বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহের রোড শোয়ের সময় খ্যাতনামা বাঙালি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে সেখানে। ভারতের জাতীয় নির্বাচনে শেষ দফা ভোটের আগে ১৩ মে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কলকাতায় জাঁকজমকপূর্ণ রোড শো করেন। রোড শোয়ের সময় তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বিদ্যাসাগর কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলে একদল লোক। যার প্রতিবাদে ১৪ মে রাজ্যের সর্বত্র সকল রাজনৈতিক দল সমূহের পৃথক পৃথক আহ্বানে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ মিছিলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের খ্যাতিমান মানুষেরা ওই প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। সুধি সমাজ থেকেও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রোড শো চলার সময় বিজেপি’র মিছিল থেকে বিদ্যাসাগর কলেজে হামলা চালিয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। কলেজের অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে তিনটি মোটরসাইকেল বাইরে টেনে এনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিজেপির পাল্টা দাবি, অমিত শাহের রোড শো ছিল শান্তিপূর্ণ। রোড শো কলেজ স্ট্রিট দিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদই প্রথমে অমিত শাহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং কালো পতাকা দেখায়। তৃণমূল কর্মীরা মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়ে বলেও অভিযোগ বিজেপি’র। তারপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় শুরু হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূলকর্মীরাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে এখন বিজেপির ওপর দায় চাপাচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেছে বিজেপি। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তৃণমূলের এক নেতা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন জানিয়ে বলেন, নিজের দাবির পক্ষে তিনি ভাঙচুরের কয়েকটি ভিডিও জমা দিয়েছেন। তৃণমূল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্টও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের প্রতিবাদে মিছিল করেছে। মূর্তি ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ অমিত শাহর বিরুদ্ধে জোড়াসাঁকো থানায় একটি মামলা করেছে। একই ঘটনায় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে। বিদ্যাসাগর কলেজের এক শিক্ষার্থী ওই মামলা করেছেন। পাশাপাশি ১৩ মে দুপুরে লেনিন সরণিতে রোড শোয়ের প্রস্তুুতি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কমিশন। মূর্তি ভাঙচুর এবং সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলেও জানান। বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুরের বীর সিং গ্রাম থেকেও মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ এবং জড়িতদের অবিলম্বে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম তথা শেষ পর্বে নির্দিষ্ট সময়ের ২০ ঘণ্টা আগে পশ্চিম বঙ্গে ৯টি আসনে প্রচার শেষ হয়ে গেল ১৬ মে রাত ১০টায়। এরাজ্যে শেষ দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে ১৯ মে। ফলে নিয়ম অনুসারে ১৭ সন্ধ্যা ৬টায় প্রচার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, গত কয়েকদিনে এরাজ্যে বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে শেষ দফার প্রচার ১৬ রাত ১০টাতেই শেষ করতে হয়েছে। প্রচারের শেষদিনে ১৬ মে সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতায় তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটের নির্বাচনী সভায় সিপিআই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য প্রকাশ কারাত বলেন– যখনই দেশে বিকল্প সরকার গড়ার প্রশ্ন উঠেছে তখনই অনিবার্যভাবে বামপন্থীরাই নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে নিজেদের তুলে ধরেছেন। এবারও তার অন্যথা হওয়ার নয়। উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী কনীনিকা বোস ঘোষের সমর্থনে মুটিয়া-মজদুর, দোকানকর্মী, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংশের খেটে খাওয়া মানুষের উপস্থিতিতে এদিন প্রকাশ কারাত বললেন, শেষ পর্বের ভোটের আগেই নরেন্দ্র মোদী ভরাডুবির আঁচ পেয়েছেন। উত্তর ভারতে বিজেপি’র পরাজয় নিশ্চিত। তাই উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানের ভোট প্রচার ছেড়ে এখন মোদী, অমিত শাহেরা বাংলায় ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী সভা করে চলেছেন। প্রকাশ কারাত বলেন, যে কোনও একটি সরকার গড়ার জন্য কেবল এই নির্বাচন নয়। ভারত আগামীদিনে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে নিজের অস্তিত্ব রাখতে পারবে কিনা সেই প্রশ্ন এবারের লোকসভা নির্বাচনে। এই জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু, পার্টিনেত্রী পারমিতা সেনরায় প্রমুখও। প্রচার শেষ আর ভোটের দিনের মধ্যে ব্যবধান দু’দিনের। প্রচার শেষেই এলাকা ধরে ধরে বামপন্থি ভোটারদের ভয় দেখানো, হুমকি দেয়া শুরু হয়েছে বলেও নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..