‘আপাতত’ বিপন্ন ঐতিহ্যের তালিকা থেকে ছাড় সুন্দরবনকে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) প্রস্তাব সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সুন্দবনকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় নেয়নি সুন্দরবন। আজারবাইজানের বাকুতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় সুন্দরবনকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয় বলে ৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাপক সংখ্যায় শিল্প কারখানা নির্মাণের কারণে সুন্দরবন ‘মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে’- এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ‘বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছিল ২১ সদস্যের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ওপর। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় কোন কোন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন থাকবে, কোনটি বাদ যাবে এবং কোন নিদর্শন ঝুঁকিতে রয়েছে- সেসব বিষয়ে ২১ সদস্যের ওই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো বিশ্ব ঐতিহ্যের নাম বিপন্ন ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠা মানে হল, ওই বিশ্ব ঐতিহ্য কেন কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো এবং সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৬ সালের মার্চে আইইউসিএন-ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল রামপাল প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে। তাদের প্রতিবেদনে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রকল্পটি অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়। তা না হলে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা বাতিল করে একে ‘বিপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পরের বছর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম সভায় আলোচনার পর সুন্দরবনকে ‘বিপন্ন’ তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়। গত এপ্রিলে আইইউসিএন আবারও সুন্দরবনকে ‘বিপন্ন’ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলার সুপারিশ করে। সেখানে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করে তা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও সুন্দরবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পর্যালোচনা না করেই নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে প্রবাহমান পায়রা নদীর তীরে আরও দুটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা তুলে ধরেও উদ্বেগ প্রকাশ করে আইইউসিএন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের উজানে ১৫০টির বেশি শিল্প প্রকল্প চালু আছে, যেগুলোর সঙ্গে নৌ ও খনন কার্যক্রম পানি ও প্রতিবেশগত বৈচিত্র্যের বাড়তি হুমকি সৃষ্টি করছে। ওই সুপারিশ গ্রহণ না করে এবারের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এ বছর বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির একটি বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..