর্ভোগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

নজর উল ইসলাম : রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য। রিকশা কেউ শখেও চালায় না, কেউ শখেও রিকশায় উঠে না। চালক ও যাত্রীদের জন্য এই বাহন অতি প্রয়োজনীয়। এই বাহন ছাড়া নগর জীবন অচল। গাবতলী থেকে আজিমপুর রাস্তায় বহু আগে থেকেই রিকশা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রাখা যায় নি। আবার নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হলো। এবার নতুন করে কুড়িল থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রাস্তাটিতে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। কুড়িল থেকে সায়েদাবাদ রাস্তাটির বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে এমনিতেই রিকশা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধরুন, পশ্চিম রামপুরার একজন গর্ভবতী নারী আফতাব নগরে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে যাবে। দুরত্ব একেবারেই কম। দেড় কিলোমিটার রাস্তা। তার হেঁটে যাওয়াও সম্ভব না। আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশায় বা গাড়িতে যাওয়ার সাধ্যও তার নেই। তবুও সে কিন্তু রিকশায় যেতে পারবে না। কারণ, রামপুরা থেকে আবতাফ নগর যেতে হলে উত্তর বাড্ডা দিয়ে ঘুরে আসতে হবে। এছাড়া আর কোথাও পূর্ব পাশে যাওয়ার মতো কাটা নেই। একইভাবে আবতাফ নগর বা ডিআইটি প্রোজেক্ট থেকে কেই যদি গুলশান যেতে চায় তাহলে রিকশা ঘুরাতে হবে রামপুরা বাজার দিয়ে। রিকশাওয়ালার এমন যাত্রী না নিলেও চলবে, কিন্তু এমন যাত্রীর যাওয়ার উপায় কী? কত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের একবার ভেবে দেখুন। মাননীয় মেয়র সাহেব যদি মনে করেন রাস্তায় যেভাবে ট্রাফিক সাজিয়েছে তাতে তো রিকশা চলাচল এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে, একবারেই বন্ধ করে দেই, তাহলে কিছু বলার নেই। রিকশার কথা না ভেবে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ মা ও শিশুদের কথাও তো ভাবা দায়িত্ব। তাদের জন্য কী করবেন? মেনে নিচ্ছি যে, এই রাস্তার যানবাহনের গতি আগের চেয়ে বেশি হয়েছে। সেই গতি বাধাগ্রস্ত করে রিকশা। রিকশা চলাচলে চালকদের কাণ্ডজ্ঞানের অভাব রয়েছে। তারা রাস্তার পাশ দিয়ে না চলে মাঝ বরাবর চলতে পছন্দ করে। তারা আবার একজন আরেকজনের পিছনে যেতে অপছন্দ করেন, পাশাপাশি রেখে পুরা রাস্তা দখল করে চলেন। অনবরত ওভারটেকিং করেন এবং ওভারটেকিং করার সময় পিছনের যানবাহনের গতি না দেখেই আল্লাহর অস্তে রিকশাটা ডানে বা বামে টার্ন করে। যদিও এই কাজ সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকেরাও করে থাকে। এমতাবস্থায় এভাবে রাস্তায় রিকশা চলাচল করতে দেয়াও ন্যায়সঙ্গত নয়। স্বল্প দুরত্বের যাত্রীদের কথা বিবেচনা করা উচিত। প্রচুর মানুষ রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে। বিশাল অঙ্কের টাকা, হাজার হাজার কোটি টাকা এই রিকশা থেকে গ্রামে যায়। রিকশা মেরামত, পার্টস আমদানি ও ব্যবসা ইত্যাদি হিসাব করলে এটি একটি বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক খাত। কত মানুষের জীবন এর উপর নির্ভরশীল। এই খাতকে সচল রাখাও দায়িত্ব। তাদের সবার কথা বিবেচনা করে এই ধরনের রাস্তাগুলো ফোর লেন করা দরকার। দুটি রিকশা ক্রস করতে পারবে এমন পরিমাণ, মোটামুটি সাত ফিটের মতো করে রাস্তা দুই পাশ থেকে আলাদা করে দিলে রিকশাও রাস্তায় চলাচল করতে পারবে, রাস্তার গতিও বাড়বে, মানুষের ভোগান্তিও দূর হবে। এটা করলে রিকশার রাস্তা পারাপারের প্রয়োজন হবে না। তখন যে কেউ যেকোনো যায়গায় যেতে পারবে। যে পরিমাণ রাস্তা রিকশার জন্য বরাদ্দ করার কথা বললাম, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ রাস্তা অব্যবহৃত থাকে। আমার প্রস্তাব মানলে রাস্তার ব্যবহারও বাড়বে। আশা করি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ কর্তৃপক্ষ আরও সুবিবেচকের পরিচয় দেবেন। মানুষের ক্ষোভ, ভোগান্তিও দূর হবে। লেখক : কবি ও শিক্ষক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..