ভারত সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে চীন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারত সীমান্তে চীনের বিপ্লবী বিমান বাহিনী তাদের কার্যক্রম ও শক্তি বৃদ্ধি করছে। ভারত সীমান্ত থেকে কাছে অবস্থিত মালান বিমান ঘাঁটি থেকে দেশটি ডিভাইন ইগল জেট বিমান পরিচালনা করছে। অপরদিকে আরেক বিমান ঘাঁটি হোপিং থেকে এইচ-৬কে বোম্বার বিমান উড়াতে দেখা গেছে। চীন ভারত থেকে একদম কাছে অবস্থিত এসব ঘাঁটি থেকে নিজের আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এক খবরে বলা হয়েছে, চীন এই দুই বিমানঘাঁটিতে ভয়ঙ্কর ডিভাইন ইগল জেট ও বোম্বার বিমান মোতায়েন করেছে। ডিভাইন ইগল জেট বিমানটি বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান হিসেবে খ্যাত। এটি লম্বায় ১৫ মিটার এবং ডানাগুলো লম্বায় প্রায় ৩৫-৪৫ মিটার। এটি মার্কিন এফ-২২ ও এফ-৩৫ এর মতো স্টিলথ বিমানগুলোকে শনাক্ত করতে সক্ষম। অপরদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের টুইন ইঞ্জিন মাঝারি পাল্লার বোম্বার বিমান টিইউ-১৬ এর একটি নতুন ভার্সন হচ্ছে চীনের এইচ-৬কে বোম্বার বিমান। তবে এটি এখন দূরপাল্লার বোম্বার হিসেবেও কাজ করে এবং যেকোনো যুদ্ধে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। তিব্বতের হোপিং বিমানঘাঁটিতে এই এইচ-৬কে বোম্বার দেখা গেছে। এটি ভারতের সিকিম সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া শিনজিয়াং প্রদেশের মালান ঘাঁটিতে ডিভাইন ইগল মোতায়েনও ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জি নিউজকে বলেছেন, ভারত সবসময়ই চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশই নিজের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করতে চায়। কিন্তু চীন যেভাবে তিব্বত ও শিনজিয়াং-এ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগের। ভারত ও চীনের মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্বের দীর্ঘ ইতিহাস। দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধও হয়েছে একবার। তবে নিকট ইতিহাসে চীন-ভারত সম্পর্ক কেবল উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৭ সালে ডোকলাম নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের উপক্রম হয় চীনের। সে উত্তেজনা কালক্রমে কমে এলেও চীন ভারত সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বন্ধ করেনি। চীনের সেনাবাহিনী গত দুই বছরে ভারত সীমান্তে অনেকগুলো নতুন সামরিক ক্যাম্প নির্মাণ করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ থেকে মাত্র ৯০০ কিলোমিটার দূরেই চীন গোপনে ইয়োশি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া নতুন তৈরি ঘাঁটিগুলোতে ভারতকে মাথায় রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চীন। এদিকে চীন গত ডিসেম্বরে আটক দুই কানাডীয়র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ দাখিল করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ১৫ মে একথা জানিয়েছে। এতে করে চীন এবং কানাডার মধ্যে বিরোধ আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে গতবছর প্রতারণা ও ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের সন্দেহে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চীন ওই দুই কানাডীয়কে আটক করেছিল। কানাডীয় মাইকেল কভরিগ একজন সাবেক কূটনীতিক এবং মাইকেল স্পাভর একজন ব্যবসায়ী। তাদেরকে ডিসেম্বরে আটক করে চীন। কভরিগের বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টদের হয়ে জাতীয় গোপন তথ্য চুরি এবং গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ আনা হয়েছে। মাইকেল স্পাভরের বিরুদ্ধেও বিদেশের হয়ে চুরি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাঙ নিয়মিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা বলেছেন। তবে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য এ গুপ্তচরবৃত্তি সে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় অভিযুক্ত দুইজনকে কোনো দেশের সরকার নাকি অন্য কোনো সংগঠনের হয়ে কাজ করার জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। দুই কানাডীয়কে চীনের অভিযুক্ত করার এ পদক্ষেপে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার ক্ষুব্ধ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ট্রুডো প্রাথমিকভাবে কভরিগ এবং স্পাভর আটকের নিন্দা জানিয়েছিলেন। এ পদক্ষেপকে ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিলেন তিনি। কভরিগ এবং স্পাভরের সমর্থকরাসহ বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞরা তখন বলেছিলেন, হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেং কানাডায় গ্রেপ্তার হওয়ার পাল্টা জবাবেই চীন এ দুই কানাডীয়কে আটক করেছে। কানাডীয় স্পাভর চীনের উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী শহর ড্যাংডংয়ে থাকেন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কভরিগ এবং স্পাভর দুইজনকেই ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..