ছাত্র ইউনিয়নের সভায় বক্তারা

সরকারি নীতিই শিক্ষাব্যবস্থার অধপতনের কারণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সরকারের সামগ্রিক শিক্ষা-দশনের কারণেই শিক্ষাব্যবস্থায় অধপতনের মূল কারণ বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এ সময় বক্তারা শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর জন্য আসন্ন অর্থ বছরের বাজেটে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কর্পোরেট, বাণিজ্যিক, ব্যাংক, বীমা, ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আয় বা লভ্যাংশের উপর এডুকেশনাল সারচার্য আরোপ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত ‘আওয়ামী শাসন আমলে শিক্ষাখাতে বাজেটের গতি-প্রকৃতি ঃ প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গত ২৩ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক ও মানবিক গবেষণা কেন্দ্র (কারাস) মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। আলোচনা সভার মুখবন্ধ ও গবেষণাপত্র পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় শিক্ষা গবেষণা সেলের সদস্য সাদনান সাকিব। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষা খাতের গত ১০ বছরের বরাদ্দের দিকে তাকালে একটা ‘সৃজনশীল ছন্দময় পতন’ দেখা যাবে একইসঙ্গে জাতীয় বাজেটের ১০ ভাগ এবং জিডিপির ২ ভাগ এর আশেপাশেই স্থিতিবস্থা লক্ষ্য করা যায়। কয়েক বছর ধরে নামা-উঠার ধারা অব্যাহত আছে এই বাজেটে। এর মধ্যে সরকার ফলাও করে প্রচার করছে যে শিক্ষা খাতে এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে (১১.৪২ শতাংশ)। সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরে শিক্ষায় যে বরাদ্দ দিয়ে শুরু করেছিল (প্রকৃত বাজেটের ১৫.৩ শতাংশ), ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ শতাংশের হিসাবে তার চেয়ে ৩.৮৮ শতাংশ কম! এমনকি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রকৃত বাজেটের তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ৪.৬৩ শতাংশ কম। ফলে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এই সরকারের আমলে এগিয়ে যাবার বদলে দিন দিন পিছেয়ে। শিক্ষা কাঠামো এখন অন্তসারশূন্য হয়ে ধ্বংসের দাড়প্রান্তে। সমাপনী বক্তব্যে আলোচনা সভার সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, শাসক শ্রেণির উন্নয়ন দর্শন হিসেবে যদি আমরা আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলের বাজেটকে পাঠ করি তাহলে শিক্ষা খাতের অবস্থা নাজুক হিসেবেই আমাদের কাছে গোচরিভূত হয়। এই সরকারের গৃহীত সকল কর্মসূচি নীতিমালা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন এবং ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই সরকার বেশি মনোনিবেশ করতে আগ্রহী। শিক্ষার মান-উন্নয়ন তথা মৌলিক দর্শন বিনির্মানে প্রণোদনা, গবেষণা সহায়ক পরিবেশ বিনির্মাণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মৌল কাঠামো কি অবস্থায় আছে বা কি হবে সে বিষয়ে অস্পষ্ট দিক নির্দেশনা এবং দিশেহারা একটা অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ সরকারের শিক্ষার সামগ্রিক দর্শনই এই শিক্ষাব্যাবস্থার অধঃপতনের মূল কারণ। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, শিক্ষাখাতে বাজেটের বরাদ্দের ব্যাপারে সরকার সবসময় উদাসীন। তাদের কাছে দাবি জানালে তারা আমাদেরকে অর্থের অপ্রতুলতাকেই প্রধান হিসেবে প্রত্যেকবার দেখিয়েছেন। তাই আমরা সেই অর্থের যোগান কিভাবে হবে তারও একটা সুপারিশ রাখতে চাই। আমরা সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, আসন্ন অর্থ বছরে বাজেটে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কর্পোরেট, বাণিজ্যিক, ব্যাংক, বীমা, ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আয় বা লভ্যাংশের উপর এডুকেশনাল সারচার্য আরোপ করতে হবে। শিক্ষা বাজেটের সামগ্রিক বিচারপূর্বক প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে- ১. আসন্ন বাজেটে সমতা ও নায্যতা সৃষ্টির ভিত্তিতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কর্পোরেট/ বাণিজ্যিক/ ব্যাংক/ বীমা/ ধনাঢ্য ব্যাক্তিবর্গের আয়/লভ্যাংশের উপর শিক্ষা খাতের জন্য সারচাজ আরোপ করা। ২. শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয়ের খাতসমূহ আরো বিস্তারিত, সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করা। ৩. শিক্ষার মান-উন্নয়ন তথা মৌলিক দর্শন বিনির্মানে প্রণোদনা, গবেষণা সহায়ক পরিবেশ বিনির্মাণ ও গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। ৪. প্রতিশ্রুত জিডিপির ৬% এবং মোট বাজেটের ২০% শিক্ষা খাতে দেয়ার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করা। ৫. জিডিপি এবং মোট বাজেটের নির্ধারিত লক্ষমাত্র পূরণে বাস্তব ও ভিশনারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৬. মানব সম্পদ হিসেবে বিপুল শিক্ষিত, উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর যে স্ফিতি তা নিয়ন্ত্রণের ভাবনা ভাবার পাশাপাশি চাহিদা ও যোগানের সমন্বয়ের রুপরেখা তৈরি করা। ৭. শিক্ষার মৌল ভিত্তি, কাঠামো, মৌলিক দর্শন কি হবে এবং উচ্চশিক্ষা, মাধ্যমিক, প্রাথমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা কিভাবে পরিচালিত হবে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, নাগরিক এবং বিশিষ্টজনদের সাথে আলোচনার লক্ষ্যে বিশেষায়িত টাস্কফোর্স/কমিশন গঠন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..