গ্যাসের দাম বৃদ্ধি রুখে দাঁড়ান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গ্যাসের দাম আবারো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ১ জুলাই থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আবাসিক খাতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি মিটারে দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ১২.৬০ টাকা। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৭.৩৮ টাকা থেকে ২.৪২ টাকা বাড়িয়ে ৯.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গড়ে দাম বেড়েছে ৩২.০৮ শতাংশ। সিএনজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৪৩ টাকা এবং বিদ্যুৎ ও সারের জন্য ৪.৪৫ টাকা। হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রতি ঘনমিটার ২৩ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা, শিল্প ও চা বাগানে ১০.৭০ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ওই বছরের মার্চ ও জুলাই মাসে দুই দফায় এই নতুন মূল্য কার্যকর করার কথা ছিল। মার্চ মাসে নতুন মূল্য কার্যকর হলেও হাইকোর্টের আদেশে জুলাই মাসের মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত হয়ে যায়। জনমত উপেক্ষা করে বাজেটে নানা ধরনের কর, ভ্যাট আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। তার উপর চাপানো হয়েছে রান্না ঘরের চুলা, বিদ্যুৎ, সার, শিল্প, চা-বাগান, হোটেল, সিএনজি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে গ্যাসের অতিরিক্ত দাম। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাবে। প্রতি মাসে চুলার বিল, সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম, বিদ্যুৎ, সার, উৎপাদিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহন প্রভৃতি ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস হয়ে উঠবে। বাজেটে কৃষিখাত, শিল্পখাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে। উপরন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বাড়বে দ্রব্যমূল্য। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠবে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি খাত থেকে ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে বিশাল বরাদ্দ অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ করে ফেলবে। গ্যাসের দাম সম্পর্কে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো এখন লাভজনক। গ্যাস উন্নয়ন ও নিরাপত্তা তহবিলে হাজার হাজার কোটি টাকা পড়ে আছে। দুর্নীতি আর অপচয়ে গ্যাস খাত বিপর্যস্ত। স্থল ও সমুদ্র-বক্ষে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এই অবস্থায় গ্যাসের অপরিহার্যতার সুযোগ নিয়ে, বেশি দামে এলএনজি গ্যাস আমদানি করে বিপুল মুনাফা করার উদ্দেশ্যে, খরচ বৃদ্ধির মিথ্যা অজুহাত তুলে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। গণশুনানিতে এটা প্রমাণ করা হয়েছিল যে- অপচয়, দুর্নীতি, ভুল নীতি দূর করতে পারলে গ্যাসের দাম কমানো সম্ভব। অথচ এই ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে এলএনজি আমদানির নামে ব্যবসায়ী ও কমিশনভোগীদের পকেট ভারি করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতকে লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত করেছে। সরকার গত দশ বছরে তাদের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপর্যুপরি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আসছে। এবারো গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে জনগণের পকেট কেটে সরকার ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের টাকা যোগাতে। যে এলএনজি আমদানির ঘাটতি মেটানোর কথা বলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে সেই এলএনজি প্রতি হাজার ঘনফুট বাংলাদেশ আমদানি করে ১০ ডলারে; আর ভারত আমদানি করে ৬ ডলারে। লুটপাটের টাকা যোগান দিতে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি জনগণ মেনে নেবে না। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পেছনে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ আছে। সরকারের এই অপতৎপরতা মেনে নেয়া যায় না। দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে। সিলিন্ডার ব্যবসাও ব্যবসায়ীদের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার ক্ষেত্র বানানো হয়েছে। সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট ও কমিশনভোগীদের স্বার্থরক্ষার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, তা মেনে নেয়া যায় না। এটা মেনে নিলে, একইভাবে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে। তাই সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে। গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হবেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..