মৌলভীবাজারে থামছে না টিলা কাটা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে আপার কাগাবলা ইউনিয়নের আথানগিরিতে টিলা কাটা থামছেই না। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি তো হচ্ছেই, হারাচ্ছে টিলার সৌন্দর্য। হারিয়ে যাচ্ছে অনেক বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও গাছ। টিলা ধসে দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সরেজমিন আথানগিরি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দু-তিনটি টিলার মাটি কেটে বড় গর্ত করা হয়েছে। কেটে নেয়া একটি টিলার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে লাল মাটি। এ অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ওই টিলার ওপর নির্মিত বাড়িটিও। ভারি বৃষ্টিতে টিলার মাটির সঙ্গে বাড়িটি ধসে পড়তে পারে। লাল মাটির এ টিলার দক্ষিণ পাশে আরো যে দুটি টিলা কাটা হয়েছে, সেগুলোর নিচেও বসতঘর রয়েছে। এখানে বসবাসরতরা সবসময় টিলা ধসের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, এখনো যতটুকু টিলা টিকে আছে, তা রক্ষার কোনো তাগিদ নেই। স্থানীয় রাস্তার কাজের জন্য টিলা থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক এ মাটি পরিবহন করে। যারা টিলার মাটি কাটে, তারা বাইরের লোক দেখলেই সরে পড়ে। ট্রাকও আসে না। এভাবে চলতে থাকলে টিলাগুলো কোনোভাবেই রক্ষা করা যাবে না। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ আলী বলেন, অনেক বছর ধরে এখানে টিলা কাটা হচ্ছে। টিলার মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন সরকারি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তা তৈরির কাজেও এখান থেকে মাটি নেয়া হয়। আর শুধু পশ্চিম আথানগিরিতেই নয়, প্রতিনিয়ত আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে। এতে অচিরেই এ এলাকার টিলাগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মাঝে মধ্যে প্রশাসন থেকে অভিযান পরিচালনা করলে দু-একদিন টিলা কাটা বন্ধ থাকে। এরপর আবারো শুরু হয়। এ বিষয়ে সদর উপজেলার আপার কাগাবলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আজির উদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে গত বছর পাহাড় কাটা বন্ধ করতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে এবার হঠাৎ করেই ফের টিলা কাটা শুরু হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাই না। মূলত অভিযানের সময় কিছুদিন টিলা কাটা বন্ধ থাকলেও পরে আবারো চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বন বিভাগকে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলে এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব। তবে যারা টিলা কাটছে তাদেরকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো টিলাই কাটার বিধান নেই। শুধু জনস্বার্থে টিলা কাটতে হলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানা দুটোরই বিধান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, অচিরেই মৌলভীবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি কার্যালয় খোলা হবে, যাতে মৌলভীবাজারের এ ধরনের পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজে দেখাশোনা করা যায়। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, আথানগিরিতে টিলা কাটার খবর পেয়ে লোক পাঠানো হয়েছে। তবে জায়গাটা মনে হয় একটু ভেতরে। এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..