ইতিহাসে বাংলাদেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মিথুন রায় : ফাইনালের কান্না কত আর! ফাইনালে হার কত আর! ২০০৯ সালে প্রথমবার তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হার। এর পর এক এক করে আরও পাঁচবার মাশরাফি-সাকিবদের চোখের জল ছুঁয়ে গেছে কোটি কোটি টাইগারভক্তের হৃদয়। সংশয়টা তাই ঘুরেফিরেই উঁকি দিচ্ছিল ম্যালাহাইডের মেঘ জমা আকাশেও। তবে কি আরও একবার কান্নাই অপেক্ষা করছে! এবারও ফাইনালে হেরে শিরোপা খোয়াবে বাংলাদেশ! না, এবার প্রতিজ্ঞা আর প্রতিশ্রুতিকে সঙ্গী করেই যেন মাঠে নেমেছিল মাশরাফি বাহিনী। শেষ পর্যন্ত সপ্তমবারের মাথায় লিখা হলো ইতিহাস। ফাইনাল জিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরলো বাংলাদেশ। নতুন এক চিত্রনাট্যের অমর সাক্ষী হয়ে থাকলো ম্যালহাইডের সবুজঘেরা প্রকৃতি। টানা ছয়বার হারের পর মাশরাফিরা কি তবে ইতিহাসের সেই অমর স্কটিশ মহাবীর রবার্ট ব্রুসের থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছিলেন। যে মহাবীর কিনা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টানা ছয়বার হারের পর সপ্তমবারের মাথায় বানুকবার্নের যুদ্ধক্ষেত্রে স্টারলিং দুর্গটাকে দখলে নিয়েছিলের সামান্য মারকাসার কাছ থেকে পাওয়া অধ্যবস্যায়ের শিক্ষা থেকে। বলা যায় লাল-সবুজের হার না মানা মহারথিরাও এবার যেন সেই ‘স্কটদের রাজা’ রবার্ট ব্রুসের মতোই ক্যারিবিয়ান সৈন্যদের এক এক করে খতম করে বাংলার ইতিহাস ছিনিয়ে আনলেন। যেন ব্রুস সেনাদের সামনে দ্বিতীয় এডওয়ার্ডের পরাজয়ের মতোই গোটা ক্যারিবিয় দীপপুঞ্জকে নতজানু করিয়ে মাশরাফি বাহিনীও এবার বিজয়ের ধ্বজা উড়িয়ে নতুন এক ইতিহাস লিখলো স্বগৌরবে স্বমহিমায়। গত শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনও ফাইনালের

শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। কাগজে কলমে ওয়ানডে ম্যাচ হলেও ম্যালাহাইডের বৃষ্টিবাধা ম্যাচটিকে নামিয়ে এনেছিল মাত্র ২৪ ওভারে। ম্যাচটি পেয়েছিল টি-টোয়েন্টির উত্তেজনা। ১ উইকেটে ক্যারিবিয়ানরা সংগ্রহ করেছিল ১৫২ রান। বাংলাদেশের দর্শক-সমর্থকরা তখন কী ভেবেছিলেন, ২৪ ওভারে ১৫৩ করলেই জিতে যাবে বাংলাদেশ! ক্রিকেটীয় উত্তেজনার অতি আবেগে কেউ কেউ এমনটি ভাবতেই পারেন। তবে ডিএল সমীকরণে তামিমদের সামনে লক্ষ্যটা দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রানের। তাতে কি, সৌম্য, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেনদের মতো আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী গভীর ব্যাটিং লাইনআপের সামনে রানটা যে খুব কিছু নয় তা আবারও প্রমাণ করলো বাংলাদেশ। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় সৌম্য করলেন ৪১ বলে ৬৬ আর শেষ দিকে ইনিংসের ২২তম ওভারে অ্যালেনকে ৬, ৬, ৪, ৬, ২, ১- হাঁকিয়ে এক ওভারে একাই ২৫ রান তুলে জয়টা সহজ করে দিলেন মোসাদ্দেক। ৫টি ছক্কা ও ২টি চারে ২৪ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয়ের নায়কও বনে গেলেন এই দেশি অলরাউন্ডার। আর তখন ৭ বল হাতে রেখেই জয়োল্লাসের মাতলো স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। মহাস্মরণীয় মহাকাব্যিক এই জয়ে ২০০৯ সালের প্রথম ফাইনালে হার এবং এর পর এক এক করে ২০১২ ও ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে তিন জাতি সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে হার, একই বছর নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ও সেই ভারতের কাছেই এশিয়া কাপের ফাইনালে তৃতীয়বারের মতো হারের দগদগে ক্ষতে বহুদিন পর শান্তি আর স্বস্তির প্রলেপ পেল বাংলাদেশ। ম্যালাহাইড জয়ের এই স্বস্তিকে শক্তিতে পরিণত করেই এবার শুরু হোক বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..