রমেকে ২৫ মেশিন অকেজো

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রংপুর সংবাদদাতা : রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের রোগ নির্ণয় ও জীবন রক্ষাকারী ২৫টি মেশিন দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে আছে। আইসিইউ, কিডনি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, অর্থোপেডিকস ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের এসব মেশিন অকেজো হয়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা। এদিকে মেশিন অকেজো হওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে ত্রুটিকে দায়ী করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনেকেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে বিরামহীনভাবে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ মেশিনগুলোর ব্যবহারকেও দায়ী করেছেন। তারা হাসপাতালের জন্য বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভাগগুলোয় পর্যাপ্ত নতুন মেশিন সরবরাহের দাবি জানান। এ বিষয়ে গত ২৮ এপ্রিল ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কাছে একটি চিঠি দেন রংপুর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহমেদ। অকেজো মেশিনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি এগুলো মেরামতের জন্য তিনি এ চিঠি প্রেরণ করেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পাঁচটি বিভাগের ২৫টি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টি মেশিনই আইসিইউ বিভাগের। এগুলো হলো পাঁচটি কার্ডিয়াক মনিটর ও পাঁচটি ভেন্টিলেটর (লাইফ সাপোর্ট) মেশিন। এছাড়া কিডনি বিভাগের দুটি ডায়ালিসিস মেশিন এবং একটি করে ডায়ালাইজার রি-প্রসেসিং ও আরও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট মেশিন অকেজো হয়ে আছে। রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে অকেজো হয়ে আছে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও এক্স-রেসহ সাতটি মেশিন। একইভাবে অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিকস বিভাগে অকেজো মেশিনের সংখ্যা দুটি করে। চিঠিতে ডা. সুলতান আহমেদ একটি টিম পাঠিয়ে মেশিনগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখার অনুরোধ জানান। আইসিইউ ইউনিট প্রধান ডা. মো. আতাউর রহমান বলেন, অকেজো মেশিনগুলো সচলের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মানবিক কারণে বর্তমানে ব্যক্তি প্রচেষ্টায় তিনটি কার্ডিয়াক মনিটর জোগাড় করেছি। তারপরও বর্তমানে দুটি বেডে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আইসিইউতে সাধারণত মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাই এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সব সময় সচল রাখা জরুরি। এজন্য এখানে দক্ষ প্রকৌশল সেকশন থাকা প্রয়োজন। কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. এবিএম মোবাশ্বের আলম বলেন, এ বিভাগের মাত্র ২৫টি শয্যা দিয়ে রোগীদের চাপ সামলানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এখানে নতুন ও পুরনো মিলে ৭০ জনের বেশি রোগীকে ডায়ালিসিস করতে হয়। এমন দিন আছে ডায়ালিসিস করতে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বেজে যায়। তিনি বলেন, একটি মেশিন দিয়ে প্রতিদিন দুবার ডায়ালাইসিস করার কথা থাকলেও রোগীর প্রয়োজনে একটি মেশিন দিয়ে চারবার ডায়ালাইসিস করার প্রয়োজন হচ্ছে। কিডনি বিভাগের একটি সূত্রমতে, অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ ডায়ালাইসিস মেশিন বারবার ব্যবহার করার ফলে অকেজো হয়ে পড়ছে। বর্তমানে যে মেশিন আছে, সেগুলো বিরামহীন চলায় অকেজো হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা রমেক হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল গণি বলেন, কিছুদিন হলো তিনি এখানে এসেছেন। এখনো তিনি অনেক বিষয় জানেন না। তবে তিনি যোগদানের পরই হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিয়েছেন। হাসপাতালের অকেজো মেশিনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে ৬৫ একর জমিতে ১৯৬৮ সালে রমেক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা হয়। এক হাজার বেডের এ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন দুই হাজারের বেশি রোগী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..