নার্সারি ব্যবসায় কোটিপতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নাটোর সংবাদদাতা : মাত্র ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে ২০০৩ সালে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেছিলেন নাটোর শহরতলির বনবেলঘড়িয়া এলাকার যুবক দীপক কুমার ঘোষ। প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার টাকা খরচে তৈরি করেন পেয়ারা, লেবু ও আমের চারা। বছর না ঘুরতেই তিনি এসব চারা বিক্রি করেন খরচের দ্বিগুণ দামে। মুনাফা ভালো হওয়ায় এক বছরের মাথায় লিজ নেন আরো তিন বিঘা জমি। এরপর ‘মেসার্স প্রকৃতি নার্সারি’ নাম দিয়ে পুরোদমে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। বর্তমানে দীপক ঘোষের নার্সারি সম্প্রসারিত হয়েছে ১০০ বিঘা জমিতে। প্রতি বছরই বাড়ছে পরিধি। তার নার্সারির চারা তৈরি হচ্ছে ছাতনির পণ্ডিতগ্রাম, স্লুইস গেট, ছাতনি স্কুলপাড়া ও পাইকেরদোলসহ সাতটি স্থানে। চারা উৎপাদন হচ্ছে বছরে প্রায় ২০ লাখ পিস, যা বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে দেড় থেকে ২ কোটি টাকা। পাশাপাশি তার নার্সারিতে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক মানুষের। সরেজমিন দেখা যায়, প্রখর রোদের মধ্যেই নার্সারির শ্রমিকরা বিভিন্ন বেডে চারার পরিচর্যা করছেন। তাদের ব্যস্ততার মধ্যেই কথা হয় পারুল বেগম, রেশমা, সিরাজুল ইসলাম, রবি ও মিলনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বলেন, দীপক ঘোষ নার্সারি চালু করার পর থেকেই তারা এখানে কাজ করছেন। নিয়মিত কাজ থাকায় তাদের কখনো বসে থাকতে হয় না। পারুল বেগম বলেন, বাড়ির পাশে হওয়ায় তাকে আর কাজের সন্ধানে দূরে যেতে হয় না। পরিবার সামলেই তিনি নার্সারিতে কাজ করতে পারছেন। তার মতো আরো বহু নারী এখন দীপকের নার্সারিতে কাজ করে সচ্ছল হয়েছেন। আগে মরিচের ব্যবসা করতেন সিরাজুল ইসলাম। দীপক নার্সারি শুরু করার এক বছর পর থেকেই তিনি তার ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে একেকজন শ্রমিক মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। অন্য কাজে শ্রম বেশি, কিন্তু টাকা কম। তাই দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানেই কাজ করছেন। দীপক কুমার বলেন, ২০০১ সালে এসএসসি পড়াশোনার পাশাপাশি গুড়ের ব্যবসা শুরু করি। এরপর ২০০৩ সালে ছোট পরিসরে নার্সারি ব্যবসা চালু করি। নাটোরের সাবেক উদ্যানতত্ত্ববিদ বর্তমানে ঈশ্বরদীর টেবুনিয়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক আব্দুল আউয়াল স্যারের পরামর্শে এ ব্যবসা চালুর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন প্রতি বছর আমার দেড় থেকে ২ কোটি টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে। দীপক কুমার আরো বলেন, আমার নার্সারিতে অনেক বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কম পরিশ্রমে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন। তাছাড়া আমার দেখাদেখি অনেক বেকার যুবক এখন নার্সারি পেশার দিকে ঝুঁকছে। তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশেই তার নার্সারিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি হয়। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বিক্রি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর ও সিলেটে। তাছাড়া তিনি ভারত থেকেও অনেক চারা আমদানি করছেন। নার্সারির পাশাপাশি প্রায় শত বিঘা জমিতে তার থাই পেয়ারা, কাশ্মীরি কুল, মাল্টা, আম ও ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। ঈশ্বরদীর টেবুনিয়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক আব্দুল আউয়াল বলেন, দীপক ছোট পরিসরে শুরু করলেও এখন তার নার্সারির পরিধি বেড়েছে। কীভাবে নার্সারির আধুনিকায়ন করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। তাছাড়া ভালো মানের চারা তৈরি ও বাজারজাতের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে দীপক আজ সফল নার্সারি ব্যবসায়ী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..