কাজ শেষে দেড় বছরেও হস্তান্তর হচ্ছে না ভবন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাগেরহাট সংবাদদাতা : প্রায় দেড় বছর আগে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও মাত্র ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুত বিলের কারণে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ১৫০ শয্যা ভবন হস্থান্তর হচ্ছে না। ফলে চালু হচ্ছে না বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল। স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত বিভাগের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার মানুষ। ফলে অনাকাঙ্খিত ভোগান্তি ও মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বাগেরহাট জেলার সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যা ভবনেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। পুরোদমে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আসবে। অনাকাঙ্খিত ভোগান্তি ও মৃত্যুর হার কমবে। প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্রস্থল সদর হাসপাতাল। ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৩ সালে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। ওই বছরের জুন মাসে ‘হেলথ পপুলেশন এ্যান্ড নিউট্রিশন সেন্টার ডেভেলপমেন্ট’ প্রজেক্টের আওতায় আধুনিক চিকিৎসা উপযোগী ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হাসপাতাল ভবনটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। এরই মধ্যে দুই বিভাগের মধ্যে কয়েক দফা চিঠি চালাচালিও হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকায় ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগ। এলাকাবাসী জানায়, নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রয়েছে ভবনটি। এটি চালু হলে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে জেলার বাইরে যেতে হবে না। দ্রুত এ ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ জি কে এম সামসুজ্জামান বলেন, ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকার কারণে ভবনটি বুঝে নিতে পারছি না। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভবন বুঝে নেয়ার আগের বিদ্যুত বিল স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিশোধের কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষে তাদের অস্থায়ী মিটারের বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেছে। সিভিল সার্জনের নামে মিটারে বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি পরস্পর সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান করে দ্রুত হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দ্রুত ভবনটি হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..