দর্জী পেশায় স্বাবলম্বী নাটোরের নারীরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নাটোর সংবাদদাতা : একসময়ের অভাবের সংসারের কথা মনে হলে এখনো খানিকটা বিমর্ষ বোধ করেন নাটোরের সিংড়ার হেনা সুলতানা। স্বামী আব্দুল মান্নান একের পর এক ব্যবসার চেষ্টা করেও লাভের মুখ দেখছিলেন না। আয়হীন সংসার চালাতে গিয়ে বাড়তে থাকে ধারদেনা। টাকার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় সন্তানদের লেখাপড়া। কিন্তু হেনা ভেঙে পড়েননি। প্রবল মনোবল ও একটি পুরনো সেলাই মেশিনকে সম্বল করে শুরু হয় তার নতুন জীবন। আট বছর আগে ঘরে পড়ে থাকা সেলাই মেশিন দিয়ে হেনা সুলতানা আশপাশের নারীদের পোশাক সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। কাজ ভালো করায় দিন দিন বাড়তে থাকে অর্ডারের পরিমাণ। ওই বছর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। পাড়ার মেয়েরা কাপড় সেলাইয়ের জন্য তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। যা আয় হতো তা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে ঋণও পরিশোধ করতে থাকেন। স্ত্রীর এ সাফল্যে নতুন করে উজ্জীবিত হন আব্দুল মান্নানও। হেনা সুলতানা বলেন, আগে থেকেই তিনি কমবেশি সেলাইয়ের কাজ জানতেন। তবে বাড়িতে সেলাই শুরুর এক বছর পর স্বামীর সহযোগিতায় দর্জি প্রশিক্ষণ নেন। সাহস করে সিংড়া বাজারে মেয়েদের জন্য টেইলার্স খোলেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি ওই বাজারে মেয়েদের জন্য দর্জির দোকান শুরু করেন। এর পরই ঘুরে যায় তার ভাগ্যের চাকা। সিংড়া বাজারের পানপট্টির কাছে তার রাজধানী লেডিস টেইলার্সে এখন কাজ করছেন অন্তত ৯ জন নারী। তিনি আরো বলেন, ‘একসময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছি। এখন আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। নিজের চেষ্টায় একটা কিছু করতে পেরেছি, এটাই শান্তি। আমার এখানে কাজ করেছেন এমন অনেক মেয়ে এখন তাদের বাড়িতে কাজ শুরু করেছেন। নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এ পেশায় তারা ভালো করবেন। অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের ব্যয় নিজেরাই বহন করতে পারবেন।’ হেনা সুলতানার স্বামী আব্দুল মান্নান বলেন, স্ত্রীর এ কাজে আমি এখন সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছি। টেইলার্স থেকে এখন মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। বর্তমানে আমাদের এক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছেলে পড়ছে পঞ্চম শ্রেণিতে। এরই মধ্যে ১০ বিঘা জমি কিনেছি, বাড়িও করেছি। আমার স্ত্রী এ উদ্যোগ না নিলে আমাদের সংসারে হয়তো আগের মতোই অভাব লেগে থাকত। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফছার আলী মণ্ডল বলেন, রাজধানী লেডিস টেইলার্সের মালিক হেনা সুলতানার এ ব্যক্তি উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শুধু বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ না করে বাজারমুখী হলে অন্য নারীরাও হেনা সুলতানার মতো স্বাবলম্বিতার মুখ দেখবেন। তিনি আরো বলেন, সিংড়া উপজেলা সদরে রাজধানী টেইলার্স ছাড়াও সম্প্রতি অনেক বিউটি পার্লারের ব্যবসা গড়ে উঠছে। যেখানে অনেক মেয়ে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। নারীদের এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি আলাদা মার্কেট করার পরিকল্পনা আছে। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই থাকবেন নারী। সরকারি সহযোগিতা পেলে শিগগিরই এ উদ্যোগ নেয়া হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..