গাছেই খোসা ফেটে পচে নষ্ট হচ্ছে লিচু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ফরিদপুর সংবাদদাতা : ফরিদপুরে গাছে থাকা অবস্থায় খোসা ফেটে পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে লিচু। কোনো কোনো গাছে কালশিটে দাগ দেখা দেয়ার পর পচন ধরছে। জেলার প্রধান লিচু উৎপাদন অঞ্চল মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন ও বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী এলাকার বাগানে এ ধরনের সমস্যার তীব্রতা বেশি। এতে চলতি মৌসুমে লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। কারণ জানতে বাগান পরিদর্শন শুরু করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ২২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বাগান মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলায় গড়ে উঠেছে। জেলার বাগানগুলোতে দেশি, মোজাফফর, চায়না টু, চায়না থ্রি, বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের লিচুর গাছ রয়েছে। এসব জাতের মধ্যে মোজাফফর জাতের লিচুর গাছই বেশি। ৮-১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে থাকা অবস্থায় লিচুর খোসা ফেটে পড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো লিচু পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে। বাগান মালিকরা জানান, বাগানের লিচু গাছে ধরা অবস্থায়ই ফেটে গিয়ে ভেতরের শাঁস বেরিয়ে আসছে। একপর্যায়ে চামড়া শুকিয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে। অনেক গাছের ৪০ শতাংশ লিচু এভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। তীব্র গরমে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ গরম পড়তে শুরু করায় এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাহাপুরের চাষি মোহাম্মদ আলী ও মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের গাছের প্রায় ৪০ শতাংশ লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। ওষুধ ও পানি স্প্রে করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতি কমাতে আধা পাকা বা অপরিপক্ব লিচুও গাছ থেকে পেড়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। জাহাপুরের আরেক লিচু চাষি মো. আক্কাস হোসেন জানান, এবার ২৫ লাখ টাকায় প্রায় ১০ একর জায়গায় গড়ে তোলা বাগান বন্দোবস্ত নিয়েছেন তিনি। খোসা ফেটে ও পচন ধরে এরই মধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকার লিচু গাছে থাকা অবস্থায় নষ্ট হয়ে পড়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত গাছের মধ্যে আগাম মোজাফফর জাতের সংখ্যা বেশি। চায়না থ্রি ও বোম্বাই জাতের লিচুতে এ সমস্যা কম। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পরিসংখ্যান তৈরি করতে এরই মধ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা বাগান পরিদর্শন শুরু করেছেন। তারা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এবং নমুনা সংগ্রহ করে কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন। গত সোমবার জাহাপুরের ক্ষতিগ্রস্ত লিচুবাগান পরিদর্শন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় লিচুর খোসা ফেটে যাচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও লিচুতে পচন দেখা দেয়ায় প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, গাছের ব্রন বা ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণেও লিচুতে ফাটল ও পচন দেখা দিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, যাতে আগামী মৌসুমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তাই এ ঘটনাটিকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..