বিচার হলে এ হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটতো না

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

শ্রীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্ট টিইউসি’র বিক্ষোভ
একতা প্রতিবেদক : গাজীপুরের শ্রীপুরে অটো স্পিনিং মিল কারখানার তুলার গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় মোট ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামের মোহাম্মদ জয়নালের ছেলে এসি প্ল্যান বিভাগের আনোয়ার হোসেন (২৮), ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার আলাউদ্দিনের ছেলে নিরাপত্তা কর্মী রাসেল মিয়া (৪৫), গাজীপুর ইউনিয়নের হাসেন আলীর ছেলে কোয়ালিটি বিভাগের শাহজালাল(২৬), গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে সিনিয়র উৎপাদন কর্মকর্তা সেলিম কবীর (৪২), ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনেশ্বর গ্রামের আবির রায়হান ও পাবনা কেরামত সর্দারের ছেলে এসি প্ল্যান্ট বিভাগের সুজন সর্দার। গত ২ জুলাই দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষা নয়নপুর এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগে। দমকল বাহিনীর ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আশপাশে কোনও পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হয়। শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় অটো স্পিনিং মিলে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে গত ৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এসময় তাজরিন-রানা প্লাজাসহ এখন পর্যন্ত কোনো শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া ও শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানানো হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী মালিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, মঞ্জুর মঈন, হযরত আলী, আরিফুল ইসলাম নাদিম প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. মন্টু ঘোষ বলেন, অতীতে সংগঠিত শ্রমিক হত্যাকা-গুলোর বিচার হলে নতুন করে প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি একের পর এক দুর্ঘটনা নামের নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিচ্ছে। তিনি নিহত ও স্থায়ী অক্ষম শ্রমিকদের জন্য আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি বলেন, বৃটিশ শ্রমআইনে যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত আছে তা এসকল অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার জবাব দিতে হবে। নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা যে সরকার দিতে পারে না, তার মুখে উন্নয়নের বুলি বেমানান। তিনি আরও বলেন, এদেশের শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে যা আয় হয় তা ব্যয় করা হচ্ছে কতিপয় কর্পোরেট ও ধনীক গোষ্ঠীর স্বার্থে। অথচ শ্রমিকের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয় না। এই নয়া উদারনীতিবাদী অর্থনৈতিক নীতি দ্বারা শ্রমিক-মেহনতি মানুষের শোষণের মধ্য দিয়ে এমনকি জীবন কেড়ে নিয়ে কতিপয় ব্যক্তির সম্পদের পাহাড় গড়তে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে। সমাবেশে সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন বলেন, এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা যতটুকু আদায় করেছে তার জন্য কঠোর আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিচার আদায় করতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..