উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণে ‘মরিয়া’ ট্রাম্প : পিয়ংইয়ং

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পিয়ংইয়ং। ৩ জুলাই এক বিবৃতিতে জাতিসংঘে কার্যরত উত্তর কোরীয় মিশন জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপে মরিয়া হয়ে আছে।’ ওয়াশিংটন কোরীয় উপদ্বীপের ‘শান্তিপূর্ণ বাতবরণকে নষ্ট করার’ চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে পরিশোধিত পেট্রল আমদানির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ তুলেছে বিবৃতিতে তার জবাব দিয়েছেন তারা। তারা আরও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মিলিত চিঠিরও জবাব দিয়েছেন তারা। ওই চিঠিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। উত্তর কোরিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছেন সেই একই দিন এই যৌথ চিঠি পাঠানোর বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ওই চিঠিতে এই সত্যই প্রকাশ পেয়েছে যে প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়া) বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও বেশি নাছোড় হয়েছে।’ নিষেধাজ্ঞাকে ‘সব রোগের ওষুধ’ হিসেবে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে পিয়ংইয়ং। গত ৩০ জুন দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্তের অসামরিক এলাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার মাত্র তিন দিন পর উত্তর কোরিয়ার এ বিবৃতিটি এলো। ওই দিন ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অল্প সময়ের জন্য উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। কিমের আমন্ত্রণে তিনি উত্তর কোরিয়ায় সীমান্ত অতিক্রম করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তারা উত্তর কোরিয়ার ভিতরে ১০ কদমের মতো হেঁটে আবার ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন। কিম তাদের এই সাক্ষাৎকারকে ‘অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য’ বর্ণনা করে বলেন, ‘এর মানে হচ্ছে আমরা সহজ হতে পারি এবং ইতিবাচক উত্তর নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি।’ পরে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে ফ্রিডম হাউসে বৈঠক করেন তারা। প্রাথমিকভাবে তাদের বৈঠককে কেবল একটি শুভেচ্ছা বৈঠক বলা হলেও শেষ পর্যন্ত দুনেতা প্রায় এক ঘন্টা কথা বলেন। কিছু সময়ের জন্য তাদের আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনও। ফলে নজিরবিহীন এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও হয়। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠক খুবই ভাল হয়েছে। আমরা দেখব কি হয়।’ তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনা আবার সামনে এগিয়ে নিতে দুই পক্ষই দল গঠন করবে। তিনি তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে চান না বরং সঠিকভাবেই কাজটি করতে চান বলে জানান। ট্রাম্প এও বলেন যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। যদিও আলোচনার অংশ হিসাবে ট্রাম্প সেগুলো শিথিল করার পথ খোলা রেখেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। কিমকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান ট্রাম্প। গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিমের ঐতিহাসিক বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা হলেও এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ভিয়েতনামের বৈঠক ভেস্তে যায়। তারপর থেকেই দুপক্ষে আলোচনা থমকে আছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..