রমজানে জমজমাট নলছিটির মুড়িপল্লী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঝালকাঠি সংবাদদাতা : রাসায়নিকমুক্ত, সুস্বাদু মুড়ির জন্য বেশ আগে থেকেই সুনাম রয়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার। মুড়ি ভাজা ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এখানকার ১০ গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার। সারা বছর কমবেশি বিক্রি হলেও তাদের ব্যস্ততা বাড়ে রমজান মাসে। এ সময় প্রতিদিন তারা দুই-তিনশ মণ মুড়ি উৎপাদন করে। নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি, জুড়কাঠি, ভরতকাঠি, দপদপিয়া, রাজাখালি, বুড়িরহাটসহ বিভিন্ন গ্রামের এসব পরিবার বংশানুক্রমে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের এ পেশার কারণে গ্রামগুলো এখন পরিচিতি পেয়েছে মুড়িপল্লী হিসেবে। তারা আমনের বিশেষ কয়েকটি জাত থেকে মুড়ির জন্য চাল সংগ্রহ করে। এরপর রাসায়নিক ছাড়াই মুড়ি ভেজে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যারা একটু সচ্ছল, তারাই বাজার থেকে ধান কিনে মুড়ির চাল সংগ্রহ করেন। তারপর মুড়ি ভেজে বাজারজাতও করেন। অন্যদিকে কম সচ্ছলরা আড়তদারদের কাছ থেকে চাল নিয়ে মুড়ি ভেজে আড়তেই সরবরাহ করেন। এতে তাদের লাভ কম হয়। অনেকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়েও মুড়ি ভাজেন। প্রতিদিন একজন কারিগর গড়ে ৫০ কেজি চাল ভাজতে পারেন। যেখান থেকে মুড়ি পাওয়া যায় ৪২-৪৩ কেজি। এখানকার মুড়ি পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি ৭৫ ও খুচরা ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। তিমিরকাঠির ভূইয়া বাড়ির মুড়ির কারিগর নাছির উদ্দিন বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মেশিনে ভাজা মুড়ির চেয়ে আমাদের হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক বেশি। এ সময়ে পাইকাররা যে পরিমাণে মুড়ি চায়, আমরা সে পরিমাণ দিতে পারি না। একই গ্রামের ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমাদের টাকা নেই। এজন্য অন্যের মুড়ি ভাজি। প্রতি বস্তা মুড়ি ভেজে ৪০০ টাকা পাই। এছাড়া আমাদের অন্য কোনো জীবিকা নেই।’ এদিকে নলছিটিতে মুড়ি বিক্রির জন্য বেশকিছু আড়ৎ গড়ে উঠেছে। এ রকমই একটি আড়ৎ মেসার্স খান ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম খান শফিক বলেন, হাতে ভাজা মুড়ি স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু। এ মুড়ি উৎপাদনে খরচ বেশি, তাই দামও একটু বেশি পড়ে। তবে সারা বছরই এখানকার মুড়ির চাহিদা থাকে। রোজায় চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মুড়িপল্লীগুলোয় অধিক উৎপাদন ও আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি। তাছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে মুড়ির কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। এদিকে মুড়িপল্লীর দরিদ্র পরিবারগুলো বিসিক থেকে ঋণ নিতে চাইলে তাদের সহায়তা করা হবে বলে জানান ঝালকাঠি বিসিকের উপব্যবস্থাপক শাফাউল করিম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..