জনমত উপেক্ষা করে ফের বাড়ল গ্যাসের দাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গণবিরোধী বাজেট ও জনমতের তোয়াক্কা না করে, সাধারণের পকেট কাটার ফন্দিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী ৭ জুলাই আধাবেলা হরতাল সফল করতে রাজধানীতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রচার মিছিল [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : গণশুনানিতে সব স্তরের প্রতিনিধিরাই গ্যাসের দামবৃদ্ধির বিরোধিতা করেছিলেন; অথচ সেই শুনানির যাবতীয় মত উপেক্ষা করেই ফের গ্যাসের দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। গত ৩০ জুন এক সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের গ্যাসেই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়ে পরের দিন থেকে তা কার্যকরের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাসিক খাতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি মিটারে দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ১২.৬০ টাকা। সিএনজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৪৩টাকা এবং বিদ্যুৎ ও সারের জন্য ৪.৪৫ টাকা। হোটেল রেস্তোরায় প্রতি ঘনমিটার ২৩ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা, শিল্প ও চা বাগানে ১০.৭০ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্যাসের দাম সমন্বয়ের জন্য প্রস্তাব করেছিল পেট্রোবাংলা ও গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলো। তারা গ্যাসের দাম গড়ে ১০২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার অজুহাতে গ্যাসের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা জানায় । সর্বশেষ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ওই বছরের মার্চ ও জুলাই মাসে দুই দফায়। এই নতুন মূল্য কার্যকর করার কথা ছিল। সেসময় মার্চ মাসের নতুন মূল্য কার্যকর হলেও হাইকোর্টের আদেশে জুলাই মাসের মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কমার পরও দেশের বাজারে এ অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) ৮টি দলের এ জোট জনগণের পকেট কাটার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাথ্যান করে ৭ জুলাই দেশব্যাপী হরতালও ডেকেছে। এ হরতালে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল, প্রগতিশীল গোষ্ঠী ও গণসংগঠনসমূহ সমর্থন দিয়েছে। বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন, জনগণের মতামত তোয়াক্কা না করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে দেশবাসীর উপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বাজেটে ভ্যাটের নামে ইতিপূর্বে দেশের মানুষের উপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। গণবিরোধী এ সরকার বাজেটের মাধ্যমে একবার এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে আরেকবার জনগণের উপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, দুর্নীতি ও ভুলনীতি পরিত্যাগ করলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিবর্তে কমানো সম্ভব। সরকারের গণবিরোধী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হতে নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বানও জানান। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, এমনিতেই বাজার চড়া; তার মধ্যে এভাবে গ্যাসের দাম বাড়লে, সংসারে সরাসরি খরচও বাড়বেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..