গাজীপুরে লিচুর ভালো ফলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের রসালো লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে। এ কদরের কারণে জেলায় বাড়ছে লিচু চাষ। চাষিরা জানিয়েছেন, এবার জেলায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি লিচু উৎপাদন হয় শ্রীপুরে। এছাড়া কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও সদর উপজেলায়ও লিচু চাষ হয়। তবে স্বাদের কারণে শ্রীপুরের লিচুর চাহিদা বেশি। জেলায় সাধারণত চায়না-৩, বোম্বাই ও পাতি লিচু উৎপাদন হয়। লাভজনক হওয়ায় জেলায় লিচু চাষ বাড়ছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে ১ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান আছে। এবার এসব বাগান থেকে ২৭ হাজার ৩৭৫ টন লিচু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চাষিরা জানান, রাতের বেলায় বাদুড়ের কবল থেকে লিচু রক্ষায় গাছ পাহারা দেয়া আর দিনের বেলায় লিচু সংগ্রহ করে বাজারে পাঠানোটাই এখন তাদের দৈনন্দিন কাজের রুটিন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরিবারের সবাই এখন লিচু সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত। জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে এ ব্যস্ততা থাকবে। বারতোপা গ্রামের লিচুচাষি কবির হোসেন বলেন, জেলায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রাজধানীতে লিচু পাঠাচ্ছেন। আশা করি, পুরো জ্যৈষ্ঠ মাস লিচু পাওয়া যাবে। রাজাবাড়ি গ্রামের লিচুচাষি আহাম্মদ আলী বলেন, লিচুই এ মৌসুমে আমাদের আয়-রোজগার। এখানকার লিচুর কদর থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে বাগান কিনে নেন। এবার তার বাগানের ২০টি গাছের লিচু বিক্রি করেছেন লক্ষাধিক টাকায়। শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি গ্রামের লিচুচাুষ আজমল হুদা জানান, এবার লিচু গাছে মুকুল আসার পর ঝড়ের কারণে টেপিরবাড়ি ও কেওয়া গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুকুল ঝরে যাওয়ায় লিচুর ফলন তেমন ভালো হয়নি। তবে অন্যান্য এলাকায় লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে এখন প্রতিটি লিচু ১ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ বাজারের লিচু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, লিচু গাছে পরিপক্ব হওয়ার পর বেশি দিন রাখা যায় না। লিচুর মৌসুমও হয় সংক্ষিপ্ত। একসঙ্গে সব লিচু বাজারে আনা হলে আশানুরূপ দাম পাওয়া যায় না। লিচু সংরক্ষণে সরকার উদ্যোগ নিলে চাষি-ব্যবসায়ী-ভোক্তা সবাই উপকৃত হতেন। গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুব আলম জানান, গাজীপুরের লিচু রসালো। স্বাদের ভিন্নতা থাকায় এ লিচুর চাহিদাও বেশি। আমরা কয়েক বছর ধরে স্থানীয়দের লিচু চাষে আগ্রহী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছি। এ কারণে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু উৎপাদন বাড়ছে। তিনি বলেন, এবার জেলাজুড়েই লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। ভোক্তা পর্যন্ত বিষমুক্ত লিচু পৌঁছার ব্যাপারে আমরা প্রথম থেকেই নজর রেখেছি। লিচু চাষ থেকে টাকা আয়ের মাধ্যমে গাজীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..