সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের দাবি করেছে এ হামলার পেছনে রয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীরা। একইসঙ্গে দেশটি একে কাপুরোষোচিত কর্মকাণ্ড হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেলবাহী সৌদি জাহাজে রহস্যময় হামলার ২ দিনের মাথায় এমন ঘটনা ঘটলো। সৌদি আরবের তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সমুদ্র বন্দরের দিকে যাওয়া একটি তেল লাইনে এ হামলা হয়। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানান, হামলায় অতি সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে আমাদের উচিত ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। প্রথমে হামলার কারণে আগুন লেগে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। তবে পরে ওই পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফালিহ বলেন, সাম্প্রতিককালে এ ধরণের হামলা শুধুমাত্র সৌদি আরব নয়, সমগ্র পৃথিবীতে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেন যে, এসব হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন বা রপ্তানি ব্যাহত হবে না। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। দু’দেশের মধ্যেই স্বল্পমাত্রায় যুদ্ধ প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। এরইমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন। ১৩ মে এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কখনো সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং কার্যত কোনো যুদ্ধের আশংকাও নেই। ১৩ মে সন্ধ্যার ওই সমাবেশে যোগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্যগণসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গ। এসময় খামেনি বলেন, ওয়াশিংটন জানে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ নিজ স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংঘাতে শেষ পর্যন্ত মার্কিনিরা পিছু হটতে বাধ্য হবে। তাই আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না। দু’দেশের চলমান উত্তেজনা হচ্ছে ‘আকাক্সক্ষার সংঘাত’। এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে। চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প ইরানকে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষিয়ে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনা হচ্ছে বিষপান করার সমান। দেশটি আলোচনা করতে চায় দর কষাকষির স্বার্থে। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের শক্তিমত্তায় আঘাত দেয়া। তারা আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি মেনে নিয়ে কেউ আলোচনায় বসলে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..