ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন সারিয়াকান্দির ভাঙনকবলিত নিঃস্ব কৃষক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সারিয়াকান্দি সংবাদদাতা : ভৌগোলিক কারণেই যমুনা ও বাঙ্গালী নদীবেষ্টিত বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। নদীভাঙনে কৃষিজমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন এ উপজেলার বহু কৃষক। বর্তমানে এসব কৃষকের জীবিকা নির্বাহের প্রধান ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে যমুনায় জেগে ওঠা চর। অন্তত ১৫টি চরে তারা আবাদ করছেন বিভিন্ন ধরনের ফসল। বিশেষত চরে ভুট্টা আবাদ তাদের নতুন করে স্বাবলম্বিতার পথ দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সারিয়াকান্দির চরের জমিতে মিষ্টিকুমড়া, শসা ও ধানের পর এখন ভুট্টার ফলন ঘরে তুলছেন কৃষকরা। এবার এখানকার চরে ভুট্টার দারুণ ফলন হয়েছে। রবি মৌসুমে ডিসেম্বরের দিকে বীজ বপন করা হয়। শুরু থেকেই ভুট্টা গাছের বৃদ্ধি বেশ ভালো ছিল। পাশাপাশি একেকটি গাছে ভুট্টার মোচা হয় ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত। গত মাসের শেষের দিকে কৃষকরা ভুট্টা মাড়াই শুরু করেন। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচে একেকজন কৃষক এখন ভুট্টা বিক্রি করছেন প্রায় ১৮ হাজার টাকার। এতে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি তাদের মুনাফা থাকছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, এ উপজেলায় এবার দুই হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে চরেই আবাদ হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টরে। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রায় আট হাজার কৃষক। যাদের ৯৭-৯৮ শতাংশই কোনো না কোনো সময়ে নদীভাঙনের শিকার। সব হারিয়ে নিঃস্ব এসব কৃষক চরে চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে তারা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন ভুট্টা আবাদে, যা তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তুলছে। এ কর্মকর্তা আরো জানান, সাধারণত চরাঞ্চলে ৪০ শতকে এক বিঘা হিসাব করা হয়। এবার প্রতি শতকে প্রায় ১ মণ হিসেবে চরের প্রতি বিঘায় ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৪০ মণের কাছাকাছি। দারুণ ফলনের পাশাপাশি কৃষকরা এবার ভুট্টার ভালো দাম পাচ্ছেন। প্রতি মণ তারা বিক্রি করছেন মানভেদে ৫০০-৬০০ টাকা দরে। উপজেলার চর শিমুলতাইড়ের কৃষক আল আমিন বলেন, আগে তার নিজস্ব জমি ছিল। কিন্তু যমুনার ভাঙনে সেই জমি বিলীন হয়েছে। এখন নদীর বুকে জেগে ওঠা চরই তার একমাত্র ভরসা। এবার তিনি চরের তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রির লভ্যাংশ থেকে তিনি এবার একটি গাভী কেনার কথা ভাবছেন। একই কথা জানান নিজ বলাইল গ্রামের আব্দুল সালাম। তিনি বলেন, বাজারে ভালো মানের ভুট্টা প্রতি মণ ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কম শুকনো ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫৫০ টাকায়। চরদলিকা চরের বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ, কাটা ও মাড়াইয়ে মোট খরচ হয়েছে ৬-৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে ৩৬ মণ পর্যন্ত। আর বাজারে এক মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়। ফলে এবার তারা ফসলটি আবাদে বেশ ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরামর্শের কারণে এবার চরে ভুট্টার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো দাম পেয়ে নিঃস্ব কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। রবি মৌসুমের ভুট্টার মাড়াই প্রায় শেষ। এবার খরিপ-১ মৌসুমের ভুট্টার আবাদ শুরু হবে। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টরে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ থেকে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭৫ টন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..